দেশান্তর গমন


দেশান্তর গমন  বিশ্বের অনেক জাতির মতো বাঙালিরাও নানা কারণে স্বদেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ, পার্শ্ববর্তী মহাদেশ, এমনকি দূরবর্তী পাশ্চাত্য দেশগুলিতে গিয়ে বসবাস করছে। বাঙালিদের দেশত্যাগী হবার ইতিবৃত্ত অনেক পুরানো। বাংলা থেকে বহু মানুষের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার নানাস্থানে চলে যাওয়ার অনেক ঘটনা অতীত ও মধ্যযুগে ঘটেছে, যদিও পুরানো আমলে এমন দেশত্যাগের কারণ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। সম্ভাব্য যেসব কারণ অনুমান করা যায় তার মধ্যে আছে ধর্মপ্রচারব্রত, সামাজিক ও ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে রেহাই, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য।

মুগল আমলের শেষদিকে এসে বাঙালিদের মধ্যে দেশত্যাগের প্রবণতা অনেক কমে আসে। নওয়াবি আমলে বাংলায় যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তুলনামূলকভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে তা বাঙালিদের স্বদেশে থেকে যাওয়াতেই অধিকতর উৎসাহিত করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশত্যাগ রীতিমতো গর্হিত কাজ বলেও বিবেচিত হতো। তবে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাঙালিরা বিদেশ ভ্রমণে অভ্যস্ত হতে শুরু করে এবং দেশত্যাগ বিষয়টি অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বিবেচনায় নতুন রূপ পরিগ্রহ করে। আধুনিক কালে বাঙালিদের দেশত্যাগ অভিবাসনের প্রচলিত আন্তর্জাতিক ধারার সঙ্গে খুব একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর সঙ্গে দুর্ভিক্ষ, ধর্মীয় নিপীড়ন বা ব্যবসায়িক শোষণ কোনোটিরই সম্পর্ক নেই।

ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতকে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সুবাদে পর্তুগাল, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, ডেনমার্ক ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে ভাগ্যান্বেষী প্রচুর লোক বাংলায় এসে ব্যবসা চালু করে। তাদের অনেকে বাংলার বিভিন্ন এলাকায় কুঠি প্রতিষ্ঠা করে। তাদের বাসস্থান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনেক বাঙালি কর্মচারী, শ্রমিক, গৃহপরিচারক, আয়া ইত্যাদি হিসেবে নিয়োগ পায়। একই সময়ে ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লব এবং ইউরোপের অন্যান্য শিল্প-বাণিজ্যের দ্রুত বিকাশের ফলে সেসব দেশে গৃহপরিচারক ও নিম্নমানের বহু কাজের জন্য লোকের ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয়রা, বিশেষ করে ব্রিটিশরা বাংলায় তাদের কর্মচারী, শ্রমিক, গৃহভৃত্যদের অনেককে নিজ দেশে নিয়ে যায়, যা থেকে শুরু হয় বিদেশিদের বাংলা থেকে লোক নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। বাংলার নবাব, ধনী জমিদার ও বিত্তবানদের মধ্যে যারা আয়েশে জীবন কাটানোর জন্য বিদেশে (মূলত ইংল্যান্ডে) স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন তাদের জন্যও সেবাকর্মী হিসেবে বাঙালিদের অনেকে প্রবাসী হয়ে পড়ে। ১৮০১ সালের ব্রিটিশ আদমশুমারি অনুযায়ী ইংল্যান্ডে বাঙালি আয়া ও গৃহভৃত্যের সংখ্যা ছিল ৫০,০০০। আয়াদের অনেকে আবার তাদের গৃহকর্তাদের সন্তানও জন্ম দিয়েছে। বাংলায় কর্মরত ব্রিটিশ সরকারি কর্মকর্তা, সেনা সদস্য, ব্যবসায়ী, নীলকুঠির মালিক ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলা থেকে এ ধারার অভিবাসন উনিশ শতকের শেষপর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে ইংল্যান্ডে বা ইউরোপ ছাড়াও বাংলার অনেকে অন্যরকমের অভিবাসনে অন্যত্র চলে যাবারও একটি ধারা সে সময়েই সৃষ্টি করেছিল। অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে ইংল্যান্ড সফরে যাবার পথে মির্জা আবু তালিব খান মালদ্বীপ, মরিশাস এবং সেন্ট হেলেনাতে অনেক বাঙালি নাবিককে স্থায়ী আবাস গড়ে বসবাস করতে দেখেন।

বাংলা থেকে অন্যত্র অভিবাসন উনিশ শতকের শেষের দিক থেকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেতে থাকে। ১৮৬০-এর পর থেকে এতদঞ্চলে ঘন ঘন দুর্ভিক্ষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার বাংলার উদ্বৃত্ত শ্রমিক বিশ্বের শ্রমিক-ঘাটতি এলাকায় স্থানান্তরের কথা ভাবতে শুরু করে। ১৮৭৪ সালে সরকার বাংলার ভূমিহীন কৃষকদের আসাম ও বার্মায় নিয়ে সেখানকার অকর্ষিত ভূমি আবাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। একই বছর লেফটেন্যান্ট গভর্নর রিচার্ড টেম্পল বার্মায় অভিবাসন পরিদপ্তর নামে একটি সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলা থেকে বার্মায় অভিবাসনে আগ্রহীদের জন্য বার্মায় বিনামূল্যে জমি বরাদ্দ, উচ্চ হারে মজুরি প্রদান এবং বার্মায় আসা-যাওয়ার ভাড়া প্রদানসহ নানারকম আকর্ষণীয় সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলা থেকে উপমহাদেশের বাইরে গমনেচ্ছু/গমনকারীদের জন্য একটি পৃথক পরিদপ্তর চালু করা হয়। ১৮৭৪ সালের এক হিসাব অনুযায়ী ঐ বছর বাংলার প্রায় ১০ হাজার কৃষিশ্রমিক সরকারের এ জাতীয় কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে বার্মা ও অন্যত্র অভিবাসন করে। ১৯২০ সালে বার্মায় বাঙালি অভিবাসীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লক্ষ। তবে অভিবাসীদের খুব কমসংখ্যকই শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য বার্মায় যায়। ১৮৯৫-এর বার্ষিক প্রশাসনিক প্রতিবেদন ১৮৭৪ থেকে পরবর্তী ২০ বছরে বার্মায় অভিবাসী শ্রমিকসংখ্যা মাত্র ১০ হাজার বলে উল্লেখ করেছিল।

সারণি ১  বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে অভিবাসন (১৯৮৬-২০১০) ।

দেশ ১৯৮৬ ১৯৯০ ১৯৯৫ ২০০০ ২০০৫ ২০০৮ ২০১০
সংযুক্ত আরব আমিরাত ৮৭৯০ ৮৩০৭ ১৪৬৮৬ ৩৪০৩৪ ৬১৯৭৮ ৪১৯৩৫৫ ২০৩৩০৮
কুয়েত ১০২৮৬ ৫৯৫৭ ১৭৪৯২ ৫৯৪ ৪৭০২৯ ৩১৯ ৪৮
সৌদি আরব ২৭৩৩৫ ৫৭৪৮৬ ৮৪০০৯ ১৪৪৬১৮ ৮০৪২৫ ১৩২১২৪ ৭০৬৯
বাহরাইন ২৫৯৭ ৪৫৬৩ ৩০০৪ ৪৬৩৭ ১০৭১৬ ১৩১৮২ ২১৮২৪
মালয়েশিয়া ৫৩০ ১৩৮৫ ৩৫১৭৪ ১৭২৩৭ ২৯১১ ১৩১৭৬২ ৯১৯
ওমান ৬২৫৫ ১৩৯৮০ ২০৯৪৯ ৫২৫৮ ৪৮২৭ ৫২৮৯৬ ৪২৬৪১
সিঙ্গাপুর ২৫ ৭৭৬ ৩৭৬২ ১১০৯৫ ৯৬৫১ ৫৬৫৮১ ৩৯০৫৩
অন্যান্য ২৩২২৬ ১১৩৬৪ ৮৪৬৭ ৫২১৩ ৩৩০৫১ ৬৮৮১৯ ৭৫৮৪০
মোট ৬৮৬৫৮ ১০৩৮১৪ ১৮৭৫৪৩ ২২২৬৮৬ ২৫২৭০২ ৮৭৫০৫৫ ৩৯০৭০২

সূত্র জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)।

ব্রিটেনের রাজকীয় আইন অনেক পরে তার উপনিবেশের লোকদেরকে ব্রিটেনে চাকরি করার বিশেষ অধিকার মঞ্জুর করে এবং এরপর ইংল্যান্ডের কয়েকটি ঔপনিবেশিক এলাকা, বিশেষ করে বাংলা থেকে চাকরির সন্ধানে ইংল্যান্ডে পাড়ি দেওয়া লোকের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। অভিবাসীদের অধিকাংশই নিয়োগ পেত লস্কর, ওয়েটার, ঝাড়ুদার, বাবুর্চি বা তার সহকারি, বিক্রয়কর্মী ইত্যাদি ধরনের সেবাখাত-কর্মী হিসেবে। তবে অভিবাসন বিষয়টি ব্যক্তিবিশেষের উদ্যোগ বা ইচ্ছা হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৫০-এর দিকে এসে পাশ্চাত্যের শিল্পোন্নত দেশসমূহ উন্নয়নশীল অনেক দেশ থেকে ব্যাপক পরিমাণে শ্রমিক সংগ্রহ শুরু করে। এর ফলে অভিবাসন ক্রিয়াটি শ্রমিকদের নিজ উদ্যোগ বা ইচ্ছার চেয়ে অনেক বেশিমাত্রায় বিদেশে প্রেরণের ব্যবসায়ে নিয়োজিত জনশক্তি বাছাই-বিষয়ক এজেন্সিসমূহের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া শুরু হয়। বাঙালিরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে এ জাতীয় পরিবর্তনের সুবিধা নিতে কিছুটা বিলম্বেই এগিয়ে আসার সুযোগ পায়। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং সে সময় থেকেই বাংলাদেশে জনশক্তি রপ্তানি কাজে নিয়োজিত সংস্থা ক্রমাগতভাবে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। জনশক্তি রপ্তানি সরকারিভাবে বেকার সমস্যার চাপ হ্রাসের একটি পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনও সরকারের একটি নীতিতে রূপান্তরিত হয়। ১৯৭৬ সালে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক-কর্মজীবীরা দেশে ৭৬ কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করেন। বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের উৎস হিসেবে পাট ও পাটজাত দ্রব্যাদি রপ্তানির পরই জনশক্তি রপ্তানি দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী চাকরির সন্ধানে বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গমনকারী লোকের সংখ্যা ১৯৭৫ সালে ছিল মাত্র ৭৬৫ জন, আর পরবর্তী বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৬,০৮৭। এরপর কাজের জন্য বিদেশযাত্রী লোকের সংখ্যা ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ক্রমাগতই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশ্বমন্দাসহ নানা কারণে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়ায় পরবর্তী দুই বছরে এ ক্ষেত্রে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকগণ ১৯৮০ সালে দেশে ৪৯২.৯৫ কোটি টাকা সমমূল্যের ডলার পাঠান এবং ব্যবসায়ীদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণ ২০১০ সালে টাকার মূল্যে ৬৯৩৫৯.৬৭ কোটিতে উন্নীত হয়। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের যত লোক বিদেশে কর্মরত ছিল তাদের প্রায় ৬৫% অদক্ষ বা আধা-দক্ষ শ্রমিক, ৬% নির্মাণ শ্রমিক, ৬% গাড়িচালক, ৮% টেকনিশিয়ান, ৫% ক্যাটারিং শ্রমিক এবং ১০% প্রকৌশলি, চিকিৎসক, শিক্ষক ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী। ২০১০ সাল নাগাদ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি জনশক্তির কাঠামোতে নিরঙ্কুশ ও আনুপাতিক উভয় বিচারেই শ্রমিকদের অংশ অনেক বৃদ্ধি পায়। এ সময় বিদেশে অভিবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে মাত্র ২.৫৪ শতাংশ ছিলেন বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী, ৩০.২৪ শতাংশ দক্ষ শ্রমিক, ১৪.৫৯ শতাংশ আধা-দক্ষ শ্রমিক আর ৫২.৬৩ শতাংশ অদক্ষ শ্রমিক (সারণি ২)।

সারণি ২ চাকরির জন্য বিদেশে গমনকারী বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতাভিত্তিক বিভাজন (১৯৭৬-২০১০)

বছর দক্ষতা অনুসারে বিদেশগামী কর্মীদের সংখ্যা মোট
পেশাজীবী দক্ষ শ্রমিক আধা-দক্ষ শ্রমিক অদক্ষ শ্রমিক
১৯৭৬ ৫৬৮ ১,৭৭৫ ৫৪৩ ৩,২০১ ৬,০৮৭
১৯৮০ ১,৯৮৩ ১২,২০৯ ২,৩৪৩ ১৩,৫৩৮ ৩০,০৭৩
১৯৮৫ ২,৫৬৮ ২৮,২২৫ ১,৮২৩ ৩৯,০৭৮ ৭৭,৬৯৪
১৯৯০ ৬,০০৪ ৩,৫৬১ ২০,৭৯২ ৪১,৪০৫ ১০৩,৮১৪
১৯৯৫ ৬,৩৫২ ৫৯,৯০৭ ৩২,০৫৫ ৮৯,২২৯ ১৮৭,৫৪৩
২০০০ ১০,৬৬৯ ৯৯,৬০৬ ২৬,৪৬১ ৮৫,৯৫০ ২২২,৬৮৬
২০০৫ ১,৯৪৫ ১১৩,৬৫৫ ২৪,৫৪৬ ১১২,৫৫৬ ২৫২,৭০২
২০১০ ৩৮৭ ৯০,৬২১ ১২,৪৬৯ ২৭৯,৬৭৩ ৩৮৩,১৫০
মোট ১৮০,৬৮০ ২,১৫১,১২৫ ১,০৩৮,১৩৭ ৩,৭৪৪,৪৬৮ ৭,১১৪,৪১০
শতকরা হার ০২.৫৪ ৩০.২৪ ১৪.৫৯ ৫২.৬৩

সূত্র জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)।

বিদেশে কাজের সুযোগ বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতির সংকট নিরসনে একটি আংশিক সমাধানের পথ করে দিয়েছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এতে দেশে নতুন ধরনের ব্যবসার বিকাশ ঘটছে, প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজ ও দ্রুততর হচ্ছে এবং জনগণের সমাজ ও জীবনদর্শনে মধ্যে দেখা দিচ্ছে   আধুনিকতা ও পরিপক্কতা।  [সিরাজুল ইসলাম]