দুর্যোগ গবেষণা প্রশিণ ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ


দুর্যোগ গবেষণা প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (Disaster Research Training and Management Centre)  ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের (বর্তমান ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি গবেষনা কেন্দ্র। দুর্যোগ তদারকি এবং এ সম্পর্কে গবেষণা, পরিকল্পনা এবং প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ভান্ডার গড়ে তোলা; সমন্বিত ও বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা; দুর্যোগের নানা বিষয়ের ওপর স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং এজন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ইত্যাদি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রটি গঠিত হয়। সর্বোপরি জ্ঞান প্রসারণ ও জনগণকে দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে নানাবিধ প্রকাশনাও এ কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়নকৃত একটি স্ব-শাসিত গবেষণা কেন্দ্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি গবেষণা কেন্দ্রের মধ্যে এটি অন্যতম।

দুর্যোগ গবেষণা প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের ২১ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন্দ্রটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডীন মহোদয়গণ; ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান; ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের একাডেমিক কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত ৯ জন শিক্ষক; ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের পরিচালক; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের একজন নির্বাচিত শিক্ষক; স্পারসোর চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো-এর মহাপরিচালকবৃন্দ প্রমুখ। এছাড়া কেন্দ্রে একজন গবেষণা কর্মকর্তা ও একজন খন্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর কর্মরত রয়েছে।

দুর্যোগ গবেষণা প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এ পর্যন্ত ৬টি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং ৫টি গবেষণা প্রকল্প চলমান রয়েছে। কেন্দ্রটি বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো এবং বিভিন্ন  এনজিও-র সঙ্গে যৌথ বা দলগত উদ্যোগে দুর্যোগ ও দুর্যোগ মোকাবেলা সংক্রান্ত গবেষণা, সেমিনার-সিম্পোজিয়া আয়োজন, প্রশিক্ষণ, প্রচারণা ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কেন্দ্রের নিজস্ব প্রকাশনা হিসেবে ‘দুর্যোগ বার্তা’ নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে ইংরেজি জার্নাল প্রকাশের পরিকল্পনাও কেন্দ্রের রয়েছে। [মাসুদ হাসান চৌধুরী]