দাস কুন্ডু, হরগোপাল


দাস কুন্ডু', 'হরগোপাল (?)  রংপুরের একজন জমিদার ও লেখক। উনিশ শতকের মধ্যভাগে তাঁর পিতা কালীনাথ দাস কুন্ডু রংপুরে জমিদারি ক্রয় করে মাহিগঞ্জে বসতি স্থাপন করেন। হরগোপাল পেশাগত সূত্রে একজন জমিদার হলেও তিনি লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত। তাঁর লিখিত প্রবন্ধগুলি হলো ১. ‘করতোয়া’ (রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকায় ১৩১৩ বঙ্গাব্দের ১ম ভাগ, ১ম-২য় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়)। পরবর্তী সময়ে প্রবন্ধটি পুন্ড্রবর্ধন ও করতোয়া  নামে গ্রন্থাকারে ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়। ১. শেরপুরের ইতিহাস, (গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হওয়ার আগে এটি ১৩১৭ সনে রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকার ৫ম খন্ডে প্রকাশিত হয়), ২. ভবানীপুরের ইতিহাস, ৩. পল্লীকাহিনী।

প্রাচীন পুঁথির পান্ডুলিপির সংগ্রহে হরগোপাল দাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির মধ্যে রয়েছে ১. অদ্ভূতাচার্যের রামায়ণ আদ্যখন্ড, ২. জামিনী ভারত, ৩. জগত জীবনের বিষহরি পদ্মপুরাণ, ৪. কালুগাজীর পুঁথি, ৫. নলদয়মন্তী উপাখ্যান, ৬. মুসলমান পুঁথি, ৭. চন্ডিকা বিজয় প্রভৃতি। এছাড়াও তিনি বগুড়া অঞ্চলের বেশ কয়েকজন কবির বিভিন্ন সময়ে লেখা ১২টি কবিতার পান্ডুলিপি সংগ্রহ করেন। সেগুলির মধ্যে ১. গঙ্গা স্নানের কবিতা, ২. করতোয়া স্নানের কবিতা, ৩. ফকির মজনুর কবিতা, ৪. মিলন (রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে) উল্লেখযোগ্য। কবিতাগুলি ১৯০৬ সালের ১২ জুলাই রংপুর টাউন হলে রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদের প্রথম বার্ষিক সভায় পাঠ করা হয়।

হরগোপাল দাস রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদের (১৯০৫) একজন সংগঠক। রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকার প্রথম সহকারী সম্পাদক ছাড়াও রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ মিউজিয়ামের অন্যতম সংগঠক। ফারসিসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় তাঁর ব্যুৎপত্তি ছিল।  [মুহম্মদ মনিরুজ্জামান]