দাস, সুবল: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
[[Category:Banglapedia]]
[[Category:Banglapedia]]
'''দাস'''''', ''''''সুবল''' (১৯২৭-২০০৫)  সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক। জন্ম ১৯২৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। পিতা রশিকলাল দাস, মাতা কামিনী দাস।
'''দাস, সুবল''' (১৯২৭-২০০৫)  সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক। জন্ম ১৯২৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরে। পিতা রশিকলাল দাস, মাতা কামিনী দাস।


পারিবারিক আবহে সুবল দাসের সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান এবং ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁর কাছে সেতারে তালিম নেন। সঙ্গীতবিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করে তিনি সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন। প্রধানত ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তিনি বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর সৃষ্ট সুরে অসংখ্য গান বেতার ও টেলিভিশনের কণ্ঠশিল্পীরা পরিবেশন করে থাকেন।
পারিবারিক আবহে সুবল দাসের সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান এবং ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁর কাছে সেতারে তালিম নেন। সঙ্গীতবিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করে তিনি সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন। প্রধানত ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তিনি বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর সৃষ্ট সুরে অসংখ্য গান বেতার ও টেলিভিশনের কণ্ঠশিল্পীরা পরিবেশন করে থাকেন।
৮ নং লাইন: ৮ নং লাইন:
সুবল দাসের সৃষ্ট সুরে গান গেয়ে অনেক শিল্পী জনপ্রিয় ও খ্যাতি অর্জন করেন। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি গানের উল্লেখ করা যেতে পারে। রুনা লায়লার কণ্ঠে-গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে কি হবে, জীবন আধারে পেয়েছি তোমারে, এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেওনা, শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব, যখন থামবে কোলাহল ঘুমে নিঝুম চারিদিক, যখন আমি থাকব নাকো আমায় রেখ মনে, পান খাইয়া ঠোঁট লাল করিলাম, মাহমুদুন্নবীর কণ্ঠে- তুমি যে আমার কবিতা/আমার ব্যথার রাগিনী, আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে যেন সৈকতে পড়ে আছি, ও মেয়ের নাম দেব কি ভাবি শুধু তাই, সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে- সন্ধ্যায় ছায়া নামে এলোমেলো হাওয়া/ভালো লাগে জীবনের এই গান গাওয়া, আব্দুল হাদির কণ্ঠে- এই পৃথিবীর পান্থশালায় গাইতে গেলে গান, চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে, তোমাদের সুখের এই নীড়ে আমাকে খোঁজ না বন্ধু, আব্দুল জববারের কণ্ঠে- শত্রু তুমি বন্ধু তুমি/তুমি আমার সাধনা, ও আবিদা সুলতানার কণ্ঠে গাওয়া-একি বাঁধনে বলো জড়ালে আমায় প্রভৃতি গান সুবল দাসের সৃষ্ট সুরে বাঁধা। সুরের অসাধারণত্বে এ গানগুলি সমকালীন চলচ্চিত্রে এবং সাধারণের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সুরকার হিসেবে সুবল দাসের এ কৃতিত্ব তাঁকে অমরতা দান করেছে।
সুবল দাসের সৃষ্ট সুরে গান গেয়ে অনেক শিল্পী জনপ্রিয় ও খ্যাতি অর্জন করেন। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি গানের উল্লেখ করা যেতে পারে। রুনা লায়লার কণ্ঠে-গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে কি হবে, জীবন আধারে পেয়েছি তোমারে, এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেওনা, শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব, যখন থামবে কোলাহল ঘুমে নিঝুম চারিদিক, যখন আমি থাকব নাকো আমায় রেখ মনে, পান খাইয়া ঠোঁট লাল করিলাম, মাহমুদুন্নবীর কণ্ঠে- তুমি যে আমার কবিতা/আমার ব্যথার রাগিনী, আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে যেন সৈকতে পড়ে আছি, ও মেয়ের নাম দেব কি ভাবি শুধু তাই, সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে- সন্ধ্যায় ছায়া নামে এলোমেলো হাওয়া/ভালো লাগে জীবনের এই গান গাওয়া, আব্দুল হাদির কণ্ঠে- এই পৃথিবীর পান্থশালায় গাইতে গেলে গান, চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে, তোমাদের সুখের এই নীড়ে আমাকে খোঁজ না বন্ধু, আব্দুল জববারের কণ্ঠে- শত্রু তুমি বন্ধু তুমি/তুমি আমার সাধনা, ও আবিদা সুলতানার কণ্ঠে গাওয়া-একি বাঁধনে বলো জড়ালে আমায় প্রভৃতি গান সুবল দাসের সৃষ্ট সুরে বাঁধা। সুরের অসাধারণত্বে এ গানগুলি সমকালীন চলচ্চিত্রে এবং সাধারণের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সুরকার হিসেবে সুবল দাসের এ কৃতিত্ব তাঁকে অমরতা দান করেছে।


২০০৫ সালের ১৬ আগস্ট সুবল দাসের মৃত্যু হয়।
২০০৫ সালের ১৬ আগস্ট সুবল দাসের মৃত্যু হয়। [খালিদ হাসান কমল]
 
[খালিদ হাসান কমল]
 
<!-- imported from file: দাস, সুবল.html-->
 
[[en:Das, Subal]]


[[en:Das, Subal]]
[[en:Das, Subal]]

০৫:০৩, ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

দাস, সুবল (১৯২৭-২০০৫)  সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক। জন্ম ১৯২৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরে। পিতা রশিকলাল দাস, মাতা কামিনী দাস।

পারিবারিক আবহে সুবল দাসের সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান এবং ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁর কাছে সেতারে তালিম নেন। সঙ্গীতবিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করে তিনি সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন। প্রধানত ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তিনি বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর সৃষ্ট সুরে অসংখ্য গান বেতার ও টেলিভিশনের কণ্ঠশিল্পীরা পরিবেশন করে থাকেন।

ষাটের দশকে ‘আকাশ আর মাটি’ ছায়াছবিতে পরিবেশিত মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া ‘তবে কি আমার নেই কোন ঠাঁই’ গানে সুর সৃষ্টি করে সুবল দাস বিপুল প্রশংসা লাভ করেন। তিনি স্বরলিপি, দর্পচূর্ণ, পুত্রবধূ, ভাঙ্গাগড়া প্রভৃতি চলচ্চিত্র এবং আধুনিক গানের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

সুবল দাসের সৃষ্ট সুরে গান গেয়ে অনেক শিল্পী জনপ্রিয় ও খ্যাতি অর্জন করেন। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি গানের উল্লেখ করা যেতে পারে। রুনা লায়লার কণ্ঠে-গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে কি হবে, জীবন আধারে পেয়েছি তোমারে, এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেওনা, শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব, যখন থামবে কোলাহল ঘুমে নিঝুম চারিদিক, যখন আমি থাকব নাকো আমায় রেখ মনে, পান খাইয়া ঠোঁট লাল করিলাম, মাহমুদুন্নবীর কণ্ঠে- তুমি যে আমার কবিতা/আমার ব্যথার রাগিনী, আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে যেন সৈকতে পড়ে আছি, ও মেয়ের নাম দেব কি ভাবি শুধু তাই, সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে- সন্ধ্যায় ছায়া নামে এলোমেলো হাওয়া/ভালো লাগে জীবনের এই গান গাওয়া, আব্দুল হাদির কণ্ঠে- এই পৃথিবীর পান্থশালায় গাইতে গেলে গান, চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে, তোমাদের সুখের এই নীড়ে আমাকে খোঁজ না বন্ধু, আব্দুল জববারের কণ্ঠে- শত্রু তুমি বন্ধু তুমি/তুমি আমার সাধনা, ও আবিদা সুলতানার কণ্ঠে গাওয়া-একি বাঁধনে বলো জড়ালে আমায় প্রভৃতি গান সুবল দাসের সৃষ্ট সুরে বাঁধা। সুরের অসাধারণত্বে এ গানগুলি সমকালীন চলচ্চিত্রে এবং সাধারণের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সুরকার হিসেবে সুবল দাসের এ কৃতিত্ব তাঁকে অমরতা দান করেছে।

২০০৫ সালের ১৬ আগস্ট সুবল দাসের মৃত্যু হয়। [খালিদ হাসান কমল]