দানাশস্য


দানাশস্য (Cereal)  পুষ্টিকর, শর্করাসমৃদ্ধ খাদ্যের জন্য উৎপন্ন তৃণজাতীয় উদ্ভিদ। দানাশস্য বলতে প্রধানত ধান, গম, ভুট্টা, যব, জোয়ার ইত্যাদি বোঝায়। দানাশস্যে থাকে প্রায় ৭৫% শ্বেতসার ও প্রায় ১০% প্রোটিন এবং কিছু আনুষঙ্গিক স্নেহ পদার্থ ও অাঁশ। বিশ্বের মোট উৎপন্ন দানাশস্যের পরিমাণ ২০০ কোটি মে টনের বেশি। এগুলির একটা বড় অংশই ধনী দেশগুলিতে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়।

বাংলাদেশের মাটি ও  জলবায়ু কয়েক ধরনের দানাশস্যের উপযোগী। এগুলি মুখ্য ও গৌণ ফসল হিসেবে শ্রেণিভুক্ত। ধান ও গম মুখ্য ফসল এবং ভুট্টা, জোয়ার, যব, বজরা, চীনা ও কাউন গৌণ দানা ফসল। বাংলাদেশে ফসলি জমির প্রায় ৭৫% ধানক্ষেত। আউশ, আমন ও বোরো হিসেবে ধান সারাবছরই ফলে। গমের চাষ রবিশস্য হিসেবে শীতকালে হয়। কাউন ও চীনা ফলে একক বা মিশ্র চাষে। ভুট্টার চাষও হয় একইভাবে।

সারণি  বাংলাদেশে ২০০৫-০৬ সালে দানাশস্যের চাষাধীন জমি ও উৎপন্ন ফসলের পরিমাণ

শস্যের নাম জমি (একর) উৎপন্ন শস্য (মে টন)
ধান (আউশ, আমন, বোরো) ২৬,১৮,০০০ ১৮৮,৬১,৯৬০     
গম ১১,৮৩,৭২৩  ৭,৩৫,৪৬২
ভুট্টা ২,৪৩,০০০ ৫,২২,০০০
জোয়ার ১,০০০ ১,০০০
যব ২,০০০ ১,০০০
কাউন ও অন্যান্য ৪৪,০০০ ১২,০০০

উৎস  কৃষি পরিসংখ্যান, ২০০৭।

দানাশস্য, বিশেষত ধান ও অংশত গম বাংলাদেশে শ্বেতসার খাদ্যের প্রধান উৎস। মোট উৎপাদন অবশ্য দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যসংস্থানের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই খাদ্যঘাটতি মিটাতে প্রতি বছর বাড়তি খাদ্য আমদানি করতে হয়। ১৯৯২-৯৩ সালে ৯,৫৫,০৫৯ মে টন গম ও ২০,৭৩০ মে টন চাল আমদানি করতে হয়েছিল। এখনও প্রচুর পরিমাণ চাল ও গম খাদ্যঘাটতি মিটাতে প্রতি বছর বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বন্যা বা খরার জন্য ফসলহানির দরুন প্রায়ই বাংলাদেশে শস্য উৎপাদন হ্রাস পায়। বর্তমানে দানাশস্যের উৎপাদন, বিশেষ করে ধানের উৎপাদন  বহুলাংশে বেড়েছে।  [এস.এম হুমায়ুন কবির]

আরও দেখুন গম; ধান; ভুট্টা