তরিকাহ-ই-মুহম্মদিয়া


তরিকাহ-ই-মুহম্মদিয়া ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে সংঘটিত মুসলিম পুনর্জাগরণী আন্দোলন। মহানবী মুহাম্মাদ (সঃ)-এর প্রদর্শিত পথ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এ আন্দোলনের লক্ষ্য। এ আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন শাহ ইসমাইল (রঃ) (১৭৮২-১৮৩১ খ্রি.) এবং রায় বেরিলীর শাহ সৈয়দ আহমদ (১৭৮০-১৮৩১ খ্রি.)। তাঁরা উভয়েই পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা ও মহানবী (সঃ)-এর সুন্নাহর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তরিকাহ--মুহম্মদিয়ার অনুসারীরা সুফিবাদের সমর্থক ছিলেন এবং সুচিন্তা ও সঠিক পথের জন্য একজন আধ্যাত্মিক পথ প্রদর্শকের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

উত্তর ভারত থেকে শুরু করে তরিকাহ-ই-মুহম্মদিয়া আন্দোলন ঊনিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকের দিকে বাংলায় পৌঁছে। যখন ১৮২০ সালে সৈয়দ আহমদ কলকাতা আসেন, তখন প্রায় দশ হাজার অনুসারী তাঁর চারপার্শ্বে সমবেত হন। পরের বছর মক্কা যাওয়ার পথে তিনি পুনরায় কলকাতায় আসেন এবং এখানে ৩ মাস অবস্থানকালীন সময়ে তিনি তাঁর মতবাদ সাফল্যের সাথে প্রচার করেন। সময় কৃষক এবং ধর্মীয় নেতা সায়্যিদ নিসার আলী, ওরফে তিতুমীর (মৃত্যু ১৮৩১ খ্রি.) তাঁর শিষ্য হন। গ্রামীণ এলাকায় ‘তরিকাহ-ই-মুহম্মদিয়া’ প্রচার এবং ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিরোধে তিতুমীরকে অনুসরণ করেন পাটনার আলী ভ্রাতৃদ্বয় বেলায়েত আলী (১৭৯১-১৮৩৫) ও এনায়েত আলী (১৭৯৪-১৮৫৮)। তাঁদের ব্রিটিশ-বিরোধী কর্মকান্ড বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় ব্যাপকভাবে পরিচালিত হয়, যেমন মালদা, চবিবশ পরগনা, যশোর, ফরিদপুর, রাজশাহী এবং বগুড়া। তাঁরা ’ফিরিঙ্গি রাজ’-এর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন এবং জনগণকে এ যুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেন।

সৈয়দ আহমদের নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে যেখানে জিহাদ পূর্ণ উদ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল সেখানে অর্থ পাঠানোর জন্য অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে স্থানীয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু ঊনিশ শতকের মাঝামাঝিতে অবস্থা বদলে যায়। কয়েকজন মুসলমান চিন্তাবিদ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ সম্পর্কে পুনরায় চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন। ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি বিকল্প ধারণা নিয়ে জৌনপুরের মওলানা কেরামত আলী (রঃ) এগিয়ে আসেন।  [মঞ্জুর আহসান]