ডোমার উপজেলা


ডোমার উপজেলা (নীলফামারী জেলা)  আয়তন: ২৫০.৮৪ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৬°০২´ থেকে ২৬°১৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৪৬´ থেকে ৮৮°৫৪´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে নীলফামারী সদর উপজেলা, পূর্বে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা, পশ্চিমে দেবীগঞ্জ উপজেলা।

জনসংখ্যা ২১৫৬৯৯; পুরুষ ১১০৩৫৫, মহিলা ১০৫৩৪৪। মুসলিম ১৭৩৭১৬, হিন্দু ৪১৮৫২, বৌদ্ধ ৩১ এবং অন্যান্য ১০০।

জলাশয় প্রধান নদী: যমুনেশ্বরী, বুড়ি তিস্তা, দেওনাই।

প্রশাসন ডোমার থানা গঠিত হয় ১৮৭৫ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৪ সালে।

উপজেলা
পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
১০ ৪৭ ৪৭ ৩৬৯৩৩ ১৭৮৭৬৬ ৮৬০ ৫০.৭ ৪৩.৪
পৌরসভা
আয়তন (বর্গ কিমি) ওয়ার্ড মহল্ললা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
৯.৪২ ১২ ১৬৬২৬ ১৭৬৫ ৫৮.০
পৌরসভার বাইরে উপজেলা শহর
আয়তন (বর্গ কিমি) মৌজা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
২১.৪৮ ২০৩০৭ ৯৪৫ ৪৪.২
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন(একর) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার(%)
পুরুষ মহিলা
কেতকীবাড়ী ৭৬ ৪৬৯৫ ৭৮১২ ৭২৪৬ ৪৩.৪৩
গোমনাতি ৪৭ ৭০৫৪ ১০৬৯৪ ১০৭২৫ ৪৫.০৭
জোড়াবাড়ী ৬৬ ৫৭৭৩ ১০০২৪ ৩৮১৮ ৪৫.৪৫
ডোমার ৩৮ ৫২৩৮ ৮৪৯৯ ৮০১৭ ৪২.৫৫
পাঙ্গা মটুকপুর ৮৫ ৬০৩৪ ৯৮০৭ ৯১৩১ ৩৮.৭৪
বামুনিয়া ১৭ ৪৮০৯ ৬৯১৭ ৬৭২৬ ৪১.১৬
বোড়াগাড়ি ২৮ ৭৪৭১ ১২৭৮৮ ১২০০৬ ৪৪.৫৩
ভোগদাবাড়ি ১৯ ৯০৪৬ ১৬২১৩ ১৫৩০০ ৫১.৪৬
সোনারায় ৯৫ ৭০৫৭ ১১৬২৮ ১১২৬৫ ৪১.০৪
হরিণচড়া ৫৭ ৪৮০৭ ৭৩৬১ ৭০৯৬ ৪০.১৯

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

DomarUpazila.jpg

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ ময়নামতির দূর্গ (হরিণচড়া), শাহ কলন্দরের মাযার (সোনারায়)।

ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ১৯২১ সালে ব্রিটিশ সরকার এবং জোতদার জমিদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত সাধারণ কৃষকেরা ডোমারকে স্বাধীন স্টেট ঘোষণা করে। ১৯৪২ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই এ উপজেলায় কৃষকসভার প্রাদেশিক সম্মেলন অনূষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু, কৃষক নেতা মনসুর হাবিবুল্লাহ, নৃপেন চক্রবর্তী প্রমুখ যোগ দেন। ১৯৪৬-৪৭ সালে এ অঞ্চলে ব্যাপক আকারে তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত হয়। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষভাগে ডোমারের সব শ্রেণীর মানুষ ৬৩ টি রাইফেল এবং নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সৈয়দপুর পাকসেনা-ক্যাম্প আক্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং দারওয়ানী থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ২০০, মন্দির ৫০, মাযার ৭।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪৪.৭%; পুরুষ ৫০.৮%, মহিলা ৩৮.৩%। কলেজ ৫, কারিগরি কলেজ ৪, কৃষি কলেজ ১, মাধ্যমিক স্কুল ৪৪, ভকেশনাল স্কুল ৩, মাদ্রাসা ১৪। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৯)।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্লাব ১৭, লাইব্রেরি ২, সিনেমা হল ৪, নাট্যমঞ্চ ১, মহিলা সংগঠন ১, নাট্যদল ১, সাংস্কৃতিক সংগঠন ২।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬৮.০৪%, অকৃষি শ্রমিক ৪.৬৯%, শিল্প ০.৩৮%, ব্যবসা ১২.৩৮%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৩.৭৮%, চাকরি ৪.২৮%, নির্মাণ ০.৯৭%, ধর্মীয় সেবা ০.২৫%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.১৯% এবং অন্যান্য ৫.০৪%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫১.১৯%, ভূমিহীন ৪৮.৮১%। শহরে ৪২.১৩% এবং গ্রামে ৫৩.১৫% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, তামাক, আলু, হলুদ, মরিচ, সবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি নীল, ভাদই ধান, আউশ ধান।

প্রধান ফল-ফলাদি  আম, কাঁঠাল, জাম, কলা, লিচু।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ২২০ কিমি, কাঁচারাস্তা ২৮৫ কিমি; রেলপথ ২৫ কিমি; রেলস্টেশন ৩; বাসস্ট্যান্ড ২।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন গরুর গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা ধানকল, তেলকল, বরফকল, করাতকল ইত্যাদি।

কুটিরশিল্প বাঁশশিল্প, কাঁসাশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, কাঠের কাজ ইত্যাদি।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ২৫, মেলা ১। বসুনিয়া, আমবাড়ি  বোড়াগাড়ি হাট উলেল্লখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য   পাট, আদা, পিঁয়াজ, টমেটো, আলু, সুপারি।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিলবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ৮.৮৫% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ  এ উপজেলায় মোটা দানার বালু (ডোমার স্যান্ড) পাওয়া যায়।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৮০.৪২%, পুকুর ০.৫৫%, ট্যাপ ০.৩১% এবং অন্যান্য ১৮.৭২%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৯.৭৩% (গ্রামে ৭.০৪% ও শহরে ২২.১৯%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ২৬.৯৯% (গ্রামে ২৭.৯৯% ও শহরে ২২.৩৯%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৬৩.২৮% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, হাসপাতাল ১, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ১০, ক্লিনিক ১, কমিউনিটি ক্লিনিক ১০, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৮, প্যাথলজিক্যাল সেন্টার ১।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে ডোমার উপজেলায় বহুলোক প্রাণ হারায়।

এনজিও ব্র্যাক, আশা, প্রশিকা, পিসফুল বাংলাদেশ সোসাইটি।  [রিয়াসত করিম]

তথ্যসূত্র   আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; ডোমার উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।