ডাঁশ


ডাঁশ

ডাঁশ (Gnat)  Diptera বর্গের Nematocera উপবর্গভুক্ত এক ধরনের হালকা গড়নের, দুটি ডানাবিশিষ্ট মাছি। ডাঁশের মুখোপাঙ্গ ছিদ্রকরণ ও চোষণ উপযোগী। অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ লোমের মতো শুঙ্গ এবং লম্বা পায়ের জন্য এদের অন্যান্য মাছি থেকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা যায়। পুরুষ ডাঁশের শুঙ্গ সাধারণত অধিকতর বিকশিত। পুরুষ ডাঁশ ঝাঁকে উড়ে এবং সাধারণত বিকেলে মাটির কয়েক ফুট উঁচুতে ওঠা-নামার ভঙ্গিতে নাচে। লার্ভা মুক্তজীবী, অধিকাংশই উদ্ভিদভোজী, পা-হীন, মাথার ক্যাপসুল সুগঠিত এবং মুখোপাঙ্গ দংশনক্ষম।

বাংলাদেশে Cecidomyiidae গোত্রভুক্ত দুই প্রজাতির ডাঁশ আছে, যা gal gnats বা gall midges নামে পরিচিত। দুই প্রজাতির একটির (Lasioptera falcata) লার্ভা লাউয়ের ডগায় ও দ্বিতীয়টির (Pachydiplosis oryzae) লার্ভা ধানগাছের পাতায় গুটি বাঁধে। Mycetophilidae গোত্রের ১১টি গণের অন্তর্ভুক্ত ১৮ প্রজাতি সাধারণত ছত্রাক ন্যাট (fungus gnat) হিসেবে পরিচিত। এগুলির মধ্যে আছে Allactoneura cincta, লার্ভা ছত্রাকভুক (সিলেট); Dilophus gratiosus, লার্ভা পচনশীল কাঠ ও ছত্রাকভোজী (সিলেট) এবং Isoneuromyia annandalei, লার্ভা ছত্রাকভুক (সিলেট); Leia arcuata, লার্ভা পচনশীল কাঠভুক (ময়মনসিংহ); Leptomorphus ornatus, লার্ভা ছত্রাকভুক (সিলেট); Macrocera ornata, লার্ভা ছত্রাকভুক (দিনাজপুর); Mycomya ferruginae, লার্ভা পচা কাঠ ও ছত্রাকভুক (রংপুর); Platyura ruficornis, লার্ভা ছত্রাকভুক (সিলেট); P. venusta, ছত্রাকভোজী (চট্টগ্রাম); এবং ছত্রাকভুক Pleciomyia melanapsis, Rhymosia annulicornis, R. humeralis (যথাক্রমে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট); ছত্রাকভোজী Sciara diversipes S. fluvescens (যথাক্রমে দিনাজপুর ও রাজশাহী); বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলায় আছে S. inconspicua, লার্ভা পচা  শাকসবজি খায়; S. orientalis, লার্ভা ছত্রাকভোজী (দিনাজপুর) এবং S. rufithorax, লার্ভা উদ্ভিদভোজী (রাজশাহী)।  [হুমায়ুন রেজা খান]

আরও দেখুন মশা; মাছি