টেইলর, উইলিয়ম


টেইলর, উইলিয়ম  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সিভিল সার্ভেন্ট। ১৮৫৭ সালে তিনি ছিলেন পাটনার কমিশনার। তারপর শাস্তিমূলক পদাবনতি দিয়ে তাঁকে ময়মনসিংহের সিভিল ও সেশন জজ নিযুক্ত করা হয়। এর কিছুদিন পর পদত্যাগ করে তিনি আইন ব্যবসা শুরু করেন।

থার্টি এইট ইয়ার্স ইন ইন্ডিয়া (Thirty Eight years in India) নামে তিনি দুখন্ডে একটি আত্মজীবনী লিখেন যা ১৮৮২ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। প্রথম খন্ডে র‌্যানডম নোটস বাই অ্যান এক্সাইল ডিউরিং হিজ ব্যানিশমেন্ট (Random Notes by an Exile During His Banishment) শিরোনামে আলাদা একটি রচনা আছে যা থেকে উনিশ শতকে বাংলাদেশের একটি অঞ্চলের সামাজিক অবস্থা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ পরবর্তী সময়ে টেইলর দেশীয়, বিশেষ করে পাটনার মুসলমানদের সঙ্গে নির্দয় ব্যবহার করেছিলেন। টেইলর লিখেছেন, তিনি নির্দয় ব্যবহার করেন নি। তাঁর দায়িত্ব ছিল সাম্রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করা। তিনি তাই করেছেন। এ যুক্তিতে বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর হ্যালিডে সন্তুষ্ট হন নি। তিনি টেইলরের পদাবনতি ঘটিয়ে তাঁকে ও.এস.ডি করেন এবং ময়মনসিংহের সিভিল ও সেশন জজ হিসেবে নিযুক্তি দেন। টেইলর লিখেছেন, আমার জন্যে বাছা হলো, পাটনা থেকে ছয়শো মাইল দূরে পূর্ববঙ্গের কোণায় এক নিঃসঙ্গ স্থান, জায়গাটির নাম ময়মনসিংহ।

র‌্যানডম নোটস-এ পাটনা থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথের বিবরণ পাওয়া যায়। এ পথ পেরুতে টেইলরের লেগেছিল দ’ুসপ্তাহ। ময়মনসিংহে ইংরেজ সিভিলিয়ানদের জীবনযাপন, তাদের সমাজ, সামাজিক সংস্কার, কৃষি ও কৃষিপণ্য, ঋতু সম্পর্কে জানা যায় টেইলরের ‘র‌্যানডম নোটস’ থেকে। টেইলর লিখেছেন যে, বসন্ত রোগের তুলনায় ভারতে কলেরা রোগটি নতুন। বসন্তের দেবী শীতলাকে তুষ্ট করার জন্য স্থানীয় জনগণ দেবীর প্রতিকৃতি সম্বলিত মাদুলি ধারণ করত। তবে, দেবী শীতলাকে সন্তুষ্ট করার প্রথা তার কাছে বীভৎস মনে হয়েছে। রোগীর মুখের বসন্তের গুটি ও কালো খোসাগুলি সংগ্রহ করে সাধারণত কোনো চৌরাস্তার মোড়ে রেখে দেওয়া হতো। টেইলর লিখেছেন, এতো চমৎকারভাবে রোগ ছড়াবার পরিকল্পনা বা এরচেয়ে পাগলামি কল্পনা করা শক্ত।

ময়মনসিংহে মেয়েদের ব্যবহূত অলঙ্কার সম্পর্কে টেইলর বলেন যে, ওই অঞ্চলের অলঙ্কারের ফর্ম এসেছে প্রকৃতি থেকে এবং প্রাকৃতিক ফর্ম যখন মিশে যায় প্রচলিত ধারায় তখন তা হয়ে ওঠে উৎকৃষ্ট, কারণ তা-ই প্রকৃত রুচির সত্তা। বাঙালিদের সম্পর্কে টেইলর লিখেছেন যে, এ জাতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, এরা শান্ত ও নমনীয়।  [মুনতাসীর মামুন]