টুনটুনি


টুনটুনি (Tailorbird)  Sylviidae পরিবারের অর্ন্তগত Orthotomus গণের অর্ন্তভুক্ত টুনটুনি বাংলাদেশের অত্যন্ত সুপরিচিত একটি পাখি। ইহা জলপাই সবুজ বা হলদে সবুজ বর্ণের ক্ষুদ্রাকৃতির পোকা শিকারী পাখি। তবে শারীরিক ও স্বভাবগত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যাবলীর পার্থক্যের ভিত্তিতে তিনটি পৃথক পৃথক নামে এদের বর্ণনা করা হয়। এগুলো হলো কালাগলা টুনটুনি, পাহাড়ি টুনটুনি ও পাতি টুনটুনি। পৃথিবীতে ১৫ প্রজাতি থাকলেও বাংলাদেশে এর তিনটি প্রজাতি রযেছে।

কালাগলা টুনটুনি (Orthotomus atrogularis)  প্রাপ্ত বয়স্ক পাখির পিঠ জলপাই সবুজ; মাথার চাঁদি লালচে; ডানার বাঁক অপেক্ষাকৃত হলুদ; এবং গাল ধূসরাভ। ছেলেপাখির গলা ও ঘাড়ের পিছনটা লম্বা দাগসমেত কালচে এবং মেয়েপাখিতে কয়েকটি লম্বা দাগ নিয়ে ফিকে ধূসরাভ। এর বুক ও পেট সাদাটে; লেজতল-ঢাকনি হলুদ; চোখ কমলা-বাদামি; এবং পা ও পায়ের পাতা মেটে। এর দীর্ঘ সোজা ঠোঁট দুরঙের: উপরের ঠোঁট বাদামি ও নিচের ঠোঁট ফিকে মেটে-বাদামি। কালাগলা টুনটুনি সাধারণত প্রশস্ত পত্রবহুল চিরসবুজ বনের প্রান্তদেশ ও মধ্যস্থিত ঘন ক্ষুদ্র ঝোপ এবং বাঁশঝাড়ে বিচরণ করে; কর্মচঞ্চল, দিবাচর পাখি। খাদ্যতালিকায় রয়েছে ছোট পোকা ও লার্ভা। অভ্যাসবসত পিঠে লেজ উঠিয়ে জোরে ডাকে।কালাগলা টুনটুনি বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে পাওয়া যায়।

পাহাড়ি টুনটুনি (Orthotomus cuculatus)  প্রাপ্ত বয়স্ক পাখির পিঠ জলপাই-সবুজ; কপাল, ডানা ও লেজ লালচে; মাথার চাঁদির সামনের অংশ ছায়ার মতো তবে ঘাড়ের পিছনটা অপেক্ষাকৃত ধূসর; চোখের পিছনের খাটো ভ্রু-রেখা সাদা-হলদে; চোখের ডোরা কালচে; কান-ঢাকনি, গলা ও বুক ধূসর; এবং পেট ও লেজতল-ঢাকনি উজ্জ্বল হলুদ। এর চোখ বাদামি; পা ও পায়ের পাতা সামান্য বাদামি-মেটে; সোজা ঠোঁট দুরঙা: উপরের ঠোঁট কালো ও নিচের ঠোঁট কমলা গোড়াসহ শিঙ-রঙা। এর পরিষ্কার বৈশিষ্ট্য হলো পেট উজ্জ্বল হলদে। পাহাড়ি টুনটুনি একটি প্রাণবন্ত পাখি; মিশ্র ঝোপসহ চিরসবুজ বনের বৃক্ষতলে উৎপন্ন গুল্মলতা ও বাঁশে এরা বিচরণ করে। ঝোপঝাড়ে অতি ক্ষুদ্র পোকা শিকার করে ও প্রায়ই আকাশে ওড়ে পোকা-মাকড় ধরে। চট্টগ্রাম বিভাগের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে পাওয়া যায়।

পাতি টুনটুনি (Orthotomus sutorius)  পাতি টুনটুনি সাধারণত বনের ধার, ক্ষুদ্র ঝোপ, নিচু অঞ্চলের বাগান ও পাহাড়ের ১৮০০ মিটার পর্যন্ত উচুতে বিচরণ করে। জোড়া কিংবা পারিবারিক দলে গ্রাম, পতিত জমি, ঝোপ ও বনের ধারে খাবার খোঁজে। আম্রকুঞ্জে সর্বদা যাতায়াত করতে পছন্দ করে; পত্রগুচ্ছের আড়ালে থেকে পোকা শিকারের জন্য ডাল থেকে ডাল বিদ্ধ করে চলে। [সানজিদা মূর্শেদ]