টাকিজাতীয় মাছ


শোল মাছ
টাকি মাছ

টাকিজাতীয় মাছ (Snakehead fish)  Channiformes বর্গের Channidae গোত্রের স্বাদুপানির মাছ। প্রায়শ এদের Murrel বলা হয়। এদের মাথার গঠন অনেকটা সাপের মাথার মতো। মাছের শরীর লম্বাটে, কম-বেশি নলাকৃতি, পুরো পৃষ্ঠপাখনা ও পায়ুপাখনা নরম রশ্মিযুক্ত, মুখগহবর বড় এবং চোয়াল ও তালুতে দাঁত থাকে। মাথা খাদালো ও উপরে বড় বর্ম-অাঁশ। এদের দুটি অতিরিক্ত বায়ুশ্বসনকারী গলবিলীয় বায়ুগহবর থাকে। পুকুর, জলাভূমি, প্লাবনভূমি, বদ্ধজলাশয়, হ্রদ ও নদীর স্বাদুপানিতে এদের বাস। সকলেই মাংসাশী, খায় বিভিন্ন প্রকার জলজ প্রাণী, তবে ছোট মাছই বেশি পছন্দ। সুখাদ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও এরা ক্ষতিকর মাছ বলে অনাদৃত, কেননা প্রধানত বাঁচে দেশি মাছ খেয়ে। মাছগুলির বাসা বানানোর অত্যধিক প্রবণতা লক্ষণীয়। প্রজননকালে (প্রাক্-বর্ষা ও বর্ষায়) পাড়ের কাছে বা ১-১.৫ মিটার গভীর পানিতে ঘাস, লতাপাতা দিয়ে বাসা বানায়। স্ত্রী মাছ বাসায় ডিম পাড়ে আর পুরুষ মাছ সেগুলি নিষিক্ত করে। পোনা বের হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই বাসা পাহারা দেয়। পোনারা ঝাঁকে ঝাঁকে চলে। আর স্ত্রী ও পুরুষ মাছ ঝাঁকের নিচে বা সামনে থেকে ঝাঁক পরিচালনা করে। পোনারা পানির উপরে-নিচে অনবরত ডুব সাঁতার দেয়।

বাংলাদেশে ৫ প্রজাতির টাকিজাতীয় মাছ রয়েছে। এগুলির স্থানীয় নাম টাকি (Channa punctatus), শোল, (Channa striatus), গজার (Channa marulius), তিলাশোল (Channa barca), এবং চ্যাঙ (Channa orientalis)। এক সময় খানাখন্দ, বিল ও জলাশয়ে এসব মাছ প্রচুর সংখ্যায় পাওয়া গেলেও সম্প্রতি তেমন দেখা যায় না। এরা epizootic ক্ষত রোগপ্রবণ আর সংখ্যা হ্রাসের এটাই প্রধান কারণ।  [মোহাম্মদ আলী আজাদী]