ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়


ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়  জেলার অন্যতম প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঝিনাইদহ জেলা শহরের দক্ষিণ দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। ১৮৭৭ সালে তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এটি ছিল শহরের প্রাণকেন্দ্র বর্তমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে। এখানেই এইচ. ই (উচ্চ ইংরেজি) স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি তার পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয় ভুটিয়ারগাতি নিবাসী বিদ্যোৎসাহী জমিদার মোহাম্মদ আব্দুল কাদের মিয়া প্রথম বিদ্যালয়টি স্থাপনের জন্য জমি দান করেন। এ সময় এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক এইচ. ই স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং অত্র মহকুমার মানুষের কাছে ঝিনাইদহ মডেল হাইস্কুল রূপে পরিচিত হয়ে ওঠে।

উপমহাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকালে সাময়িকভাবে বিদ্যালয়টির বিকাশ রুদ্ধ হলেও তৎকালীন স্থানীয় মজুমদার গোষ্ঠীর লোকজন এবং অ্যাডভোকেট যতীন্দ্রনাথ রায়-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় স্কুলটি সে বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে ওঠে। এভাবে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টির ছাত্রসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় এবং জায়গা স্বল্পতার জন্য স্কুল গৃহের প্রসার ঘটানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় নতুন জায়গায় স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৬১ সালের শেষদিকে বিদ্যালয়টি স্থানীয় ফজর আলী দফাদার এবং মোবারক মন্ডল-সহ অন্য কয়েকজনের দানকৃত জমিতে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে পূর্বেই অবস্থিত নিউ একাডেমী বিদ্যালয়টিকে অন্যত্র স্থানান্তর করে এ বিদ্যালয়টিকে স্থাপন করা হয় এবং এ স্কুলের পুরাতন ভবনটি বালিকা বিদ্যালয়কে (বর্তমান ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়টি ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বোর্ডের অধীনে ছিল। এরপর ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বোর্ড এবং ১৯৬৪ সাল থেকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আছে। ১৯৬৮ সালের ১৫ নভেম্বর বিদ্যালয়টিকে সরকারিকরণ করা হয়।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি ৬.২৭ একর জমির উপর অবস্থিত। ২২ কক্ষবিশিষ্ট ১টি দ্বিতল একাডেমী ভবন, ১টি একতলা প্রশাসনিক ভবন, ১টি দ্বিতল ছাত্রাবাস এবং ২টি একতলা ডরমেটরি রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে রয়েছে প্রধান শিক্ষকের জন্য আলাদা বাসভবন। একাডেমী ভবনে রয়েছে ১৮টি শ্রেণিকক্ষ, ৪টি গবেষণাগার, ১টি গ্রন্থাগার এবং ১৫০ আসন বিশিষ্ট ১টি হলরুম।

বিদ্যালয়টিতে প্রভাতি এবং দিবা এদুটি শাখায় পাঠদান চলে। তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩টি দিবা শাখা রয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণিতে চালু আছে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ। বর্তমানে (২০১০) বিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা ৯৫০ এবং প্রধান শিক্ষক, ২ জন সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ মোট শিক্ষকশিক্ষিকার সংখ্যা ৪৯। পড়ালেখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে। [মো এবাদুল ইসলাম]