জাতীয় প্রশাসন পুনর্গঠন-সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি


জাতীয় প্রশাসন পুনর্গঠন-সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি  ১৯৮২ সালের প্রশাসনিক পুনর্গঠন/সংস্কার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গঠিত একটি স্থায়ী কমিটি। ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক রিয়ার এডমিরাল এম.এ খানকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটিতে আরও  ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, আইন ও আইন-সংস্কার মন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, কেবিনেট সচিব ও প্রধান  সামরিক আইন প্রশাসকের  মুখ্য স্টাফ অফিসার। কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের সচিবালয়ের কর্নেল স্টাফ (বাস্তবায়ন)। এ কমিটির বিচার্য বিষয় ছিল: (ক) যেসকল পর্যায়ে পুনর্গঠন নিষ্পন্ন হবে তা শনাক্ত করা; (খ) পুনর্গঠন পরিকল্পনার আওতায় প্রতিটি থানার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের যেসব কর্মকর্তা কর্মচারী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকবে তার ন্যূনতম সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ধারণ; (গ) সম্ভাব্য কৃষিসুবিধার ভিত্তিতে বিদ্যমান যে থানাগুলিতে উন্নয়নের কাজ প্রথম হাতে নেওয়া হবে তা শনাক্ত করা; (ঘ) ধাপে ধাপে  থানাগুলির উন্নয়ন, মহকুমা প্রশাসনের বিলোপ সাধন এবং জনবল ও সুযোগ সুবিধা যোগান সহ নতুন জেলা সৃষ্টির একটি সময়সূচি নির্ধারণ; (ঙ) সংস্থাপন বিভাগ এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগকে সময়সূচি অনুযায়ী জেলায় ও থানায় উপযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী নির্বাচন ও নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান; (চ) থানা ও জেলাসমূহের জন্য ভূমি, ভবন, রাস্তা ইত্যাদি সুবিধা দানের ক্ষেত্রে পূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার বিভাগকে প্রয়োজনীয় দিগনির্দেশনা প্রদান।

প্রয়োজনবোধে সদস্য কো-অপ্ট করার ক্ষমতা কমিটিকে দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য এ কমিটির পক্ষ থেকে প্রধান সামরিক আইন  প্রশাসক ও মন্ত্রিপরিষদকে সময়ে সময়ে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে  অবহিত রাখতে হতো। ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আরও  তিনজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে কমিটিতে কো-অপ্ট করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিন জন মন্ত্রী ও ২ জ্যেষ্ঠ বেসামরিক সচিবসহ ৫ জন সদস্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। আলোচ্য বিষয়গুলির বাস্তবায়ন বিবেচনার জন্য কমিটি কখন কখন অধিবেশনে বসবে তা জাতীয় পুনর্গঠন কমিটির বিচার্য বিষয়গুলিতে সুনির্দিষ্ট ছিল না। ১৯৮২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর  প্রথম সভা অনুষ্ঠানের সময় থেকে ১৯৮৫ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ে কমিটির ৩১টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৯৮৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত নৌবাহিনীর চীফ অব স্টাফ এ কমিটির সভাপতি ছিলেন। সামরিক সরকার একজন বেসামরিক ব্যক্তিকে  প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করার পর নৌবাহিনীর চীফ অব স্টাফের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী এ কমিটির সভাপতি হন।

কমিটিতে সরকারের অতি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্বের কারণে এটি কার্যত প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত প্রদানকারী একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্বাহী কমিটিতে পরিণত হয়। প্রশাসনিক পুনর্গঠনের বিষয়ে এটি ছিল একটি কেবিনেট সাব-কমিটির মতো যার গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বাতিল অথবা পরিমার্জন না করলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে বাস্তবায়ন করতে হতো। দুটি প্রধান বিষয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ কমিটি অগ্রাধিকার দিয়েছিল: প্রথমত, থানাগুলিকে উপজেলায় উন্নীত করা, এবং দ্বিতীয়ত পুরানো মহকুমাগুলিকে জেলায় উন্নীত করা ও কতিপয় নতুন জেলা সৃষ্টি। অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা নিরীক্ষা পরিচালনা ও সুপারিশ দানের জন্য এ কমিটি কয়েকটি কমিটি ও সাব-কমিটি গঠন করে। এভাবে জটিল ধরনের বিষয়গুলি পর্যালোচনার জন্য অন্যূন ১৬টি কমিটি/সাব-কমিটি গঠিত হয়েছিল।  [এ.এম.এম শওকত আলী]