ছন


ছন

ছন (Sungrass)  গুচ্ছাকারে বেড়ে ওঠা বহুবর্ষজীবী ঘাস Imperata cylindrica। এ উদ্ভিদ Poaceae (=Gramineae) গোত্রভুক্ত। পাতা বিভিন্ন আকারের, অত্যন্ত খাটো থেকে ১.৫ মি দীর্ঘ, খাড়া, সরু থেকে সরু লেন্সাকৃতির, পূর্ব গোলার্ধের উষ্ণ ও শীতপ্রধান অঞ্চল এবং শীতপ্রধান দক্ষিণ আমেরিকার অংশবিশেষে বিস্তৃত। জন্মানোর স্থান অনুযায়ী দু’ধরনের ছন ডিপোপারেইট (depauperate) ফর্ম ও সাভানা (savannah) ফর্ম বাংলাদেশের নিচু জলাশয়, জলাবদ্ধ এলাকা থেকে অনাবৃত শুষ্ক পাহাড়ে জন্মে। ক্ষুদ্র সরু কান্ডসহ (filiform culms) ছোট পাতা বিশিষ্ট ৭.৫-১০ সেমি উঁচু ডিপোপারেইট ফর্ম অবিরাম কর্তন বা গো-চারণ করা হয় এমন লন বা স্থানে জন্মানো হয়। প্রায় ১.৫ মি পর্যন্ত উচ্চতার মজবুত কান্ড (culms) ও প্রশস্ত পাতাবিশিষ্ট সাভানা ফর্ম সুদৃঢ় দলবদ্ধভাবে থাকে।

ছন রশি, মাদুর, ব্যাগ, ঝুড়ি, প্রভৃতি তৈরির জন্যও ব্যবহূত হয়। এটি মাটিকে ভালভাবে আটকে রাখে; শূকর রাইজোম খেয়ে থাকে; কচিপাতা উত্তম গোখাদ্য। এর মূলের নির্যাস (decoction of rootstock) ডায়রিয়া,  আমাশয় ও গনোরিয়ায় সেবনের পরামর্শ দেয়া হয়। বাংলাদেশে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বনজদ্রব্য এবং কোনো কোনো স্থানে এটি একটি অর্থকরী ফসলও। সাধারণত এটি অনাবৃত পাহাড়ে জন্মে। এ ঘাস বীজ ও মূল (root-stocks) দ্বারা দ্রুত ছড়ায়। বায়ুর মাধ্যমে নতুন নতুন পরিবেশে হালকা বীজের বিস্তার ঘটে। একবার প্রতিষ্ঠা পেলে এ ঘাস মূলের মাধ্যমে দ্রুত বংশবিস্তার করে। ঘরে ছাউনি দেয়ার জন্য শীতকালে একবছর বয়সী পাতা সংগ্রহ করা হয়। ছন উৎপাদনের জন্য ঘাস কাটার পর জমিতে আগুন জ্বালিয়ে জমিকে তৈরি করা হয়। আগুন জ্বালানোর ফলে জমি পরিষ্কার হয় যা মৌসুমের শুরুতে নতুন পত্রপল্লব গজাতে সাহায্য করে। জমি একবার এ ঘাসে ছেয়ে গেলে অন্য উদ্ভিদ জন্মানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত বর্ধনশীল ছায়া প্রদানকারী গুল্ম বা বৃক্ষের রোপণ এ আগাছা দমনে সহায়তা করে; দীর্ঘদিন ধরে ছায়ার নিচে থাকলে এ ঘাস মারা যায়।  [এম খায়রুল আলম]

আরও দেখুন গোলপাতা