চৌগাছা উপজেলা


চৌগাছা উপজেলা (যশোর জেলা)  আয়তন: ২৬৯.২০ কিমি। অবস্থান: ২৩°১০´ থেকে ২৩°২২´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫৪´ থেকে ৮৯°০৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) উপজেলা, দক্ষিণে শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, পূর্বে যশোর সদর ও কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) উপজেলা, পশ্চিমে মহেশপুর উপজেলা।

জনসংখ্যা ২১১০৬৫; পুরুষ ১০৯০৩৩, মহিলা ১০২০৩২। মুসলিম ১৯৩৯৫৫, হিন্দু ১৬৮৭২, বৌদ্ধ ৭২, খ্রিস্টান ১৬ এবং অন্যান্য ১৫০।

জলাশয় প্রধান নদ-নদী: কপোতাক্ষ, বেতনা ও ভৈরব এবং  মরজাত বাওড় উল্লেখযোগ্য।

প্রশাসন চৌগাছা থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।

উপজেলা
পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
১১ ১৫০ ১৫৯ ১৪৫৮৯ ১৯৬৪৭৬ ৭৮৪ ৫৫.০৫ ৪৩.০৮
উপজেলা শহর
আয়তন (বর্গ কিমি) মৌজা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
৭.৮৭ ১৪৫৮৯ ১৮৫৪ ৫৫.০৫
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (একর) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
চৌগাছা  ০৮ ৫০৩৬ ১১৯০৭ ১০৯১৬ ৪৮.৪৫
জগদীশপুর  ৩৪ ৪৯৫৪ ৭৮৭৫ ৭০৯৭ ৪৫.৪৭
ধুলিয়ানী  ১৭ ৩৫৯৭ ৬৫৮৪ ৬২৭২ ৪০.৮৬
নারায়ণপুর  ৫১ ৮২৭৭ ১১৪৪৬ ১০৫৯১ ৪৩.২২
পাতিবিলা  ৬৯ ৫১৫৬ ৮৩৭৩ ৭৯২৭ ৪০.২৬
পাশাপোল ৬০ ৬৪১৪ ৯৩৭৭ ৮৭৯৪ ৪২.৫৫
ফুলসরা ৭৭ ৬৭১৫ ১০৯৪২ ১০৩৯৯ ৪৯.৬৮
সিংহঝুলি ৮৬ ৩৪৫২ ৬৭৮৪ ৬৫৬৩ ৪৫.৬৭
সুখপুখুরিয়া  ৯৪ ৯২২১ ১২৯৭২ ১২১১৬ ৪১.৪৭
স্বরূপদহ  ৪৩ ৯৫১৪ ১৩০৩৮ ১২৪৫১ ৪২.৬৪
হাকিমপুর  ২৫ ৬৯৫১ ৯৭৩৫ ৮৯০৬ ৪১.৭৮

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

ChuagachaUpazila.jpg

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ কাঁদবিলা শিব মন্দির, গুয়াতলী শিব মন্দির, মাঠচাকলা জামে মসজিদ, নীলকুঠি।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর জামালতা, জগন্নাথপুর ও গরীবপুর মাঠে পাকসেনা ও মিত্র বাহিনীর মধ্যে প্রচন্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং এ যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা হতাহত হন। ১৯৭১ সালের ২৩ নভেম্বর এ উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়। এ উপজেলাকে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রবেশদ্বার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন স্মৃতিস্তম্ভ ২ (চৌগাছা ও মশিয়ুর নগর)।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ২৪৮, মন্দির ১৮, তীর্থস্থান ১।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪৩.৯২%, ৪৮.২৩; পুরুষ ৩৯.৩০%, মহিলা ১৭.৮%। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: চৌগাছা কলেজ (১৯৭২), সা’দাত পাইলট স্কুল (১৯২৮), চৌগাছা ছারা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (১৯৬২), নারায়ণপুর হাইস্কুল, চৌগাছা হাইস্কুল, সৈয়দপুর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা (১৯২২), চৌগাছা মাদ্রাসা (১৯৪০)।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্লাব ৪, লাইব্রেরি ১, সাহিত্য পরিষদ ১, নাট্যদল ১।

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তুলা উন্নয়ন কেন্দ্র (জগদীশপুর)।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৭২.৯৪%, অকৃষি শ্রমিক ২.৭০%, শিল্প ১.০০%, ব্যবসা ১০.৬৮%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ২.৭৩%, চাকরি ৩.৮৯%, নির্মাণ ০.৮৮%, ধর্মীয় সেবা ০.০৯%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৬৬% এবং অন্যান্য ৪.৪৩%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬৫.৪৫%, ভূমিহীন ৩৪.৫৫%। শহরে ৪৮.৯১% এবং গ্রামে ৬৬.১৬% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, আখ, তুলা, গম, আলু, ডাল, পিঁয়াজ, রসুন, টমেটো, শিম, পান, তিল ও শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি নীল, তিসি, অড়হর, মিষ্টি আলু, কাউন, চীনাবাদাম, ছোলা, খেসারি, ধনিয়া।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে।

মৎস্য, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার  এ উপজেলায় মৎস্য, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার, হ্যাচারি রয়েছে।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৪০ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ২০ কিমি, কাঁচারাস্তা ২৮৫ কিমি; নৌপথ ৭ নটিক্যাল মাইল।

বিলুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন  পাল্কি, ঘোড়া ও গরুর গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা চালকল, তেলকল, বরফকল, ইটের ভাটা প্রভৃতি।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, বাঁশ ও বেতের কাজ, কাঠের কাজ প্রভৃতি।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ৩৩, মেলা ১। উল্লেখযোগ্য হাট: চৌগাছা, পুড়াপাড়া, সলুয়া, সিংহঝুলি, রামকৃষ্ণপুর, বল্লভপুর, কাঁদবিলা, আন্দুলিয়া, পাশাপোল।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ২৫.২১% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৫.৯৫%, ট্যাপ ০.৬২%, পুকুর ০.২০% এবং অন্যান্য ৩.২৩%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ২৯.৪৮% (শহরে ৬৬.৪৮% এবং গ্রামে ২৭.৩২%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৪৪.২৩% (শহরে ২৯.৪২% এবং গ্রামে ৪৫.২৭%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ২৬.২৮% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ১১, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৩।

এনজিও ব্র্যাক, আশা।  [আব্দুল জলিল]

তথ্যসূত্র  আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১; চৌগাছা উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।