চক্রবর্তী, ত্রৈলোক্যনাথ


চক্রবর্তী, ত্রৈলোক্যনাথ (১৮৮৯-১৯৭০)  ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী রাজনীতিক ও লেখক। ময়মনসিংহের কাপাসিয়াটিয়ায় ১৮৮৯ সালে তাঁর জন্ম। মহারাজ নামেও তিনি পরিচিত। কৈশোরেই ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। স্কুলে অধ্যয়নকালে তিনি ১৯০৬ সালে অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন। বিপ্লবী কর্মকান্ডের জন্য ১৯০৮ সালে তিনি গ্রেফতার হন। ফলে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভ সম্ভব হয় নি। ১৯১২ সালে এক হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে যথার্থ প্রমাণের অভাবে পরে তিনি মুক্তি পান। এরপর দু’বছর ধরে রাজশাহী, কুমিল্লা ও মালদহে তিনি গোপন সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯১৪ সালে পুলিশ কলকাতায় তাঁকে গ্রেফতার করে এবং বরিশাল ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসেবে তাঁকে আন্দামানে নির্বাসনে পাঠানো হয়।

এক দশক নির্বাসনে কাটানোর পর মুক্তি পেয়ে তিনি কলকাতায় আসেন এবং সেখানে ‘জাতীয় স্কুল’ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯২৭ সালে পুনরায় তাঁকে গ্রেফতার করে ব্রহ্মদেশের মান্দালয় জেলে প্রেরণ করা হয়। ১৯২৮ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি হিন্দুস্থান রিপাবলিকান আর্মিতে যোগ দেন। ১৯২৯ সালে তিনি লাহোর কংগ্রেসে অংশ নেন। ১৯৩০-১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। ১৯৩৮ সালে মুক্তি লাভ করে তিনি রামগড় কংগ্রেসে অংশ নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের সময় ১৯৪২ সালে পুনরায় তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৪৬ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি নোয়াখালিতে সাংগঠনিক তৎপরতায় লিপ্ত হন। দেশ বিভাগের পর তিনি ঢাকায় প্রকাশ্য রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি হলে তার রাজনৈতিক এমনকি সামাজিক কার্যকলাপের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। বাধর্ক্যের শেষ দিনগুলো তিনি গ্রামের বাড়িতে প্রায় স্বেচ্ছা-নির্বাসনে কাটান। তিনি সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক দুটি গ্রন্থ জেলে ত্রিশ বছর  ও পাকভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম  রচনা করেন। তাঁর অপর গ্রন্থ গীতায় স্বরাজ। ১৯৭০ সালে চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় যান। জাতীয় সংবর্ধনার জন্য সেখান থেকে তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়। ওই  বছর ৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।  [মোঃ সেলিম]