ঘোড়ার গাড়ি


ঘোড়ার গাড়ি (Horse Carriage)  ঘোড়ায় টানা গাড়ি; টমটম নামেও সুপরিচিত। এক, দুই বা ততোধিক ঘোড়ায় টানা খোলা গাড়িকে টমটম নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তবে বিশেষভাবে এক ঘোড়ায় টানা গাড়িকে টাঙ্গা বলা হয়।

ঘোড়ার গাড়ি

ইংরেজ শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন শুরু হয়। ব্রিটিশদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি  কলকাতা থেকে প্রথম ঢাকার রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ি নামানোর ব্যবস্থা করা হয়। এদের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাঘাটের উন্নতি শুরু হয়  প্রথমে ইট-সুরকি, সিমেন্ট, পরে পিচে মোড়া। ইংরেজদের পাশাপাশি দেশিয়  জমিদার ও অভিজাত শ্রেণির লোকজনও ঘোড়ার গাড়িকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। বড় শহর থেকে ধীরে ধীরে মফস্বল শহরেও এর প্রচলন ঘটে।

গঠন বৈশিষ্ট্য ও নামের দিক থেকে ঘোড়ার গাড়ির অনেক রকমফের দেখা যায়। কোথাও দুই চাকার, আবার কোথাও চার চাকার; কখনও দু’দিকে রঙিন কাচের জানালাসহ আবৃত আসন, আবার কখনও খোলা আসনবিশিষ্ট। চাকাগুলি বৃহৎ আকৃতির ও কাঠের তৈরী হয়ে থাকে। ঢাকা শহরে এ গাড়ি টমটম নামে পরিচিত। কোথাও কোথাও এটি টাঙ্গা, জুড়িগাড়ি কিংবা এক্কা গাড়ি নামেও পরিচিত। এসব গাড়ির চালকদের কোচোয়ান বা সহিস বলা হয়।

আধুনিক যন্ত্রচালিত যানবাহনের ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়ার গাড়ির বিলুপ্তি সাধিত হয়েছে। পুরানো ঢাকার গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত অল্প কয়েকটি ঘোড়ার গাড়ি এখনও চলাচল করতে দেখা যায়। তবে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, নওগাঁ ও যশোর অঞ্চলের শহর ও গ্রামে এখনও মাঝে মধ্যে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে মালামাল ও যাত্রী পরিবহণ করতে দেখা যায়। বিশেষ কোনো উৎসব-দিবস বা অনুষ্ঠানে জাঁকজমকভাবে সাজানো সারি সারি ঘোড়ার গাড়ি এ যুগেও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।  [মেজবাহ্ উদ্দিন তুহিন]