গুল্ম


গুল্ম (Shrub)  বৃক্ষের চেয়ে আকারে ছোট, স্থায়ী কান্ডবিশিষ্ট দীর্ঘজীবী এবং গোড়ায় বা মাটির কাছ থেকে শাখায়িত গাছ। প্রাকৃতিক বন বা বসতি অঞ্চলের জমিতে গুল্মই ভূমির প্রধান আচ্ছাদন। এগুলির অধিকাংশই অত্যন্ত সহিষ্ণু ও সব ধরনের মাটিতে জন্মে। অনেকগুলি গুল্ম গুরুত্বপূর্ণ ফল ও ফুল যোগায়।

নীল-ঘণ্টা
কাঞ্চন
লালপাতা
রক্ত করবী

কাঞ্চন (Bauhinia alba), দাদমর্দন (Cassia alata), রঙ্গন (Ixora coccinia), রাধাচূড়া (Caesalpinia pulcherrima), টগর (Tabernaemontana divaricata) ও গোলাপ (Rosa species) সহজে দেখা উদ্যান উদ্ভিদ। নাগবল্লী (Mussenda species), কামিনী (Murraya paniculata), করবী (Nerum indicum), ফুরুস (Lagerstoroemia indica) ও নীল-ঘণ্টা (Thunbergia errecta), রোদপছন্দ এবং পাতাবাহার (Codiaeum species), মধুবাসক (Erianthemum species) ও কাঁঠালিচাঁপা (Artobotyris uncinatus) ছায়াপছন্দ গুল্ম। কাঁটামেন্দি (Duranta plumieri), নীলনিশিন্দা (Justicia gendarussa), কামিনী (Murraya paniculata) বাগানের সহজ লভ্য গুল্ম। বাগান, পার্ক ও সড়কদ্বীপের স্থায়ী বাহারি গাছপালার অধিকাংশই গুল্ম। Acalypha, Coleus, Polystacias, Manihot, লালপাতা (Euphorbia pulcherrima) ইত্যাদি বাহারি পাতার গুল্ম বাগানের শোভা বাড়ায়। বাংলাদেশের গাছগাছালির শতকরা প্রায় ১৪ ভাগই গুল্ম ও প্রায় সবগুলিই দ্বিবীজপত্রী। বন ও গ্রামাঞ্চলে সহজে চোখে পড়ে গুল্মজাতীয় একবীজপত্রী বেত, বাঁশ ইত্যাদি। বুনো ও পালিত ভেষজ গুল্মের মধ্যে রয়েছে ধাত্রীফুল (Woodfordia fruticosa), সর্পগন্ধা (Rauwolfia serpentina), শেফালি (Nyctanthes arbortristis), মেন্দি (Lowsonia inermis), দাদমর্দন (Cassia alata), আকন্দ (Calotropis species) ও বাসক (Adhatoda vasica)। [মোস্তাফা কামাল পাশা]