গুলে বকাওলী


গুলে বকাওলী  মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের একটি ধারা। সতেরো শতকের কবি  নওয়াজিস খান প্রথম গুলে বকাওলী  কাব্য রচনা করেন। রাজপুত্র তাজুলমুলকের সঙ্গে পরীকন্যা বকাওলীর প্রেম নিয়ে এর আখ্যান নির্মিত। কাহিনীতে দুঃসাহসিক অভিযাত্রাসহ নানা অলৌকিক ঘটনা আছে। মধ্য ভারত এ কাহিনীর উৎসভূমি। সেখানে ‘বকাওলী’ নামে এক প্রকার ফুল পাওয়া যায়।

১৬২৫ খ্রিস্টাব্দে উর্দুতে রচিত একখানি গুলে বকাওলী কাব্য স্প্রিংগারের ক্যাটালগে উল্লিখিত হয়েছে। ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে শেখ ইজ্জতুল্লাহ তাজুলমুলক গুলে বকাওলী নামে একখানি গ্রন্থ ফারসি গদ্যে রচনা করেন। তিনি ছিলেন বাঙালি। নওয়াজিস খান কোনো কিতাব অনুসরণে তাঁর কাব্য রচনা করেন তা জানা যায় না।

নওয়াজিস খানের পরে অনেকেই পদ্যে ও গদ্যে গুলে বকাওলী রচনা করেছেন। পদ্যে  মুহম্মদ মুকিম (১৭৬০-৭০), মুহম্মদ আলী, মুন্সি এবাদত আলী (১৮৪০), উমাচরণ মিত্র (১৮৪৩), আব্দুস শুকুর এবং গদ্যে বিজয়নাথ মুখোপাধ্যায় (১৯০৪) গুলে বকাওলী রচনা করেছেন। কেদারনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ১৮৭৮ সালে একটি নাটক রচনা করেন। এবাদত আলীর কাব্য  দোভাষী পুথি জাতীয়।

উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ-এর উদ্যোগে এ কাহিনী অবলম্বনে মুন্সি নেহালচাঁদ লাহোরি উর্দু গদ্যে মজহাবে ইশক (১৮০৩) এবং দয়াশঙ্কর নসিম পদ্যে মসনবি গুলজারে নসিম (১৮৩৫) রচনা করেন। রোমান্সমূলক প্রেমকাহিনী হিসেবে গুলে বকাওলী যে তখন খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলু এসব দৃষ্টান্তে তা প্রমাণিত হয়। নওয়াজিস খানের ওলে বকাওলী কাব্যগুণে উত্তম।  [ওয়াকিল আহমদ]