গিরা প্রতিস্থাপন


গিরা প্রতিস্থাপন (Joint Replacement, Artificial Joint, Arthroplasty)  নষ্ট হয়ে যাওয়া কোনো গিরা (joint) শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে কৃত্রিম জয়েন্ট দ্বারা পাল্টানোর আধুনিক ও উন্নতমানের কৌশল। আক্রান্ত  গিরায় ঔষধ ও ফিজিওথেরাপিতে লাঘবীয় নহে এমন তীব্র ব্যথা-বেদনা, চলনক্ষমতা ও দৃঢ়তার লুপ্তি এবং এর বক্রাবস্থা জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের ইঙ্গিতবাহক। ইনফেকশনে উপস্থিতিতে জয়েন্ট প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ। একটি সাফল্যজনক জয়েন্ট প্রতিস্থাপন আক্রান্ত গিরার ব্যথা-বেদনা লাঘব ও দৃঢ়তা পুনরুদ্ধার করে, জমে যাওয়া অবস্থার অবসান ঘটিয়ে এটিকে চলনক্ষম করে তোলে আর বক্রাবস্থার অবসান ঘটায়। যদিও মানব দেহের ছোট বড় অনেক জয়েন্ট বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম জয়েন্ট দ্বারা প্রতিস্থাপন সম্ভব, ১৯৭০ সালে যুক্তরাজ্যে স্যার জন চার্নলীর উদ্ভাবিত সম্পূর্ণ হিপ (Total Hip) আর ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইনসাল ও তার সঙ্গীদের উদ্ভাবিত সম্পূর্ণ হাটু (Total Knee) এ দুটোই সারাবিশেব আর্থোপেডিক সার্জন ও রোগীদের নিকট সমভাবে সমাদৃত হয়ে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। মানব দেহভ্যন্তরে ব্যবহারযোগ্য উন্নতমানের ধাতু ও শক্ত পলিইথাইলিন প্লাস্টিক নির্মিত কৃত্রিম জয়েন্ট প্রতিস্থাপনে সাধারণত বিশেষ ধরনের সিমেন্ট (polymethyl-methacrylate) ব্যবহূত হয় যদিও অধুনা সিমেন্টবিহীন প্রতিস্থাপনও সম্ভব হচ্ছে।

ব্যক্তিগত উদ‌্যােগে আশির দশকে ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক (সম্পূর্ণ হিপ) আর নববই দশকের প্রারম্ভে চেন্নাই হতে আগত ডা. এল প্রকাশ কর্তৃক ঢাকায় প্রাইভেট ক্লিনিকে কিছু জয়েন্ট প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। ১৯৯৪ সালে বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডা. এম.কে.আই কাইয়ুম চৌধুরীর যোগদানের মাধ্যমে বারডেম হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ চালু হলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে বারডেমই সর্বপ্রথম জয়েন্ট প্রতিস্থাপন শল্যচিকিৎসা চালু করে। সম্পূর্ণ হাটু প্রতিস্থাপনে বাংলাদেশী পাইওনিয়ার ও একটি সফল সিরিজ সম্পাদনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে Society of Surgeons of Bangladesh ডা. চৌধুরীকে প্রফেসর মোহম্মদ আসির উদ্দিন স্মৃতি স্বর্ণপদক প্রদান করে। পরবর্তীতে অন্যান্য হাসপাতালও এ প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। যন্ত্রপাতি ও কৃত্রিম জয়েন্টে উচ্চমূল্য, পারদর্শিতা অর্জনে সময়সাপেক্ষতা, কোনো নষ্ট হয়ে যাওয়া গিরা জীবনহাননিকর নহে বিধায় এবং অন্যান্য বিবিধ কারণে বাংলাদেশে গিরা প্রতিস্থাপন শল্যচিকিৎসা ধীরগতিতে জনপ্রিয় হচ্ছে এবং সমাজে এর সুফল ও গুরুত্ব বহির্বিশেবর ন্যায় ক্রমশ অনুধাবিত হচ্ছে।  [শামসুদ্দীন আহমেদ]