খান, এফ.এইচ


এফ.এইচ খান

খান, এফ.এইচ (১৯২৪-১৯৯১)  ভূতত্ত্ববিদ; তাঁর পুরো নাম ফাইয়াজ হোসেন খান, তবে এফ.এইচ খান নামেই অধিক পরিচিত। ১৯২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এফ.এইচ খান কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতায় মাদ্রাসায় পড়ালেখার পর তিনি  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ভূতত্ত্ব বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এফ.এইচ খান তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া একজন ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রীয় বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার্থে তিনি যুক্তরাজ্য গমন করেন। গাঠনিক (Structural) এবং বহিরাঙ্গণ ভূতত্ত্ব (Field Geology) বিষয়ক অভিসন্দর্ভের জন্য তিনি ১৯৪৯ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৫০ সালে পাকিস্তান ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরে একজন জ্যেষ্ঠ ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে যোগদান করেন।

ড. এফ.এইচ খানের অধিকাংশ গবেষণাকর্মই ছিল বাংলাদেশ সম্পর্কিত। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের মৌলিক ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র প্রণয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি এ অঞ্চলের বর্তমান কালের জ্ঞাত অধিকাংশ খনিজ সম্পদের অবস্থান, তাদের মূল্যায়ন এবং আহরণের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রভৃতি প্রস্ত্তত করেন যা ইংরেজ আমলে সম্পূর্ণ অবহেলিত ছিল। ভূতাত্ত্বিক জরিপ প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে শুরু করে পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনে সিনিয়র নির্বাহি, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ মিনারেল এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন-এর চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সরকারের খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর-এর সচিব পদে কর্মরত থাকাকালীন ড. খান এ বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মসমূহ সফলভাবে সম্পাদন করেন। কিছুকাল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের প্রথমদিকে ড. খান সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণ করেন। ১৯৭৬-৭৭ সালে ফাইয়াজ হোসেন খান বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রয়্যাল জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডন-এর একজন ফেলো ছিলেন।

বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ে ড. খান বহু সংখ্যক রিপোর্ট, প্রবন্ধ এবং গ্রন্থ রচনা করেন। ইংরেজি ভাষায় লিখিত ‘জিওলজি অব বাংলাদেশ’ (Geology of Bangladesh) তাঁর উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ। ১৯৯১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর খ্যাতনামা এ বিজ্ঞানীর কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।  [মোঃ মাহবুব মোর্শেদ]