খান, আতাউর রহমান


Nasirkhan (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ২২:২৭, ১৭ এপ্রিল ২০১৫ পর্যন্ত সংস্করণে (Text replacement - "\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]" to "[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]")

(পরিবর্তন) ←পুর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ→ (পরিবর্তন)
আতাউর রহমান খান

খান, আতাউর রহমান (১৯০৭-১৯৯১)  আইনজীবী ও রাজনীতিক। ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বালিয়া গ্রামে ১৯০৭ সালের ১ জুলাই তাঁর জন্ম। তিনি ঢাকার পগোজ স্কুল থেকে ১৯২৪ সালে ম্যাট্রিক, জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯২৭ সালে  এফ.এ  পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩০ সালে অর্থনীতিতে বি.এ (অনার্স) পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৬ সালে  বি.এল ডিগ্রি লাভ করে তিনি ১৯৩৭ সালে ঢাকা জেলাকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করেন। আতাউর রহমান ১৯৪২ সালে মুন্সেফ পদে চাকরি গ্রহণ করেন। কিন্তু দুবছর পর চাকরি ছেড়ে পুনরায় তিনি ওকালতি শুরু করেন (১৯৪৪)।

প্রজা সমিতিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে আতাউর রহমান খানের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ১৯৩৪-৩৫ সালে তিনি ঢাকা জেলা প্রজা সমিতির সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৪ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। তিনি দলের ঢাকা জেলা কমিটির সদস্য এবং মানিকগঞ্জ মহকুমা কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। আতাউর রহমান খান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে (১৯৪৯) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি এ দলের সহসভাপতি ছিলেন।

তিনি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের (৩০ জানুয়ারি ১৯৫২) সদস্য হিসেবে ভাষা আন্দোলন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরে ১৯৫২ সালের মার্চ মাসে পুনর্গঠিত কর্মপরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন।

আতাউর রহমান খান ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে গঠিত যুক্তফ্রন্টের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন (১৯৫৩-৫৫) এবং  যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী ছিলেন (১৯৫৪)। ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আতাউর রহমান খান যুগপৎ প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা (১৯৫৫-৫৬) এবং গণপরিষদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ছিলেন।

১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক শাসন জারির পূর্ব পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬০ সালে সামরিক সরকার কর্তৃক তাঁর উপর এবডো আইন প্রয়োগ করা হয়।  ১৯৬২ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রণ্টের (এন ডি এফ) অন্যতম নেতা হিসেবে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং ১৯৭০ সালে বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। আতাউর রহমান খান ১৯৬৯ সালে জাতীয় লীগ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আতাউর রহমান খান পাকবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হন এবং পাঁচ মাস কারাভোগের পর সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগে (বাকশাল) যোগ দেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন। বাকশাল বিলুপ্তির পর আতাউর রহমান ১৯৭৬ সালে জাতীয় লীগ পুনরুজ্জীবিত করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় লীগ সাত দলীয় জোটের শরীক দল হিসেবে জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে তিনি জেনারেল এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

আতাউর রহমান খান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ওজারতির দুই বছর (১৯৬৩), স্বৈরাচারের দশ বছর (১৯৬৯), প্রধানমন্ত্রীত্বের নয় মাস (১৯৮৭), অবরুদ্ধ নয় মাস (১৯৯০)। ১৯৯১ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]