খাঁ, ওস্তাদ এনায়েত


এনায়েত খাঁ

খাঁ, ওস্তাদ এনায়েত (১৮৯৪-১৯৩৮)  সেতার ও সুরবাহার শিল্পী। উত্তর প্রদেশের এটাওয়া শহরে তাঁর জন্ম। তিনি ছিলেন পিতা এমদাদ খাঁ প্রতিষ্ঠিত সেতার-সুরবাহার ঘরানার শিল্পী। তাঁর নিকটই এনায়েত খাঁর সঙ্গীতজীবনের শুরু।

এনায়েত খাঁর সঙ্গীতপ্রতিভা ছিল অসাধারণ। অল্প বয়সেই তিনি সঙ্গীতজগতে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।  সে সুবাদে মাত্র ২৮ বছর বয়সে ১৯২২ সালে তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর দরবারে সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি বীরেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীকে সঙ্গীতে তালিম দেন। এনায়েত খাঁ জন্মসূত্রে অবাঙালি হলেও তাঁর কর্মময় জীবন কাটে প্রধানত গৌরীপুরেই।

এনায়েত খাঁ ছিলেন সমকালীন শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত কলাকারদের অন্যতম। সঙ্গীতে তাঁর অসামান্য সাফল্যের কথা ছিল বহুবিস্তৃত। এজন্য তিনি বিভিন্ন জমিদারের নিকট থেকে সঙ্গীত পরিবেশনের আমন্ত্রণ পেতেন। গৌরীপুরে থেকেই তিনি ইন্দোর, বরোদা, ভূপাল, রামগোপালপুর, আগরতলাসহ বিভিন্ন এলাকার নবাব ও জমিদারের দরবারে গিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

এনায়েত খাঁ পিতার প্রতিষ্ঠিত সেতার-সুরবাহার ঘরানাকে বাংলা সঙ্গীতজগতে জনপ্রিয় করে তোলেন। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তিনিই প্রথম এমদাদ খাঁর ধারায় ঠুংরি অঙ্গে বাজনা যোজনা করেন। তিনি গৌরীপুর ও কলকাতায় এক বিশাল শিষ্যমন্ডলী গড়ে তোলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বীরেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, বিপিনচন্দ্র পাল, শ্রীনিবাস নাগ, বীরেন্দ্র মিত্র, জিতেন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, জ্যোতিষচন্দ্র চৌধুরী, বিমলাকান্ত রায়চৌধুরী, জ্ঞানদাকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী, ধ্রুবতারা যোশী, জন গোমেজ, অমিয়কান্ত ভট্টাচার্য, নীরদাকান্ত লাহিড়ী, মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রেণুকা সাহা প্রমুখ। তাঁরা এনায়েত খাঁর নিকট সেতার ও সুরবাহারে তালিম লাভ করেন।

সেতার ও সুরবাহার উভয় যন্ত্রেই এনায়েত খাঁর গ্রামোফোন রেকর্ড আছে। সেতারে আছে যোগিয়া, ভূপালী ও তিলক কামোদের  খেয়াল অঙ্গে গৎ এবং পিলু, খাম্বাজ ও ভৈরব রাগে ঠুমরি অঙ্গে গৎ; আর সুরবাহারে আছে বাগেশ্রী, মূলতান। বেহাগ ও ভৈরব রাগে আলাপ। সেতার-সুরবাহার ব্যতীত তিনি  ধ্রুপদ, খেয়াল ও ঠুমরিতেও দক্ষ ছিলেন।

এনায়েত খাঁ উত্তরাধিকারসূত্রে পিতার নিকট থেকে যে অসামান্য সঙ্গীতপ্রতিভা লাভ করেছিলেন, তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্যেও তার প্রতিফলন ঘটেছিল। তাঁর দু পুত্র বিলায়েত খান ও ইমরত খান এবং দৌহিত্র রইস খান উচ্চাঙ্গসঙ্গীতকে বিশেষ সমৃদ্ধি দান করেন।  [মোবারক হোসেন খান]