খঞ্জন


খঞ্জন (Wagtail)  লম্বালেজবিশিষ্ট, চড়ুই আকারের গায়ক পাখি। এদের বাইরের পালক সাদা। এরা বীজ, পোকামাকড়, ক্ষুদ্র শামুক, কেঁচো ইত্যাদি খায়। এসব পাখি দ্রুত হাঁটে ও দৌড়ায়, শিকার ধরতে ছুটে চলে। খঞ্জন সর্বক্ষণ লেজ নাড়ে, থাকে নদীনালার কাছে ও আর্দ্র তৃণভূমিতে। পুরুষ পাখি স্ত্রী পাখির তুলনায় উজ্জ্বল রঙের। একটু ভিন্ন ধরনের বনখঞ্জন (Dendronanthus indicus) বনে বাসা বাঁধে। এরা ঘাস ও শিকড় দিয়ে বাসা বানায়, তাতে চুল ও পালকের আস্তর থাকে। ডিম ৪-৬টি, রং হলুদ দাগসহ নীলচে-সাদা বা বাদামি।

পাকরা খঞ্জন
হলুদ খঞ্জন

গোটা পৃথিবীতে খঞ্জন প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২, বাংলাদেশে ৬, তন্মধ্যে একটি স্থায়ী, বাকিরা পরিযায়ী।

বাংলাদেশের খঞ্জন

পাকরা খঞ্জন, [Motacilla maderaspatensis White-browed Wagtail (Large Pied Wagtail)]: কালো ও সাদা পালকের বড় আকারের খঞ্জন, অনেকটা দোয়েলের মতো, কিন্তু ভ্রু সুস্পষ্ট সাদা রঙের। স্ত্রী পাখির রং ফ্যাকাশে ও বাদামি ধাঁচের। ছোট নদী ও পুকুরের ধারে জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সর্বত্র বিস্তৃত।

পরিযায়ী

বন খঞ্জন, [Dendronanthus indicus (Motacilla indica), Forest Wagtail]: পিঠ সবুজ-বাদামি। ডানা কালচে-বাদামি, তাতে হলুদ রঙের দুটি চওড়া ফোঁটা। লেজ গাঢ় বাদামি, কিনার সাদা। দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিন ও চিরসবুজ বনে বিস্তৃত।

Motacilla alba, White Wagtail: শীতকালে পালকের কালো পোঁচ কমে যায় বা লোপ পায়। নিচের অংশের মতো থুঁতনি ও গলা সাদা হয়ে ওঠে। স্ত্রী ও পুরুষ অভিন্ন। উন্মুক্ত তৃণভূমিতে বিক্ষিপ্ত দলে ঘুরে বেড়ায়, খাবার খোঁজে।সর্বত্র বিস্তৃত।

খঞ্জন, Motacilla cinerea, Grey Wagtail: প্রধানত ধূসর ও হলুদ রঙের পাখি। ছোট নদীর ধারে একা ঘুরে বেড়ায়। শীতকালে স্ত্রী ও পুরুষ দৃশ্যত অভিন্ন। গ্রীষ্মকালে পুরুষ পাখির চিবুক, গলা ও বুকের উপরের অংশ কালো রং ধারণ করে। সর্বত্র বিস্তৃত।

Motacilla citreola, Citrine Wagtail [Yellow- headed Wagtail]:  গ্রীষ্মকালে পুরুষ পাখির উজ্জ্বল হলুদ রঙের মাথা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। শীতকালে স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চাঁদি ও পিঠ কালচে-ধূসর, পেটের দিক হলুদ-সাদা। চওড়া হলুদ রঙের ভ্রুরেখা ও অল্পবিস্তর হলুদ কপালের কারণে অন্য খঞ্জন থেকে স্পষ্টতই পৃথক। জলাভূমিতে বিক্ষিপ্ত বা বড় দলে থাকে। সর্বত্র বিস্তৃত।

হলুদ খঞ্জন, Motacilla flava, Yellow Wagtail: ছোট লম্বাটে, লম্বা লেজ, পিঠ প্রধানত হলুদ বা জলপাই সবুজ, বুক-পেট হলুদ। জলাভূমি বা ক্ষেতজমিতে সর্বক্ষণ উপর-নিচ লেজ দুলিয়ে ছোটাছুটি করে। সর্বত্র বিস্তৃত। [মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম এবং শরীফ খান]