ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ


ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ (১৮৬৩-১৯২৭)  শিক্ষাবিদ, নাট্যকার। ১৮৬৩ সালের ১২ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার খড়দহে তাঁর জন্ম। তিনি বারাকপুর গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৮১), জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশন থেকে এফএ (১৮৮৩), মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন থেকে রসায়নে বিএ (১৮৮৮) এবং  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে একই বিষয়ে এমএ (১৮৮৯) পাস করেন। ১৮৯২-১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশনে অধ্যাপনা করেন।

ছোটবেলা থেকেই ক্ষীরোদপ্রসাদ সাহিত্যের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। মাত্র বাইশ বছর বয়সে তাঁর রাজনৈতিক সন্ন্যাসী (১৮৮৫) নামক একটি আখ্যায়িকা দু খন্ডে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে নাট্যজগতের প্রতি আকর্ষণবশত অধ্যাপনাবৃত্তি ত্যাগ করে তিনি নাটক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫৮। তিনি পৌরাণিক, ঐতিহাসিক,  অপেরা এবং প্রহসনধর্মী নাটক রচনা করেছেন। ১৮৯৯ সালে বভ্রুবাহন নাটক লিখে তিনি ‘বিদ্যাবিনোদ’ উপাধি লাভ করেন। তাঁর রঘুবীর (১৯০৩) একটি সফল রোমান্টিক নাটক এবং আলীবাবা (১৮৯৭) ও কিন্নরী (১৯১৮) দুটি জনপ্রিয় গীতিনাট্য। এর মধ্যে আলিবাবা প্রথম মঞ্চসফল নাটক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

ক্ষীরোদপ্রসাদ গদ্য ও অমিত্রাক্ষর  ছন্দ উভয় রীতিতেই নাটক রচনা করেন। অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত ফুলশয্যা (১৮৯৪) নামক প্রথম কাব্যনাটকে তাঁর উচ্চ কবিত্বশক্তির প্রকাশ ঘটে এবং নাটকটি সুধীমহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। তাঁর ঐতিহাসিক নাটকগুলির মধ্যে বঙ্গের প্রতাপাদিত্য (১৯০৩), পলাশীর প্রায়শ্চিত্ত (১৯০৬), নন্দকুমার (১৯০৮), আলমগীর (১৯২১) ইত্যাদি সমকালে দেশাত্মবোধ উদ্বোধনে সহায়তা করেছিল। তাঁর এরূপ দুটি নাটক প্রায়শ্চিত্ত ও নন্দকুমার ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে। ক্ষীরোদপ্রসাদের পৌরাণিক নাটকগুলির মধ্যে ভীষ্ম ও নরনারায়ণ দীর্ঘদিন রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হয়। নাটকের অন্তর্নিহিত যে দ্বন্দ্ব নাটককে সার্থক করে তোলে তা চমৎকারভাবে ক্ষীরোদপ্রসাদের নাট্যকর্মে ফুটে উঠেছে।

মঞ্চে উপবিষ্ট দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য ক্ষীরোদপ্রসাদ সুন্দর গান রচনা করতে পারতেন। নাটক ছাড়াও তিনি কয়েকটি  উপন্যাস ও  ছোটগল্প রচনা করেন এবং ভগবদ্গীতার বঙ্গানুবাদ (১৯০০) করেন। তিনি ১৯০৯ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত অলৌকিক রহস্য নামে একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯২৭ সালের ৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়।  [নাজমুল আহসান]