কোয়েল


কোয়েল

কোয়েল (Quail)  Galliformes বর্গের Phasianidae গোত্রের মুরগিজাতীয় ছোট আকারের পাখি। প্রজাতিভেদে এদের দৈর্ঘ্য হয় ১৫-২০ সেমি এবং ওজন হয় ১২০ থেকে ১৫০ গ্রাম। পৃথিবীতে প্রায় ১৮ প্রজাতির কোয়েল আছে। সবাই দেখতে অনেকটা মুরগির বাচ্চার মতো। সাধারণত হালকা ধূসর বর্ণের। কোনো কোনো প্রজাতির পেটের পালকে ডোরা দাগ অথবা ফোটা থাকে। কতক প্রজাতির পুরুষে দেহের দু’পাশে হালকা নীল রঙের আভা দেখা যায়। অনেকের গলার নিচে রিং-এর মতো সাদা রঙের দাগ থাকে। বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে ৪-৫টি কোয়েলের জাত আছে। এদের অধিকাংশই এখন গৃহপালিত এবং হাঁস-মুরগির মতো পাখি (bird) হিসেবে সুপরিচিত।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে কোয়েল পালন এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্থানীয় প্রজাতি Coturnix coromandelica এবং Turnix tanki ছাড়াও একটি জাপানী জাত Coturnix coturnix japonica এদেশের আবহাওয়ায় পালনের বিশেষ উপযোগী। কোয়েলের মাংস ও ডিম বেশ সুস্বাদু। শান্ত স্বভাবের কারণে এদের সহজেই পালন করা যায়। এ ছাড়া এদের লালন-পালনের জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না।

স্ত্রী কোয়েল বছরে ২০০ থেকে ২৫০টি ডিম দেয়; ডিমের ওজন হয় ৮ থেকে ১২ গ্রাম। গৃহপালিত প্রজাতিগুলি ডিমে তা দেয় না। তাই কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফোটাতে হয়। ডিম থেকে ১৭-১৮ দিনের মধ্যে বাচ্চা বের হয় এবং ৬-৭ সপ্তাহের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক হয় ও ডিম উৎপাদন শুরু করে। কোয়েল পালনের যেসব সুবিধে রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এদের রোগবালাই কম হয়, অল্প বয়সেই ডিম দিতে শুরু করে এবং অল্প জায়গায় অধিক সংখ্যক কোয়েল পালন করা সম্ভব।

বন্য অবস্থায় কোয়েল বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কদাচিৎ চোখে পড়ে। এদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের জীবন পদ্ধতি সম্বন্ধে খুব কমই জানা গেছে।  [এস.এম হুমায়ুন কবির]