কেঁচো: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

("কেঁচো (Earthworm) অ্যানিলিড পর্বের কেঁচো হল প্রকৃত খন্ডায়িত স..." দিয়ে পাতা তৈরি)
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
কেঁচো (Earthworm)  অ্যানিলিড পর্বের কেঁচো হল প্রকৃত খন্ডায়িত সিলোমেট অমেরুদÐী প্রাণী যা তিনটি আবাসস্থল, এপিজিক (স্যাঁতসেতে আবর্জনায়), এন্ডোজিক (মাটির নিচে) এবং অ্যানেসিক (মাটির গভীর গর্তে) বাস করে থাকে। তারা নিশাচর এবং এই কারণে লোকেরা দিনের বেলা তাদের দেখতে পায় না। কেঁচো নাম করা হয়েছে তাদের অদুষিত চাষের জমিতে পাওয়া যায় বলে। তারা মাটি থেকে সুড়ঙ্গ খননে জৈব আবর্জনা, মৃত প্রাণী, পোকামাকড়ের ডিম ইত্যাদি খায় এবং সুড়ঙ্গের মুখে মল ছেড়ে ‘কাস্টিং’ তৈরি করে। সুড়ঙ্গটি মাটির পৃষ্ঠ থেকে কয়েক সেন্টিমিটার থেকে তিন মিটার পর্যন্ত গভীর হতে পারে। এই জন্যে কেঁচোকে ‘প্রকৃতির-লাঙল' বলা হয় কারণ উপরের মাটির সাথে নিচের মাটি মিশ্রিত করে ‘মাটি-কন্ডিশনার' হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের সব নাতিশীতোষ্ণ থেকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় মাটিতে ৭০০০ প্রজাতির কেঁচো দেখা যায়। বাংলাদেশে এটি একটি ন্যূনতম গবেষণা হওয়া গোষ্ঠী, এখন পর্যন্ত ৩ পরিবারের অধীনে ৪২ প্রজাতি সনাক্ত করা হয়েছে। তারা হার্মাফ্রোডাইট, অর্থাৎ, প্রতিটি প্রাণী পুরুষ এবং মহিলা উভয় প্রজনন অঙ্গ বহন করে। তবে পরনিষেকের মাধ্যমে মিলনের পর একটি কোকুনে ডিম ছেড়ে দেওয়া হয়। কোকুন থেকে সরাসরি শিশু কেঁচো জন্ম নিয়ে বেরিয়ে আসে। বাংলাদেশে জীববিজ্ঞান এবং প্রাণিবিদ্যার ল্যাব ক্লাসে এগুলি বহুল ব্যবহৃত হয়। জীবন্ত বা কিমা করা কেঁচো মাছের টোপ এবং কখনও কখনও পশুখাদ্যের প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে মানসম্পন্ন অর্গানিক সার বা ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের জন্য কয়েকটি প্রজাতির কেঁচো ব্যবহার করা হচ্ছে।  [মো. নিয়ামুল নাসের]  
কেঁচো (Earthworm)  অ্যানিলিড পর্বের কেঁচো হল প্রকৃত খন্ডায়িত সিলোমেট অমেরুদণ্ডী প্রাণী যা তিনটি আবাসস্থল, এপিজিক (স্যাঁতসেতে আবর্জনায়), এন্ডোজিক (মাটির নিচে) এবং অ্যানেসিক (মাটির গভীর গর্তে) বাস করে থাকে। তারা নিশাচর এবং এই কারণে লোকেরা দিনের বেলা তাদের দেখতে পায় না। কেঁচো নাম করা হয়েছে তাদের অদুষিত চাষের জমিতে পাওয়া যায় বলে। তারা মাটি থেকে সুড়ঙ্গ খননে জৈব আবর্জনা, মৃত প্রাণী, পোকামাকড়ের ডিম ইত্যাদি খায় এবং সুড়ঙ্গের মুখে মল ছেড়ে ‘কাস্টিং’ তৈরি করে। সুড়ঙ্গটি মাটির পৃষ্ঠ থেকে কয়েক সেন্টিমিটার থেকে তিন মিটার পর্যন্ত গভীর হতে পারে। এই জন্যে কেঁচোকে ‘প্রকৃতির-লাঙল' বলা হয় কারণ উপরের মাটির সাথে নিচের মাটি মিশ্রিত করে ‘মাটি-কন্ডিশনার' হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের সব নাতিশীতোষ্ণ থেকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় মাটিতে ৭০০০ প্রজাতির কেঁচো দেখা যায়। বাংলাদেশে এটি একটি ন্যূনতম গবেষণা হওয়া গোষ্ঠী, এখন পর্যন্ত ৩ পরিবারের অধীনে ৪২ প্রজাতি সনাক্ত করা হয়েছে। তারা হার্মাফ্রোডাইট, অর্থাৎ, প্রতিটি প্রাণী পুরুষ এবং মহিলা উভয় প্রজনন অঙ্গ বহন করে। তবে পরনিষেকের মাধ্যমে মিলনের পর একটি কোকুনে ডিম ছেড়ে দেওয়া হয়। কোকুন থেকে সরাসরি শিশু কেঁচো জন্ম নিয়ে বেরিয়ে আসে। বাংলাদেশে জীববিজ্ঞান এবং প্রাণিবিদ্যার ল্যাব ক্লাসে এগুলি বহুল ব্যবহৃত হয়। জীবন্ত বা কিমা করা কেঁচো মাছের টোপ এবং কখনও কখনও পশুখাদ্যের প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে মানসম্পন্ন অর্গানিক সার বা ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের জন্য কয়েকটি প্রজাতির কেঁচো ব্যবহার করা হচ্ছে।  [মো. নিয়ামুল নাসের]  


[[en:Earthworm]]
[[en:Earthworm]]

১৬:৩১, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

কেঁচো (Earthworm) অ্যানিলিড পর্বের কেঁচো হল প্রকৃত খন্ডায়িত সিলোমেট অমেরুদণ্ডী প্রাণী যা তিনটি আবাসস্থল, এপিজিক (স্যাঁতসেতে আবর্জনায়), এন্ডোজিক (মাটির নিচে) এবং অ্যানেসিক (মাটির গভীর গর্তে) বাস করে থাকে। তারা নিশাচর এবং এই কারণে লোকেরা দিনের বেলা তাদের দেখতে পায় না। কেঁচো নাম করা হয়েছে তাদের অদুষিত চাষের জমিতে পাওয়া যায় বলে। তারা মাটি থেকে সুড়ঙ্গ খননে জৈব আবর্জনা, মৃত প্রাণী, পোকামাকড়ের ডিম ইত্যাদি খায় এবং সুড়ঙ্গের মুখে মল ছেড়ে ‘কাস্টিং’ তৈরি করে। সুড়ঙ্গটি মাটির পৃষ্ঠ থেকে কয়েক সেন্টিমিটার থেকে তিন মিটার পর্যন্ত গভীর হতে পারে। এই জন্যে কেঁচোকে ‘প্রকৃতির-লাঙল' বলা হয় কারণ উপরের মাটির সাথে নিচের মাটি মিশ্রিত করে ‘মাটি-কন্ডিশনার' হিসেবে কাজ করে। বিশ্বের সব নাতিশীতোষ্ণ থেকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় মাটিতে ৭০০০ প্রজাতির কেঁচো দেখা যায়। বাংলাদেশে এটি একটি ন্যূনতম গবেষণা হওয়া গোষ্ঠী, এখন পর্যন্ত ৩ পরিবারের অধীনে ৪২ প্রজাতি সনাক্ত করা হয়েছে। তারা হার্মাফ্রোডাইট, অর্থাৎ, প্রতিটি প্রাণী পুরুষ এবং মহিলা উভয় প্রজনন অঙ্গ বহন করে। তবে পরনিষেকের মাধ্যমে মিলনের পর একটি কোকুনে ডিম ছেড়ে দেওয়া হয়। কোকুন থেকে সরাসরি শিশু কেঁচো জন্ম নিয়ে বেরিয়ে আসে। বাংলাদেশে জীববিজ্ঞান এবং প্রাণিবিদ্যার ল্যাব ক্লাসে এগুলি বহুল ব্যবহৃত হয়। জীবন্ত বা কিমা করা কেঁচো মাছের টোপ এবং কখনও কখনও পশুখাদ্যের প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে মানসম্পন্ন অর্গানিক সার বা ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের জন্য কয়েকটি প্রজাতির কেঁচো ব্যবহার করা হচ্ছে। [মো. নিয়ামুল নাসের]