কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা


কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা (কুমিল্লা জেলা)  আয়তন: ২৪১.৬৬ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°১৩´ থেকে ২৩°২৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°০৬´ থেকে ৯১°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা, দক্ষিণে লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলা, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং পশ্চিমে বরুড়া উপজেলা।

জনসংখ্যা ৩৫৪২৮৯; পুরুষ ১৭৯৭৪৪, মহিলা ১৭৪৫৪৫।

জলাশয় ডাকাতিয়া নদী ও ছোট ফেনী নদী উল্লেখযোগ্য।

প্রশাসন ২০০৫ সালের ৪ এপ্রিল সাবেক কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ৬টি ও লাকসাম উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলা গঠিত হয়।

উপজেলা
পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
১০ ৩৬৪ ৪৫৯ - ৩৫৪২৮৯ ১৪৬৬ - ৪৫.৯০
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (একর) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
গলিয়ারা ৫৮ ৫৫০১ ১৫৭৮১ ১৫৫৭৭ ৪৪.২৬
চৌয়ারা ৩৯ ৭৩০৭ ১৯৪২৫ ১৮৪২৩ ৫৫.০৪
পশ্চিম জোরকরণ ৮০ ৩৬২৪ ১০৫৭২ ৯৯৭৯ ৩৯.০০
পূর্ব জোরকরণ ৭৩ ৪০৩৮ ৯৬৫৪ ১০০৩৪ ৩৭.৭৭
পেরুল ৮০ ৬৩৪১ ১৭৩৮৮ ১৮২১২ ৪৫.৯৪
বাঘমারা ১২ ৬৯৭৫ ১৯০৩১ ১৯০১৪ ৪৫.৩৪
বড়পাড়া ২৪ ৮৫৭৫ ১৯৮৩৩ ১৯১১৮ ৪৭.১২
বিজয়পুর ৩১ ৫১১০ ৩০৮৭৮ ২৭৩৮৫ ৫৮.০৬
বেলঘর ২৮ ৬৬৮১ ১৯৮৮৮ ১৯৭৯৪ ৪৬.৪৬
ভুলাইন ৩১ ৬২৬৩ ১৭২৯৪ ১৭০০৯ ৪০.০৮

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ কনেশতলা বড় গম্বুজ মসজিদ, আলীশ্বর বৌদ্ধমন্দির।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মাদারীপুর গ্রামে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে উভয় পক্ষের বেশসংখ্যক সদস্য হতাহত হয়। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনারা উপজেলার কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ৫/৭ জন নিরীহ গ্রামবাসিকে হত্যা করে।

ComillaAdarshaSadarUpazila.jpg

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪৫.৯০%; পুরুষ ৪৮.৬৩%, মহিলা ৪৩.১৫%। কলেজ ৯, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫৩, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫৮, মাদ্রাসা ৫৬। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান: চৌয়ারা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ (১৯৭২)।

দর্শনীয় স্থান লালমাই পাহাড়, কেন্টিসিসিএ পার্ক।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৫১.১৯%, অকৃষি শ্রমিক ৩.০৬%, শিল্প ০.৮৮%, ব্যবসা ১৩.১৭%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৫.০৮%, চাকরি ১১.৪১%, নির্মাণ ১.৯২%, ধর্মীয় সেবা ০.৩২%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ১.৯৯% এবং অন্যান্য ১০.৯৮%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬১.১১%, ভূমিহীন ৩৮.৮৯%।

প্রধান  কৃষি ফসল  ধান, গম, আখ, শাকসবজি।

বিলুপ্ত অথবা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি  পাট, সূর্যমুখী, বাদাম, কাউন, তিসি, অড়হর।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, নারিকেল, কলা, কাঁঠাল।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৩২৪.১৬ কিমি, কাঁচারাস্তা ৫০১.৮৫ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, ঘোড়া ও গরুর গাড়ি।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশের কাজ, বেতের কাজ।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য   ময়দা, শাকসবজি।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ৬২.৪২% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯০.৭১%, পুকুর ১.১৪%, ট্যাপ ১.৬৮% এবং  অন্যান্য ৬.৪৭%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৫৪.৯৭% পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৩১.৪৩% পরিবার অস্বাস্থাকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ১৩.৬০% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, হাসপাতাল ২।

এনজিও ব্র্যাক, আশা, এইড, পল্লী প্রগতি প্রকল্প।  [ইয়াসিন আশরাফ]

তথ্যসূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১,বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।