কিশোরগঞ্জ উপজেলা (নিলফামারী)


কিশোরগঞ্জ উপজেলা (নীলফামারী জেলা)  আয়তন: ২০৪.৯০ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৫°৪৯´ থেকে ২৫°৫৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫৭´ থেকে ৮৯°০৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে জলঢাকা ও কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) উপজেলা, দক্ষিণে তারাগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে গঙ্গাচড়া উপজেলা এবং পশ্চিমে নীলফামারী সদর ও সৈয়দপুর উপজেলা।

জনসংখ্যা ২৫৩১৯২; পুরুষ ১৩০৭৮১, মহিলা ১২২৪১১। মুসলিম ২১৩২৮৫, হিন্দু ৩৯৪১১, বৌদ্ধ ৫৭, খ্রিস্টান ৭ এবং অন্যান্য ৪৩২।

জলাশয় প্রধান নদী: তিস্তা, যমুনেশ্বরী, বুল্লাই। চেলওয়াল বিল ও বাফলার বিল উল্লেখযোগ্য।

প্রশাসন কিশোরগঞ্জ থানা সৃষ্টি ১৯২১ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮২ সালে।

উপজেলা
পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব(প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
- ৫১ ৫৩ ৮৩২৬ ২৪৪৮৬৬ ১২৩৬ ৪২.১ ৩২.৪
উপজেলা শহর
আয়তন (বর্গ কিমি) মৌজা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
৪.৪৬ ৮৩২৬ ১৮৬৭ ৪২.১
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (একর) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
কিশোরগঞ্জ ৫১ ৫৬৫৯ ১৮২৪১ ১৬৯২৬ ৩৩.৬৪
বড়ভিটা ২৫ ৫৫৩৩ ১১৭৭৫ ১১১১৪ ৩৪.৯৩
বাহাগিলি ১৭ ৫৬৯৯ ১১৮৭৪ ১১৪১৬ ৩০.৬৫
পুঁটিমারী ৮৬ ৫৯১৩ ১৬২৩১ ১৪৮৬৭ ৩১.৮১
নিতাই ৬৯ ৫২৮৩ ১৩০২৫ ১২৩০৮ ২৯.১৯
চাঁদখানা ৩৪ ৫৭০০ ১৩৭০০ ১২৪৪২ ৩০.৪৭
রনচন্ডী ৯৪ ৫৬৯০ ১৩২৪৯ ১২৬৫২ ৩২.২৮
গরগ্রাম ৪৩ ৫৬৭৯ ১৪৩৯৭ ১৩৬১৫ ৩৮.৬২
মাগুরা ৬০ ৫৪৮৩ ১৮২৮৯ ১৭০৭১ ৩২.২২

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ চান খোসালের তিন গম্বুজ জামে মসজিদ (ভেড়ভেড়ী, অষ্টাদশ শতাব্দী), পুঁটিমারীর মন্দির (পুঁটিমারী), নবগয়াধাম (বাহাগিলি), ভীমের মায়ের চুলা (কিশোরগঞ্জ সদর)।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের মে মাসে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকসেনারা এ উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রবীন্দ্রনাথ কুন্ডুকে ধরে নিয়ে ৮ দিন আটক রাখার পর হত্যা করে। ১১ ডিসেম্বর মোস্তাফিজুর রহমানকে পাকসেনারা একইভাবে ধরে নিয়ে হত্যা করে। ১৪  ডিসেম্বর পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সৈন্যদের লড়াইয়ে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

KishoreganjUpazilaNilphamari.jpg

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ৩৮০, মন্দির ৯৯, মাযার ২।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩২.৭%; পুরুষ ৩৮.৩%, মহিলা ২৬.৮%। কলেজ ১০, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪২, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫৯, মাদ্রাসা ৩০। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কিশোরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ (১৯৭২), মাগুড়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৬), কিশোরগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৯), শরীফাবাদ দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্লাব ২২, লাইব্রেরি ২, সিনেমা হল ২, নাট্যমঞ্চ ১, নাট্যদল ১, খেলার মাঠ ২৭।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৭৬.৪৬%, অকৃষি শ্রমিক ৩.৬২%, শিল্প ০.৪০%, ব্যবসা ৯.৮৭%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ১.৭৬%, চাকরি ৩.৩০%, নির্মাণ ০.৩৭%, ধর্মীয় সেবা ০.২৯%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.০৩% এবং অন্যান্য ৩.৯০%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৬.৪১%, ভূমিহীন ৪৩.৫৯%। শহরে ৪৩.৯৪% এবং গ্রামে ৫৬.৮১% পরিবারের কৃষিভূমি রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, আলু, তামাক, আদা, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি তিল, তিসি, অড়হর, সরিষা।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেঁপে।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৯১.৬০ কিমি, কাঁচারাস্তা ৩৪৪.৭১ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, ঘোড়া ও গরুর গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা আইস ফ্যাক্টরি, ওয়েল্ডিং ইত্যাদি।

কুটিরশিল্প এ উপজেলায় মহিলা শ্রমে রেশমগুটি উৎপাদিত হয়। এছাড়া বাঁশশিল্প, কাঠের কাজ, লোহার কাজ, সেলাই কাজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

হাটবাজার, মেলা   হাটবাজার ২৩, মেলা ১। কিশোরগঞ্জ হাট, টেপার হাট, বড়ভিটা হাট, মাগুরার হাট ও গারগ্রাম হাট এবং টটুয়ার মেলা উল্লেখযোগ্য।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য   আলু, আদা, ধান, শাকসবজি।

বিদ্যুৎ ব্যবহার  এ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ৮.৪৯% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৮৫.৪৫%, পুকুর ০.৫৩%, ট্যাপ ০.২৮% এবং অন্যান্য ১৩.৭৪%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৫.৬৬% (গ্রামে ৪.৭৫% ও শহরে ৩৪.১২%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ২০.৮৬% (গ্রামে ২১.২৫% ও শহরে ৮.৭১%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৭৩.৪৮% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৮, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র ২।

উল্লেখযোগ্য এনজিও ব্র্যাক, আশা, আরডিআরএস, কেয়ার, উগফা, এসডিআই।  [মো. আজিজুল ইসলাম প্রামানিক]

তথ্যসূত্র   আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; কিশোরগঞ্জ উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।