কাঁসারু


কাঁসারু

কাঁসারু  ঠাটারি নামে পরিচিত এ পেশার লোকদের তাম্রকার বা পিতলের কারিগরও বলা হয়। তারা গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার্য নানা ধরনের পিতলের সামগ্রী তৈরি করেন। কাঁসারুরা মাঝে মাঝে তাম্রসামগ্রীও প্রস্ত্তত করেন। কাঁসারুদের তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে আছে বদনা, ঘটি, পানি রাখার অন্যান্য ছোট পাত্র, বাটি, কাপ, থালা, ডেগচি ইত্যাদি। কাঁসারুরা আবার আগরদানি, গোলাপজল দানি, দীপাধার, শামাদান, চিলমচি ইত্যাদি কিছু বিশেষ সামগ্রীও তৈরি করেন। জনশ্রুতি আছে, কাঁসারুদের উৎপত্তি হিন্দু সস্প্রদায়ের  স্বর্ণকার শ্রেণির মধ্য থেকে। তাদেরই অধঃপতিত পেশাজীবী হিসেবে এরা স্বর্ণকারদের কাজের অনুসরণে কাঁসাপিতলের কাজ করেন। কেউ কেউ কাঁসারুদের কামারদের উপ-সস্পদ্রায় বলে মনে করেন, যদিও কামাররা লোহার কাজ করে বলে অপেক্ষাকৃত উঁচু পদের অধিকারী। কাঁসারুরা তামার পাত থেকে হাতুড়ি পিটিয়ে নির্ধারিত নক্সা অনুসারে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করেন।

কাঁসারুদের মধ্যে বাল্যবিবাহ প্রচলিত আছে। বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ এবং বিবাহ বিচ্ছেদের বিধান নেই। বংশগতভাবে হিন্দু সস্প্রদায়ের মধ্যে তাদের সামাজিক অবস্থান অনেক শ্রেণি থেকেই উঁচুতে। অধিকাংশ কাঁসারু  শিব দেবতার অনুসারী। সনাতনী হস্তশিল্পে নিয়োজিত অন্যান্য সস্প্রদায়ের মতো তারাও পৌরাণিক দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার পূজা-উৎসব উদযাপন করেন। বর্তমানে কাঁসারু পেশায় হিন্দু সস্প্রদায়ের একাধিপত্য বজায় নেই। অনেক মুসলমান এখন এ পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন। বাংলাদেশে ঢাকা, যশোর এবং ফরিদপুর অঞ্চলের অধিবাসী কাঁসারুরা এ পেশায় বেশ আধিপত্য বিস্তার করেছেন। গ্রামাঞ্চলে হাটবাজারে এবং নৌবন্দরসমূহে তারা উৎপাদিত সামগ্রী ফেরি করেন। কিন্তু অ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক, স্টিলের যন্ত্রপাতির আধিক্য, পিতলের আমদানি মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঁসারুদের পুরুষানুক্রমিক ঐতিহ্যবাহী পেশা এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখা ক্রমে দুরূহ হয়ে উঠছে। [গোফরান ফারুকী]