কাঁকড়া


কাঁকড়া (Crab)  চিংড়ি ও লবস্টারের ন্যায় ডেকাপড (দশপদী) ক্রাস্টেশিয়ার অর্ন্তগত অমেরুদন্ডী প্রাণী যারা প্রধানত দুই প্রকারের (১) ভূয়া বা ঋষি কাঁকড়া (Anomura) ও (২) আসল কাঁকড়া (Brachyura)। আসল কাঁকড়া এর প্রায় সকল প্রজাতিরই ৪ জোড়া উন্নত চলন পা থাকায় ভূয়া কাঁকড়া থেকে পৃথক। ভূয়া বা ঋষি কাঁকড়ার সর্বদাই ৩ জোড়া উন্নত চলন পা দেখা যায় এবং কদাচিৎ দৃশ্যমান ক্ষুদ্র ৪র্থ জোড়া যা দেহের নীচের দিকে গুটানো থাকে; উদর দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে অপ্রতিসম, খন্ডায়নবিহীন ও ঝিল্লিতুল্য, বিশেষ করে বিভিন্ন প্রকার শামুকের খোলসের মধ্যে লুকিয়ে থাকার জন্য (উদাহরণ: Coenobita, Pagurus, ও Parapagurus)। কিন্তু প্রকৃত কাঁকড়ার (যেমন: Clappa, Matuta, Charybdis, Portunus, Scylla, Sartoriana ইত্যাদি) উদর হ্রাসকৃত, শক্ত এবং স্থায়ীভাবে সেপালে থোরাক্সের নিচে বাঁকানো অবস্থায় লাগানো থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়া যদিও আকার, আকৃতি, বর্ণ, আবাসস্থল ও গঠনের দিক দিয়ে ভিন্ন তবে জীবতাত্ত্বিক ও অঙ্গসংস্থানিক দিক দিয়ে এরা একই রকমের।

বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়া
Crab11.jpg
Crab3.jpg
Crab4.jpg
Crab6.jpg
Crab7.jpg
Crab8.jpg
Crab9.jpg
Crab10.jpg
Crab5.jpg

বাংলাদেশের লোনা, আধালোনা ও স্বাদুপানি থেকে এ পর্যন্ত ১৪ টি গোত্র এবং ২৫টি গনের অধীনে মোট ৪০ প্রজাতির কাঁকড়ার ৩টি ঋষি বা ভূয়া কাঁকড়া ও ৩৭টি আসল কাঁকড়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ গুলি হলো (১) ঋষি কাঁকড়া: Coenobita variabilis, Pagurus bernhardus and Parapagurus nudus; এবং (২) আসল কাঁকড়া: Calappa lophos, Calappa pustulosa, Philyra globosa, Matuta lunaris, Matuta planipes, Matuta victor, Daldorfia horrida, Charybdis feriatus, Charybdis hellerii, Charybdis natator, Charybdis variegata, Portunus pelagicus, Portunus sanguinolentus, Scylla olivacea, Scylla serrata, Thalamita crenata, Carpilius maculatus, Acanthopotamon martensi, Sartoriana spinigera, Labothelphusa wood-masoni, Austrotelphusa transversa, Ocypode ceratophthalma, Ocypode macrocera, Dotilla myctiroides, Uca annulipes, Uca dussumieri, Uca rosea, Uca triangularis, Uca urvillei, Uca vocans, Metopograpsus messor, Pyxidognathus fluviatilis, Sesarma bidens, Episesarma mederi, Episesarma versicolor, Varuna litterata এবং Grapsus albolineatus। এদের মধ্য বানিজ্যিকভাবে খাদ্য হিসেবে সর্বাপেক্ষা গুরত্বপূর্ণ প্রজাতি হলো লোনা ও আধালোনা পানির Scylla olivacea (মাড ক্রাব বা জাত কাঁকড়া) এবং Portunus pelagicus (নীল সাতারু কাঁকড়া) এবং স্বাদুপানির Sartoriana spinigera (কাটা কাঁকড়া বা লাল কাঁকড়া)। মাড ক্রাব বা জাত কাঁকড়া বঙ্গোপসাগরসহ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বাংলাদেশ ২০০৩-০৪ সালে সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড, চীন ও তাইওয়ানে জীবন্ত মাড ক্রাব রপ্তানি করে প্রায় ২৪ লক্ষ মার্কিন ডলার আয় করে। স্বাদু পানির কাঁটা বা লাল কাঁকড়া (Sartorina spinigera) কেবলমাত্র দেশিয় বাজারে বিক্রয় করা হয় এবং উপজাতীয়দের এটি একটি প্রিয় খাদ্য। আজকাল শহরের অভিজাত রেস্তোরায় নিয়মিত ক্রাবের বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার পরিবেশিত হচ্ছে।

কাঁকড়া আহরণ

আসল কাঁকড়ার দেহ একাধিক খন্ডে বিভক্ত। এদের শিরোবক্ষ (Cephalothorax) বেশ বিকশিত, তবে উদরীয় অঞ্চল খুবই সংকুচিত যার মস্তকভাগ ৬টি, বক্ষ ৮টি ও উদর ৬টি খন্ড দ্বারা গঠিত। প্রথম খন্ড ছাড়া প্রতিটি খন্ডে এক জোড়া একশাখা বা দ্বিশাখাবিশিষ্ট উপাঙ্গ থাকে। দেহে পাঁচ জোড়া পা থাকে যা দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, লাফ দেওয়া, বেয়ে ওঠা ও গর্ত খোড়ায় ব্যবহূত হয়। কাঁকড়া মূলত নিজেদের লুকিয়ে রাখার জন্যই নানান আকার-আকৃতির গর্ত খুড়ে থাকে তবে জাত বা শীলা কাঁকড়া (মাড ক্রাব) খোলস বদল (moulting) এবং প্রজনন কালেও এসব গর্ত ব্যবহার করে। কাঁকড়া প্রায় সরাবছরই প্রজনন করে তবে বাংলাদেশে জাত কাঁকড়ার প্রজননকাল প্রধানত মে থেকে আগস্ট ও ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত।

বাণিজ্যিকভাবে গুরত্বপূর্ণ কাঁকড়া Scylla olivacea (জাত বা শীলা কাঁকড়া) সাধারণত সমুদ্রের পানিতে ডিম ছাড়ে এবং জোয়ারের পানি লার্ভা গুলিকে সমুদ্র উপকূলে নিয়ে আসে। এরা ১৮-২৪ মাসের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক হয়; এবং দেহ নি:সৃত হরমোন জনন গ্রন্থির পরিপক্কতা ও প্রজনন প্রক্রিয়া করে। প্রাপ্তবয়স্ক একটি কাঁকড়ার ওজন সাধারণত ৩০০-৬০০ গ্রাম তবে এরা সর্বোচ্চ ১ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে (ক্যারাপেসের পরিমাপ ১৫ সেমি)। স্ত্রী কাঁকড়া নিষিক্ত ডিমগুলিকে প্রশস্ত উদরের মধ্যে বহন করে। সদ্যজাত লার্ভা, জুইয়া-১ প্রথমে ভাসমান জীবন কাটায় এবং কয়েকবার খোলস বদলের পর জুইয়া-৫ এ পরিণত হয় যা পরে মেগালোপা পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক তলজীবী কাঁকড়ায় রূপান্তরিত হয়। যারা উপকূলে এসে মোহনা, নদী, কাঁদাচর ও ম্যানগ্রোভ এলাকায় প্রাপ্তবয়স্ক কাঁকড়ায় পরিণত হয়। কাঁকড়া মোহনা ও জোয়ার-ভাটা এলাকার একটি প্রধান উভচর প্রাণী, বিশেষত সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বাস্ত্ততন্ত্র, কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ এলাকায়। এরা রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বুনো শুয়োর, শিয়াল, বানর, মোহনার কুমির, পাখি ও মাছের প্রধান খাদ্য উৎস, অন্যদিকে কাঁকড়া নিজে জৈব-আর্বজনাভূক, পলিভোজী পলিকিট (Polychaete), অন্যান্য প্রজাতির কাঁকড়া, শামুক জাতীয় প্রাণী ও মরা মাছ ভক্ষণ করে। এরা সুযোগ সন্ধানী সর্বভূক, স্বজাতিভোজি বা মাংসাশী তবে Varuna litterata নামের কাঁকড়া মূলত তৃণভোজী।

আড়ত বা ডিপোতে পাঠানো কাঁকড়া

বাংলাদেশে কাঁকড়া ব্যবসা এখন একটি গুরত্বপূর্ণ অর্থকরী কর্মকান্ড। মাড ক্রাব বা জাত কাঁকড়াই (Scylla Olivacea) রপ্তানি ও স্থানীয় চাহিদার বিবেচনায় প্রধান প্রজাতি। রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়ার প্রধান উৎসসমূহ হলো উপকূলীয় এলাকা ও নদী থেকে কাঁকড়া আহরন এবং চিংড়ী ঘের থেকে সংগৃহীত কাঁকড়া। কাঁকড়া সংগ্রহ, অস্থায়ী জলাধারে কাকড়া চাষ, কাঁকড়া ব্যবসা ও কাঁকড়া রপ্তানির কাজে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লক্ষ লোক নিয়োজিত। কাঁকড়া সংগ্রহকারীরা ডিঙ্গী নৌকা ও বড়শি (এক বা একাধিক টোপযুক্ত) ব্যবহার করে। এছাড়া তারা কাঁকড়া ধরার জন্য নানা ধরনের জাল ও ফাঁদও ব্যবহার করে। ভিজা চটের থলে ও বাঁশের ঝূড়িতে তাজা কাঁকড়া আড়ত বা ডিপোতে পাঠানো হয় (ঝুড়ির ছবি)। এরপর যথাযথ গ্রেডিং করে চূড়ান্ত প্যাকিংয়ের জন্য কাঁকড়া ঢাকায় পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান, চীন ও জাপানে রপ্তানি হয়। প্রতিটি কাঁকড়া বাধা অবস্থায় ঝুড়িতে করে সহজেই পরিবহন করা যায় এবং পানি ছাড়া এরা ২-৩ দিন তাজা থাকে।

কাঁকড়াচাষ (Crab culture) সাম্প্রতিক দশকগুলিতে বিশ্বব্যাপী বাজারে চাহিদাবৃদ্ধি ও প্রকৃতিজাত কাঁকড়ার সংখ্যা কমে যাওয়ায় কাঁকড়াচাষ, বিশেষত ম্যানগ্রোভ এলাকার জাত কাঁকড়া (Scylla Olivacea) চাষ অধিকতর গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলিতে বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়া চাষ প্রধানত মাড ক্রাব বা জাত কাঁকড়াতেই সীমাবদ্ধ, যদিও জাপান উন্মুক্ত জলাশয়ে মজুদের লক্ষ্যে হ্যাচারিতে নীল কাঁকড়ার (Portunus pelagicus) পোনা উৎপাদন করে আসছে। কেননা বড় পুকুরে এই কাঁকড়ার স্বজাতিভক্ষণ একটি বড় সমস্যা। রাজকাঁকড়া Paralithodes camtschatica এবং Portunus trituberculatus কাঁকড়ার লার্ভা পালন এবং পোনা উৎপাদনেও সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

কাঁকড়াচাষে পোনা-উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাত কাঁকড়ার পোনার উৎসগুলি হলো: (১) হ্যাচারি বা পোনা- উৎপাদন কেন্দ্র ও (২) প্রাকৃতিক জলাশয়। তাইওয়ান, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান ও ভারতে হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনের কথা শোনা গেলেও অধিকাংশ কর্মকান্ডই আসলে পরীক্ষামূলক। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক আবাসস্থল থেকেই কাঁকড়ার অধিকাংশ পোনা সংগৃহীত হয়। সাধারণত ক্যারাপেস ১০ সেমি চওড়া হলে মাড ক্র্যাব ১৮ মাসে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং চোখের বৃন্ত অপসারণের ১০ দিনের মধ্যে ডিম ছাড়ে। ডিম থেকে ২৩০-২৫০সে তাপমাত্রায় ১৭ দিন পর বাচ্চা পোনা বের হয়। একটি ২৫০ গ্রাম ওজনের স্ত্রী কাঁকড়া ১৫ লক্ষ প্রথম পর্যায়ের (Z-1) লার্ভা উৎপাদন করে যাদের মেগালোপা (megalopa) স্তরে পরিণত হওয়ার জন্য প্রতিবার খোলস বদলাতে ২-৩ দিন সময় লাগে। মেগালোপা ৭-৮ দিনের মধ্যে রূপান্তরিত হয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক কাঁকড়ায় পরিণত হয়। ডিম থেকে পোনা বের হবার হার প্রায় ১০০%, কিন্তু প্রথম পর্যায় থেকে মেগালোপা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত পৌঁছতে প্রচুর পোনা মারা যায়। লার্ভার খাদ্য হিসেবে রোটিফার (Brachionus chlorella), ব্রাইন শ্রিম্প (Artemia)ও কোপিপোড সরবরাহ করা হয়। লার্ভা পালনের জন্য অধিক লবণাক্ত (২৫-৫৩ পিপিটি) সামুদ্রিক পানিই উত্তম। মাড ক্র্যাব চাষীরা এখনও প্রাকৃতিক উন্মুক্ত জলাশয়ের কাঁকড়া পোনার উপর নির্ভরশীল। কাজেই, বাংলাদেশে কাঁকড়া চাষ প্রসারে পোনার সীমাবদ্ধতাই বড় সমস্যা। অধিকাংশ চাষী বিভিন্ন ধরনের জালের সাহায্যে জোয়ারভাটার নদী ও সমুদ্রের উপকূল থেকে কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহ করে। সারাবছর রেণু পাওয়া গেলেও গ্রীষ্মকালে (মে-আগস্ট) ও শীতকালে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) বেশি পাওয়া যায়।

চাষপদ্ধতি বঙ্গোপসাগরসহ ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মাড ক্র্যাব ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। এই কাঁকড়ার চাষপদ্ধতি: ১. বড় খামারে বাচ্চা কাঁকড়া বড় করা এবং ২. খোলস পাল্টানো ’’জাত কাঁকড়া ’’ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক কাঁকড়ার বিক্রয়যোগ্য আকার পর্যন্ত মোটাতাজাকরণ।

কাঁকড়া চাষ

কাঁকড়া বড় করার ক্ষেত্রে সচরাচর বড় পুকুরে পোনা মজুদ করা হয় এবং পরিপক্ব জননগ্রন্থিসহ বিক্রয়যোগ্য আকারের না হওয়া পর্যন্ত লালন পালন করা হয়। বাংলাদেশসহ এশীয় দেশগুলিতে যেখানে সনাতন চিংড়ি খামার অর্থাৎ ঘেরগুলিই কাঁকড়া বড় করার পুকুর, সেখানে কাঁকড়ার সঙ্গে চিংড়ি, মিল্কফিশ, সামুদ্রিক শৈবাল ইত্যাদির মিশ্রচাষ চলে। ছোট কাঁকড়া (১০-১০০ গ্রাম) বিক্রয়যোগ্য আকারের (সচরাচর ৩০০-৫০০ গ্রাম) না হওয়া পর্যন্ত ৬-৮ মাস এসব খামারে আটকে রাখা হয়।

‘ডিমওয়ালা কাঁকড়া’ (পরিপক্ক ডিম্বাশয়সহ স্ত্রী কাঁকড়া) ও শক্ত খোলসের ‘মাংসল কাঁকড়া’ (শক্ত দেহ ও বড়, অবিকৃত উপাঙ্গবাহী পুরুষ কাঁকড়া) উৎপাদনের জন্যই পুকুরে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণের একক চাষ করা হয়। এশিয়ার বাজারে ডিমওয়ালা স্ত্রী কাঁকড়া শক্ত খোলস বিশিষ্ট কাঁকড়ার মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান এবং প্রতি কিলোগ্রাম প্রায় ১৮ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়।

কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ বলতে সদ্য খোলস পাল্টানো ’’জাত কাঁকড়া’’, অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রী কাঁকড়া ও ভাঙ্গা পাওয়ালা কাঁকড়ার শক্ত খোলস বিশিষ্ট প্রাপ্ত বয়স্ক জননগ্রন্থিযুক্ত কাঁকড়ায় পরিণত করণ বুঝায়। পরিপক্ক করার জন্য এদেরকে সাধারণত মোলাস্ক, (শামুক), বর্জ্যমাছ ও অন্যান্য বিশেষ খাদ্য খাওয়ানো হয়। মাটির ছোট পুকুরেই প্রধানত এদের চাষ হয় এবং পলানো বন্ধের জন্য পুকুরের চারপাশে বাঁশের ও নাইলন জালের বেড়া দেওয়া হয়। মোটাতাজাকরণ চক্র সংক্ষিপ্ত, সাধারণত ১ থেকে ২ মাস। মজুদ ঘনত্ব প্রতি বর্গমিটারে ৩টি কাঁকড়া (৭-১২ সেমি প্রশস্ত ক্যারাপেসবিশিষ্ট)। প্রতিদিন এদের দেহের ওজনের প্রায় ৫% খাবার খাওয়াতে হয়। ছোট ঘেরা জায়গায় বা খাঁচায় মোটাতাজাকরণের ব্যবস্থাও চালু আছে। বাংলাদেশে বৃহত্তর খুলনার পাইকগাছা, মংলা, সাতক্ষীরা, কালীগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে পুকুরে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ বেশ জনপ্রিয়। এটি করা হয় ছোট পুকুরে (৬০-৬০০ বর্গমিটার) যেখানে পানির মান বজায় রাখার জন্য পানি পরিবর্তন, পরিষ্কার করা ও চুন মিশানো ইত্যাদি সুবিধা রয়েছে। সুপারিশকৃত উপযোগী তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা যথাক্রমে ১২০-২৫০ সে এবং ১৫-৩০ পিপিটি।

উপকূলীয় পরিবেশে উত্তম ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের জন্য ঐতিহ্যিগতভাবে এশিয়ায় মাড ক্র্যাব চাষ একটি ক্ষুদ্রায়তন কর্মোদ্যোগ। বাংলাদেশে ‘সাদা-দাগ’ ভাইরাস রোগের কারণে পরিত্যক্ত চিংড়ি পুকুরই প্রধানত কাঁকড়া মোটাতাজাকরণের জন্য ব্যবহূত হচ্ছে। চিংড়ি চাষে ব্যবহূত সনাতন চিংড়ি ঘের এবং সমন্বিত ধান ও চিংড়ি চাষের ঘেরে চিংড়ির প্রাধান্য সত্ত্বেও কাঁকড়া চাষও চলে।

বাংলাদেশে কাঁকড়া চাষের প্রধান বাধা পোনা সংকট। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে প্রকৃতিজাত কাঁকড়া কমে যাওয়ার কারণ ১. অধিক আহরণ; ২. প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ আবাসস্থল ধ্বংস এবং ৩. উপকূলীয় পরিবেশের অবনতি। সঙ্গত কারণে বর্তমানে হ্যাচারি ও নার্সারিগুলিতে বাণিজ্যিকভাবে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনের দিকেই অধিকাংশ গবেষণা চলছে। বাণিজ্যিকভাবে পোনা উৎপাদনে সাফল্য, লাগসই চাষ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উপযুক্ত অর্থ-বিনিয়োগ দ্বারা বাংলাদেশসহ সমগ্র এশিয়ায় মাড ক্র্যাব চাষের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে পারে।  [আবু তৈয়ব আবু আহমদ]

আরও দেখুন চিংড়ি, রাজ কাঁকড়া