কবুতর ও ঘুঘু


গোলাটুপি পায়রা (উপরে), ধলাটুপি পায়রা (নিচে)
তিলা ঘুঘু (উপরে), হলদেপা হরিয়াল (নিচে)

কবুতর ও ঘুঘু (Pigeon and Dove)  বাংলাদেশের অতি পরিচিত পাখি। এরা Columbiformes বর্গের Columbidae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। ওড়ে দ্রুত ও জোরে, অল্পদূর ও সরাসরি। অধিকাংশ প্রজাতির স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দৃশ্যত অভিন্ন। প্রায়শ  ফল, বীজ, দানা ও কচি কুঁড়ির খোঁজে বহুদূর উড়ে যায়। বাসা কয়েকটি কাঠিতে তৈরি অসম্পূর্ণ মাচানের মতো, থাকে গাছে বা পাহাড় চূড়ার কিনারে বা উপরে গর্তে। ডিম সাধারণত ২টি। মা ও বাবা দুজনই ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চাদের দেখাশোনা করে। গোড়ার দিকে এরা বাচ্চাদের নিজেদের ক্রপ-মিল্ক বা পায়রার দুধ (pigeon’s milk) খাওয়ায়। এরা গুমগুম শব্দে ডাকে বা সুরেলা শিস দেয়। প্রায় ৫,০০০ বছর আগে পায়রা পোষ মানানো হয়েছিল। বেতার টেলিগ্রাফি উদ্ভাবনের আগে, এমনকি দু বিশ্বযুদ্ধের সময়ও সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য পোষা পায়রার ঘরমুখী সহজ প্রবৃত্তি কাজে লাগানো হয়েছে।

Columbidae গোত্রে বিশ্বব্যাপ্ত প্রজাতি সংখ্যা ২৮৯, তন্মধ্যে ভারত উপমহাদেশে আছে ৩০টি। বাংলাদেশের ১৭ প্রজাতির মধ্যে ২টি পরিযায়ী। স্থায়ী প্রজাতির মধ্যে রয়েছে সবুজ ঘুঘু (Chalcophaps indica), জালালী কবুতর (Columba livia), পেইল-ক্যাপ্ড পায়রা (C. punicea), ধূমকল (Ducula aenea), পাহাড়ি ধূমকল (D. badia), বারড কুক্কু ডাভ (Macropygia unchall), তিলাঘুঘু (Streptopelia chinensis), ধবল/রাজ ঘুঘু (S. decaocto), লাফিং ঘুঘু (S. senegalensis), লাল ঘুঘু (S. tranquebarica), হরিয়াল (Treron apicauda), বড় হরিয়াল/বটকল (T. phoenicoptera), ছোট হরিয়াল (T. pompadora)।

হরিয়াল  পায়রার মতো পাখি, একই বর্গ ও গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে ৬ প্রজাতির হরিয়াল আছে, তন্মধ্যে একটি পরিযায়ী (সারণি)। স্থায়ী ৫ প্রজাতির হরিয়ালের মধ্যে Pin-tailed Green Pigeon অতিবিপন্ন। [মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোঃ খলিলুর রহমান]