কদমতলী থানা


কদমতলী থানা (ঢাকা মেট্রোপলিটন)  আয়তন: ১০.১৬ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°৩৯´ থেকে ২৩°৪২´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°২৬´ থেকে ৯০°২৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে যাত্রাবাড়ী থানা, দক্ষিণে নারায়নগঞ্জ সদর ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে ডেমরা থানা এবং পশ্চিমে শ্যামপুর ও যাত্রাবাড়ী থানা।

জনসংখ্যা ৩৩০৫৬৫; পুরুষ ১৮৩১৬৯, মহিলা ১৪৭৩৯৬। মুসলিম ৩২২৫৭৪, হিন্দু ৭৮৫৬, বৌদ্ধ ৬৯, খ্রিস্টান ৪০ এবং অন্যান্য ২৬।

জলাশয় বুড়িগঙ্গা নদী উল্লেখযোগ্য।

প্রশাসন শ্যামপুর ও ডেমরা থানার অংশবিশেষ নিয়ে ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানা গঠিত হয়। শ্যামপুর থানার শিল্পাঞ্চল কদমতলীর নামানুসারে এ থানার নামকরণ হয়েছে।

থানা
ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন মহল্লা জনসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
৪+২ (আংশিক) ১৫ ৯৭৩৩২ ২৩৩২৩৩ ৩২৫৩৬ ৬৩.৪৫ ৬৪.৪৯
থানা ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (বর্গ কিমি) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার (%)
পুরুষ মহিলা
ওয়ার্ড  নং ৮৮ ০.২৬ ১৭৭৮৫ ১৪৪৪৬ ৬৫.৩০
ওয়ার্ড  নং ৮৯ ০.৭৩ ২৭০৬৮ ২৩২৬৬ ৬৫.২১
ওয়ার্ড  নং ৯০ (আংশিক) ০.২০ ৮৪৩৯ ৬৩২৮ ৫৯.৮৫
দনিয়া ইউনিয়ন ৩.৩২ ৭৯৬৮৮ ৬৬০৯৭ ৭১.০২
মাতুয়াইল (আংশিক) ইউনিয়ন ১.৩৮ ৭৯১৬ ৬৩৪৫ ৬০.৩৪
শ্যামপুর ইউনিয়ন ৪.২৭ ৪২২৭৩ ৩০৯১৪ ৬১.৫৩

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ শনির আখড়া ও শনি মন্দির (১১৯১)।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ৫৫, মন্দির ২।  উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: বায়তুল নাজাত মসজিদ, মুজাহিদনগর মসজিদ, শনির আখড়া মন্দির, শ্রী শ্রী বঙ্কবিহারী রাধারানী জিউর মন্দির (১২০০ বঙ্গাব্দ)।

KadamtaliThana.jpg

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৬৩.৮৭%; পুরুষ ৬৭.২৮%, মহিলা ৫৯.৫৩%। কলেজ ৪, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৮, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, এ.কে. হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২০০৬), বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়, অগ্রদূত বিদ্যা নিকেতন, দনিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শেখদী আবদুল্লাহ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়, কাজলার পাড় উচ্চ বিদ্যালয়, জনতাবাগ উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী শরীয়তুল্লাহ আদর্শ জুনিয়র হাইস্কুল, পূর্ব কদমতলী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্লাব ৩, কমিউনিটি সেন্টার ৪, সিনেমা হল ১।

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঢাকা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, পাগলা পয়শোধনাগার, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সাবস্টেশন, তিতাস গ্যাস সঞ্চালন কেন্দ্র, শ্যামপুর লঞ্চ টার্মিনাল, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (প্রথম)।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস শিল্প ৪.১৬%, কৃষি ১.১৩%, অকৃষি শ্রমিক ১.৭৭%, ব্যবসা ২৮.৪৯%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ১৩.৭১%, নির্মাণ ৪.০%, চাকুরি ৩০.৯২%, ধর্মীয় সেবা ০.১৩%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৩.৭৮% এবং অন্যান্য ১১.৯১%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৫.৮৫%, ভূমিহীন ৪৪.১৫%।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, শাকসবজি।

প্রধান ফল-ফলাদিব আম, কাঁঠাল, নারিকেল, পেয়ারা, কলা, পেঁপে।

হাঁস-মুরগির খামার  এ থানায় হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে।

যোগাযোগ বিশেষত্ব মোট সড়ক ৪৩.৯১ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, ঘোড়ার গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা পোশাকশিল্প, বক্স-কার্টুন কারখানা, টেলিভিশন ফ্যাক্টরি, জুতা কারখানা, দিয়াশলাই শিল্প, রাবার ও প্লাস্টিক শিল্প, ফার্নিচার কারখানা, টায়ার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী প্রস্ত্তত কারখানা প্রভৃতি। কদমতলী শিল্প এলাকা উল্লেখযোগ্য।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, হস্তশিল্প।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ১৩। উল্লেখযোগ্য হাটবাজার: দনিয়া বাজার, বউ বাজার, শ্যামপুর বাজার, ঢাকা ম্যাচ বাজার, বায়তুস শরাফ মার্কেট, আলম মার্কেট, জনতা মার্কেট, মেরাজনগর সুপার মার্কেট।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য   তৈরি পোশাক, জুতা, গাড়ীর টায়ার ও প্লাস্টিক সামগ্রী।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ থানার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ৯৬.৭১% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৩৯.৫০%, ট্যাপ ৫৯.৫৯%, পুকুর ০.১৭% এবং অন্যান্য ০.৭৪%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ থানার ৯২.০২% পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৭.৫৮% পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ০.৪০% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল ২। মাতুয়াইল মাতৃসদন ইনস্টিটিউট, শ্যামপুর পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক উল্লেখযোগ্য।

এনজিও বিআরডিবি, ব্র্যাক, আশা।  [লিলীমা আহমেদ]

তথ্যসূত্র   আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; কদমতলী থানা মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন ২০১০।