কচু


কচু গাছ

কচু (Aroid)  এক ধরনের কন্দ ফসল। এটি Araceae গোত্রভুক্ত  একবীজপত্রী উদ্ভিদ। কচু সর্বাধিক চাষকৃত প্রাচীন উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম এবং আর্দ্র ও ছায়াযুক্ত স্থানে ভাল জন্মে। সম্ভবত এর উৎপত্তিস্থল পূর্ব গোলার্ধের উষ্ণমন্ডলে। সংরক্ষণ অঙ্গ হিসেবে কাজ করে এ ধরনের স্ফীত মূল খাওয়ার উপযোগী অংশ। অধিকাংশ কচুজাতীয় উদ্ভিদ ডাঙ্গায় জন্মে, কিছু আছে লতানো (creepers); এ দলে অনেক পরাশ্রয়ী উদ্ভিদও (epiphytes) রয়েছে। অনেকগুলি চাষ করা হয় ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়, কিছু সুদৃশ্য উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহূত হয়, আর কতিপয় উদ্ভিদের রয়েছে ভেষজ মূল্য। গড় ফলন প্রায় ৮ মে টন/হেক্টর। খাবারযোগ্য প্রধান কচু ফসলগুলি Cyrtosperma, Amorphophallus, Colocasia, Alocasia, এবং Xanthosoma এর সদস্য।

বাংলাদেশে কচুজাতীয় ফসলের মধ্যে মুখীকচু ও পানিকচু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের সর্বত্র বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। তবে কোনো কোনো এলাকায় দুধকচু ও মৌলভীকচুও বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। বিলাসী বলে পরিচিত মুখীকচুর একটি জাত হেক্টর প্রতি ৩০-৩৫ মে টন ফলন দিয়ে থাকে। মুখীকচুর কন্দ/মুখী আলুর মতো খাওয়া যায়। পানিকচুর একটি উন্নতজাত লতিরাজ প্রধানত চাষ করা হয় লতা বা লতির (stolon) জন্য, এর rhizome উন্নতমানসম্পন্ন নয় বলে উপজাত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। লতিরাজ প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ মে টন লতি বা লতা এবং ১৫-২০ মে টন কন্দ উৎপাদন করতে পারে। লতি ৯০-১০০ সেমি লম্বা, মাঝারি পুরু, সিদ্ধ অবস্থায় নরম এবং খুব কম ‘গলা ধরে’।

উন্নতমানের কচু স্টার্চসমৃদ্ধ এবং আলুর মতো সিদ্ধ, পোড়ানো, তেলে সেঁকা বা ভাজা যায়। আলুর মতো এর শাঁস থেকে সুপ, বিস্কুট, রুটি, পানীয় ও পুডিং-এ ব্যবহারের জন্য গুঁড়া তৈরি করা যায়। এ স্টার্চ শিশুখাদ্যে ব্যবহার করা যায়। আমিষ ও স্নেহপদার্থের পরিমাণ কম থাকলেও এটি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন ‘এ’ ও ‘বি’-এর একটি ভাল উৎস।  [জি.পি দাস ও নিশীথ কুমার পাল]

আরও দেখুন কন্দাল ফসল; শাকসবজি