ঔষধ শিল্প


ঔষধ শিল্প  উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন ঔষধ শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ১৯৮২ সালে ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রণয়নের পর থেকে এই শিল্পের উন্নয়ন গতিলাভ করেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ঔষধ রপ্তানি হচ্ছে। তাছাড়া এই শিল্প দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ সরবরাহ করছে। শীর্ষস্থানীয় ঔষধ কোম্পানিগুলি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ক্রমশই বৃদ্ধি করছে।

দেশি ও বিদেশি কোম্পানি মিলে বাংলাদেশে বর্তমানে ২৫২টি সরকার অনুমোদিত ঔষধ কোম্পানি রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ঔষধ ব্যবসার শতকরা ৭৫ ভাগেরও বেশি দেশিয় কোম্পানিগুলি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তবে ঔষধ প্রস্ত্ততিতে মুখ্য ভূমিকা রাখে এমন ২০টি কোম্পানির মধ্যে ৬টিই হচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানি। এই বহুজাতিক কোম্পানিগুলি মূলত উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন সকল জীবন রক্ষাকারি ঔষধসমূহ আমদানির পাশাপাশি গবেষণায় উদ্ভাবিত নতুন নতুন উপাদানও এদেশে বাজারজাত  করে আসছে। সাধারনত বহুজাতিক ও বড় বড় দেশিয় কোম্পানীগুলি উত্তম উৎপাদন ব্যাবস্থা ও সঠিক মাননিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের ঔষধ প্রস্ত্তত করে থাকে। ঔষধ-প্রসাশন সংক্রান্ত আইনের মূল ভিত্তি হচ্ছে ১৯৪০ সালের ড্রাগ এ্যাক্ট এবং এ আইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিধিবিধান। আগে ইউনানি, আর্য়ূবেদি, হোমিওপ্যাথি ও বায়োকেমিক ঔষধ এই নীতির বাইরে থাকলেও,  বর্তমানে এর অধীনে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গরিব ও আদিবাসি মানুষ প্রাচীন এই চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। হিসাব মতে বর্তমানে ২৬৮ ইউনানি, ২০১ আর্য়ূবেদি, ৯টি হারবাল ও ৭৯টি হোমিওপ্যাথি ও বায়োকেমিক ঔষধ প্রস্ত্ততকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে তারা আনুমানিক ২০০ কোটি টাকার মত ঔষধ বাংলাদেশে উৎপাদন করছে।

পাকিস্তান আমলে অধিকাংশ বহুজাতিক কোম্পানিগুলির কারখানা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। স্বাভাবিক কারণেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ঔষধশিল্পের ভিত্তি ছিল খুবই দুর্বল। স্বাধীনতার পর কয়েক বছর পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বরাদ্দ ছিল খুবই কম। ফলে জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ঔষধ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যায়। ১৯৮২ সালে ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় ঔষধ বাজারজাতকরণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় ঔষধের মূল্য তুলনামূলকভাবে কম এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার নাগালে রাখা সম্ভব হয়। ১৯৮১ সালে দেশে লাইসেন্সকৃত ঔষধ কারখানার সংখ্যা ছিল ১৬৬টি, তবে বাংলাদেশে ঔষধ উৎপাদনে তখন ৮টি বহুজাতিক কোম্পানির আধিপত্য বজায় ছিল এবং তারা এককভাবে শতকরা ৭৫ ভাগ ঔষধ সরবরাহ করত। সেসময় ২৫টি মাঝারি আকারের দেশিয় ঔষধ কোম্পানি শতকরা ১৫ ভাগ এবং ১৩৩টি কোম্পানি বাকি ১০ ভাগ ঔষধ তৈরি করত। এই সকল কোম্পানি বার্ষিক ৬০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানিকৃত কাঁচামাল থেকে স্থানীয়ভাবে ঔষধ তৈরি করত। দেশে ১৬৬টি স্থানীয় ঔষধ কোম্পানি থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছর ৩০ কোটি টাকা মূল্যের তৈরি ঔষধ বিদেশ থেকে আমদানি করা হত। ১৯৮২ সালের ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-এর ফলে অপ্রয়োজনীয় ঔষধ তৈরির কাঁচামাল এবং দেশে উৎপাদিত হয়না এমন জীবন রক্ষাকারী ঔষধ আমদানি করা হয়। এর ফলে স্থানীয়ভাবে তৈরি ঔষধের মূল্য ১৯৮১ সালের  হিসেবে ১১০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯৯ সালে ১,৬৯০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। বর্তমানে ঔষধের মোট চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ঔষধ দ্বারা মেটানো হচ্ছে। দেশিয় কোম্পানিগুলি ঔষধের বাজারে বর্তমানে তাদের শেয়ার শতকরা ২৫ ভাগ থেকে ৭৫ ভাগে উন্নীত করেছে।

দেশিয় ও বহুজাতিক কোম্পানি মিলে বর্তমানে ১০৮১টি জেনেরিকের অধীনে আনুমানিক ১৯,৮৩০টি বিভিন্ন ব্রান্ডের ঔষধ তৈরি করছে। বর্তমানে দেশে ২০০০টি লাইসেন্সধারী  পাইকারি ঔষধ বিক্রেতা ও আনুমানিক ৮০,০০০টি খুচরা বিক্রেতা রয়েছে, যারা ঔষধ প্রদান ও বণ্টনে নিয়োজিত। দেশে  উৎপাদিত ঔষধের মধ্যে সংক্রমণ প্রতিরোধক ওষুধের স্থান প্রথম এবং এর পরই রয়েছে অ্যান্টাসিড জাতীয় ও আলসার নিরাময়ক ঔষধের স্থান। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঔষধের মধ্যে রয়েছে প্রদাহ প্রশমনকারি ঔষধ, ভিটামিন, স্নায়ুবিক রোগ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট রোগের ঔষধ। সাম্প্রতিককালে দেশিয় ঔষধ কোম্পানিগুলি ওষুধের কার্যকারি মৌলিক উপাদানসমূহ উৎপাদনে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলি যৌথ প্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ঔষধের কাঁচামাল তৈরিতে এগিয়ে আসছে। এরকম ২১টি কোম্পানি যার মধ্যে আনুমানিক ৪১টির মত ওষুধের কার্যকরী মৌলিক উপাদান তৈরি ও বাজারজাত করছে। এসব উৎপাদনকৃত উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে প্যারাসিটামল, অ্যাম্পিসিলিন ট্রাই-হাইড্রেট, ক্লোক্সাসিলিন সোডিয়াম, ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ড্রাই্ড্ জেল, ডেক্সট্রোজ মোনোহাইড্রেট্, হার্ড জিলেটিন ক্যাপসুল সেল, ক্লোরোকুইন ফস্ফেট, প্রোপ্রানোলোল হাইড্রোক্লোরাইড, বেনজোইল মেট্রোনিডাজল, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন হাইড্রোক্লোরাইড্, সেফরাডিন্, পাইরেন্টাইল ও পামোয়েট ইত্যাদি। তবে সংশ্লেষণের মাধ্যমে ঔষধের মৌলিক উপাদান তৈরির ক্ষেত্রে পদ্ধতির একেবারে শেষ ধাপটিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দেশিয় উৎপাদনে যোগান দিতে আরো অনেক ঔষধের মৌলিক উপাদান প্রস্ত্ততকারি শিল্পের প্রয়োজন রয়েছে। ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে মুন্সিগঞ্জে ওষুধের কাঁচামাল তৈরির যে শিল্প পার্ক অনুমোদন হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত হলে ঔষধশিল্পে আরো গতিশীলতা আসবে।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মত যোগ্যতা ও সম্ভাবনা বাংলাদেশ ঔষধ শিল্পের রয়েছে। গুনগতমান নিশ্চিতকরণের কঠিন পদ্ধতিগুলি মেনে চলার কারণেই এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশের বেশীর ভাগ ঔষধ শিল্পই জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরোপিত উত্তম উৎপাদন ব্যাবস্থা মেনে চলে। যদি অনুন্নয়নশীল দেশ হিসাবে বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার অধীনে জেনেরিক, পেটেন্ট ও এ সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর দেওয়া ছাড় আগামী ২০১৬ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে বিশ্বের রপ্তানি বাজারে ভারত, চীন, ব্রাজিল, তুরষ্কের মত দেশগুলির সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারবে।

খাবার ও ঔষধ প্রস্ত্ততিতে মান নিশ্চিতকরণে বিশ্বের সর্বত্রই উত্তম উৎপাদন ব্যাবস্থার আধুনিক পদ্ধতি মেনে চলতে সবাই একমত। বাংলাদেশ এখন ক্যাপসুল, সিরাপ ও ট্যাবলেট ছাড়াও উন্নত প্রযুক্তির বিশেষ ঔষধ যেমন  হাইড্রোফ্লুরোঅ্যালকেন ইনহেলার, সাপোসিটোরিস্, এস্টেরয়েডস্, ক্যান্সারের ঔষধ, ইমিউনোসাপ্প্রেসেন্ট, নাকে প্রযোগকৃত স্প্রে, ছোট ও বড় আয়তনের শিরায় প্রয়োগকৃত ইনজেকশনও রপ্তানি করছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে বাংলাদেশের এই শিল্প স্থানীয় ওষুধের চাহিদা মেটাতে বদ্ধপরিকর। তাই তারা বাংলাদেশের লাখো মানুষের জন্য মান সম্পন্ন ঔষধ প্রস্ত্তত করছে। প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ এই খাত দেশের মোট চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ পূরণ করছে।

যৌথ পরিচালনায় প্রস্ত্ততকৃত ঔষধের পরিমাণ অনেক এবং সম্প্রতি ইউনিসেফ-এর অনুমোদনে অনেক কোম্পনি এভাবেই প্রস্ত্ততকৃত ঔষধ দেশে ও বিদেশে সরবরাহ করছে। বিশ্বের যেকোন দেশে ব্যবহার উপযোগী ঔষধ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় শর্ত হিসেবে আধুনিক উত্তম উৎপাদন ব্যাবস্থা পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার সুবিধা কোম্পানিগুলো তৈরি করেছে। উন্নত দেশগুলিতে বাংলাদেশে প্রস্ত্ততকৃত ঔষধ রপ্তানির জন্য বিশ্বখ্যাত অনেক প্রতিষ্ঠান ঔষধ প্রসাশন অধিদপ্তরের অনুমোদন লাভ করেছে। প্রতিযোগতামূলক মূল্য ও গুণগত মান বজায় রেখে বহিঃবিশ্বে রপ্তানির জন্য তাদেরকে এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরকম কিছু কোম্পানি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার নিয়ন্ত্রক। মাননিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে মেনে চলায় সকল দেশিয় কোম্পানিগুলি আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাসমূহের অনুমোদন লাভে সমর্থ হচ্ছে এবং ঔষধ রপ্তানি করার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

দেশিয় চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ মেটানোর পর বাংলাদেশের ঔষধ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৫, ৫০০ কোটি টাকার ঔষধ দেশে তৈরি হচ্ছে। ২০০৪ সালে ওষুধের রপ্তানি মূল্য ছিল ৮.২ মিলিয়ন ডলার যা ২০০৭ সালে ২৮.৩ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। সাম্প্রতিককালে রপ্তানির পরিমাণ মূল্য আরো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইউরোপ আমেরিকাসহ রপ্তানিযোগ্য দেশের সংখ্যা ৩৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ এ পৌঁছেছে। বর্তমানে আমেরিকা, ভারত, চীন, তাইওয়ান, হংকং, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশসমূহ, সিংঙ্গাপুর, মালায়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, থাইলান্ড, বার্মা, ভূটান, নেপাল, ইয়েমেন, ভিয়েতনাম, কাম্পুচিয়া, লাওস, মেক্সিকো, কলোম্বিয়া, ইকুয়াডোর, রাশিয়া, উজবেকিস্তান, তানজানিয়া, কেনিয়া, তিউনেশিয়া ও মালদ্বীপে  বাংলাদেশের ঔষধ রপ্তানি হচ্ছে।

ঔষধের গুণগত মাননিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক দায়িত্ব প্রস্ত্ততকারি প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তায়। তবে সরকার পরিচালিত ঔষধ পরীক্ষণ পরীক্ষাগার ও ঔষধ প্রসাশন অধিদপ্তর যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ঔষধ প্রসাশন অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকায় জনস্বাস্থ্য ইনিস্টিটিউট-এ একটি ও চট্টগ্রামে একটি করে মোট দুইটি সরকারি ঔষধ পরীক্ষণ পরীক্ষাগার রয়েছে। ঔষধ প্রসাশন বাংলাদেশে ঔষধ বিপণনের ক্ষেত্রে রেজিষ্ট্রেশন, ঔষধের কারখানা পরিদর্শন ও লাইসেন্স প্রদানের জন্য দায়িত্বশীল থাকে। বর্তমান ব্যাবস্থাপনায় স্বল্পসংখ্যক লোকবল নিয়ে এত বড় কর্মযোগ্য পরিচালনা করা ঔষধ প্রসাশন অধিদপ্তর-এর জন্য সত্যিই কঠিন। বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের সুষ্ঠু উন্নয়নে জাতীয় ঔষধনীতি ও ঔষধনিয়ন্ত্রণ নীতির সুফল পেতে এখনও অনেক দেরি।  সরকারি ঔষধ পরীক্ষণ পরীক্ষাগারের সীমিত ক্ষমতার কারণে স্থানীয়ভাবে প্রস্ত্ততকৃত সকল ঔষধের মান সমানভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়না। স্বত্বাধিকার আইনের কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকায় বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। গবেষণালব্ধ নতুন মৌলিক উপাদানের বাজারজাত করণের রেজিস্টেশন পদ্ধতি অনেক ধীরগতিতে হয়। তাছাড়া এখানকার স্বত্বাধিকার প্রতিরোধ আইন প্রতিবন্ধকতামূলক। তবে, বর্তমানে সরকার শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক বিভাগে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করে স্বত্বাধিকার ও এ সম্পর্কিত বিষয়ে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। নির্ধারিত মূল্য নিরূপণ পদ্ধতি বাংলাদেশের ঔষধের দাম কমের মধ্যে রাখলেও, তা দিয়ে কোম্পানিগুলি তাদের বিপনণ ও বণ্টনজনিত খরচ মেটাতে পারেনা। এই নির্ধারিত মূল্য নিরূপণ পদ্ধতির কারণে কিছু কিছু কোম্পানি আধুনিক উত্তম উৎপাদন ব্যাবস্থা ও সর্বোচ্চ মান নির্ণয়ের জন্য যে খরচ সেখানে বিনিয়োগ করতে উৎসাহ বোধ করে না। কোম্পানিগুলি বায়োইকুইভ্যালেন্সি পরীক্ষণ ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়েলের মাধ্যমে ঔষধের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য যে খরচ করছে, সেই খরচসহ ঔষধের মূল্য নির্ধারণের জন্য ঔষধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিবেচনা করা উচিত। এটা ঔষধ কোম্পানিগুলিকে তাদের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণের সকল পদ্ধতি সঠিকভাবে মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।

বাংলাদেশে জেনেরিক ওষুধের বিরাট বাজার রয়েছে এবং দেশিয় কোম্পানিগুলির মধ্যে স্কয়ার ও বেক্সিমকো বহিঃর্বিশ্বে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। এত উৎপাদন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দেশিয় কোম্পানিগুলিতে প্রকৃত গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যাবস্থা না থাকায় ঔষধের বাজারে একসময় স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। খুব কম সংখ্যক কোম্পানির ঔষধ সম্পর্কিত গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প কারখানার মধ্যে যৌথভাবে কোনো গবেষণাই এখানে হয় না। ভবিষ্যৎ উন্ন্য়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প কারখানার মধ্যে এধরনের গবেষণা খুবই প্রয়োজন। তবে ২০০৫ সালের ঔষধনীতি বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের উন্নয়নের জন্য একটা বড় পদক্ষেপ বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। [সীতেশ চন্দ্র বাছার]