ওয়েস্টার


ওয়েস্টার (Oyster)  এক ধরনের ঝিনুক। দু খোলকবিশিষ্ট এসব মোলাস্ক (mollusc) Pelecypoda বা Bivalvia শ্রেণির একাধিক গোত্রের সদস্য। পৃথিবীর সব উষ্ণ, অগভীর সমুদ্রের তলায় এদের বাস করতে দেখা যায়। এদের অনেকে pearl oyster, slipper shell, cup oyster, hammer oyster, window pane oyster এবং finger oyster নামে পরিচিত। Ostreidae গোত্রের সদস্যরাই প্রকৃত খাবার উপযোগী  ঝিনুক। এ গোত্রেই রয়েছে ব্যাপকভাবে সংগৃহীত দুটি প্রজাতি Ostrea edulis এবং Crassostrea virginica। এদের ওপরের কপাটিকা (valve) সমতল, নিচের কপাটিকা অবতল। কপাটিকা দুটি স্থিতিস্থাপক পেশি দ্বারা সংযুক্ত থাকে। ঝিনুকের খোলকের অব্যবহিত নিচের ম্যান্টোল (mantle) শ্বসনতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও প্রজননতন্ত্রের নিরাপত্তা যোগায়। ঝিনুকের দেহনিঃসৃত এক ধরনের আঠার সাহায্যে প্রাপ্তবয়স্ক ওয়েস্টার পরিত্যক্ত খোলক, শিলা, পাথর ইত্যাদির সঙ্গে আটকে থাকে। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন উপকূল এলাকা এবং মোহনায় প্রচুর পরিমাণে অয়েস্টার পাওয়া যায়।

ওয়েস্টার (দু খোলবিশিষ্ট)

কিছু ওয়েস্টারে প্রাকৃতিক মুক্তা পাওয়া যায় এবং কৃত্রিম মুক্তা উৎপাদনেও ওয়েস্টার ব্যবহূত হয়। উন্নত এবং উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশ যেমন জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, চীন, কোরিয়া, ফিলিপাইন এবং ভারতে বাণিজ্যিকভাবে প্রাকৃতিক ক্ষেত্র থেকে প্রচুর পরিমাণ ওয়েস্টার আহরণ করা হয়। এসব দেশের কোনো কোনোটিতে এদের চাষও করা হয়।

ওয়েস্টারে গ্লাইকোজেন, লিপিড, প্রোটিন, ভিটামিন বিশেষ করে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘ডি’ এবং কয়েক প্রকার অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পদার্থ থাকে। বাংলাদেশে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের কতক সম্প্রদায় খাদ্য, মাছ ধরার টোপ এবং খোলক থেকে চুন তৈরীর জন্য ওয়েস্টার ব্যবহার করে। বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর এমনকি পুকুরেও মিঠা পানির ওয়েস্টার পাওয়া যায় যদিও এসব থেকে সংগৃহীত মুক্তার পরিমাণ তেমন উল্লেখযোগ্য নহে। [এ.কে.এম আবদুল মতিন]