ওয়ালি খান মসজিদ, চট্টগ্রাম


ভূমি নকশা, ওয়ালি খান মসজিদ

ওয়ালি খান মসজিদ, চট্টগ্রাম মুগল চট্টগ্রামের শহরকেন্দ্র চকবাজারে অবস্থিত। চট্টগ্রামের মুগল ফৌজদার ওয়ালি খান বেগ ১৭১৩-১৭১৬ সালের মধ্যে ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি মসজিদটির সংরক্ষণের জন্য কদলপুর, নিজামপুর ও সন্দ্বীপে ১২০ ‘দ্রণ’ জমিও দান করেন। ওয়ালি খান চকবাজারের প্রতিষ্ঠাতা এবং এর নিকটেই কাচারিসহ নিজ বাসভবন নির্মাণ করেন। তিনি তার বাসস্থানের নিকট কমলদহ নামে পরিচিত একটি বড় পুকুর খনন করেন।

দু আইল বিশিষ্ট আয়তাকার মসজিদটির বাইরের কোণাগুলিতে সংযুক্ত চারটি অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ রয়েছে। এর পূর্বদিকে তিনটি প্রবেশপথ আছে। এগুলির মাঝেরটি একটি আয়তাকার ফ্রোন্টনের (কারুকার্যখচিত অংশ) মধ্যে স্থাপিত এবং এটি পার্শ্ব প্রবেশপথ দুটি অপেক্ষা বড়। চকবাজারমুখী ফ্রোন্টনটি তৎকালীন মুগল শহরের জাঁকজমক বৃদ্ধি করেছে।

ওয়ালি খান মসজিদ, চট্টগ্রাম

মসজিদের অভ্যন্তরভাগের দৈর্ঘ্য ১৭.৬৪ মিটার এবং প্রস্থ ১০.২১ মিটার। অন্যান্য ভারবহনকারী দেওয়াল সংলগ্ন স্তম্ভ ও খিলানগুলিসহ ইটের তৈরি শক্ত দুটি স্তম্ভ প্রার্থনা কক্ষটিকে তিনটি ‘বে’ তে বিভক্ত করেছে। এর প্রতিটি ‘বে’র ছাদ দুটি গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। এভাবে উক্ত ‘বে’গুলির উপর একই রকমের ছয়টি ফাঁকাগম্বুজ দেখা যায়। প্রতি সারিতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। প্রতিটি গম্বুজ অষ্টকোণাকৃতির পিপার উপর স্থাপিত। এগুলির শীর্ষভাগ বহুস্তর বিশিষ্ট চূড়া দ্বারা পরিশোভিত। কিবলা দেওয়ালে তিনটি মিহরাব আছে। মাঝের মিহরাবটি ব্যাপক সংস্কার ও নতুন অলংকরণের ফলে তার আদি অলংকরণ মুছে গেছে। কিন্তু কিবলা দেওয়ালের পেছন দিকে এর অভিক্ষেপটি এখনও লক্ষণীয়।

এ বিশাল মসজিদ পরবর্তীসময়ে ব্যাপক সংস্কারের ফলে তার অনেক অতীত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলেছে। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দেওয়াল বর্তমানে সংযোজিত বারান্দার পেছনে ঢাকা পড়ে গেছে এবং মসজিদের ঐতিহ্যপূর্ন অবয়ব বাইরে থেকে আর দেখা যায় না।  [শামসুল হোসেন]