এহ্তেশাম


এহ্তেশাম

এহ্তেশাম (১৯২৭-২০০২)  চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি একাধারে পরিচালক, প্রযোজক, প্রদর্শক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা। তাঁর পুরো নাম আবু নূর এহ্তেশামুর রহমান। এন আই রহমান নামেই তিনি সমধিক পরিচিত। তাঁর জন্ম ১৯২৭ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকায়। তাঁর পিতা মোহাম্মদ ইউসুফ ছিলেন ইসলামিয়া কলেজের অধ্যাপক। মাতা মোসাম্মদ কানিজ ফাতেমা।

১৯৫০ সালে চলচ্চিত্রের প্রদর্শক হিসেবে প্রথম এর সঙ্গে জড়িত হন। ১৯৫৬-৫৭ সালে গঠন করেন চলচ্চিত্র পরিবেশনা সংস্থা ‘লিও ফিল্মস’। তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি এদেশ তোমার আমার মুক্তি পায় ১৯৫৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর। এ ছবির সহকারী  পরিচালক ছিলেন জহির রায়হান ও কামাল আহমেদ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সূচনাকালে নির্মিত এ ছবিটি ছিল জনপ্রিয়। এ ছবি তাঁকে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার এনে দেয়। এ ছবিই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রথম রোমান্টিক জুটি প্রথার সূচনা করে। সেই জুটি ছিল সুমিতা-আনিস (খান আতা)। এ ছবির মাধ্যমেই শবনম, রহমান ও সুভাষদত্তকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিয়ে চলচ্চিত্র-শিল্পের সমৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করেন।

এ ছাড়াও এহ্তেশাম পরিচালক আজিজুর রহমান, ই আর খান, কামাল আহমেদ, শিবলী সাদিক, সঙ্গীত পরিচালক রবীন ঘোষ, নায়ক-নায়িকা নাদিম, শাবানা, চিত্রা সিনহা, শাবনাজ, নাঈম, শাবনূরসহ বেশসংখ্যক শিল্পী ও কলাকুশলীকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর দ্বিতীয় ছবি রাজধানীর বুকে (১৯৬০)। তিনি এ ছবি নির্মাণ করে চলচ্চিত্র-জগতের কিছু প্রচলিত প্রথা ভেঙে দেন। তাঁর প্রথম ছবিতে রহমান ছিলেন ভিলেন, কিন্তু দ্বিতীয় ছবিতে তিনি হন নায়ক। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এটা নতুন ধারার সূচনা করে। গায়ক থেকে নায়ক করার সূচনাও ঘটে তাঁর হাতে। চকোরী (১৯৬৭) ছবিতে গায়ক নাযির বেগকে তিনি নাদিম নাম দিয়ে প্রথম নায়কের ভূমিকায় আনেন। তাঁর পরিচালিত তৃতীয় ছবি চান্দা (১৯৬২) ছিল এদেশে নির্মিত প্রথম জনপ্রিয় উর্দু চলচ্চিত্র। চতুর্থ ছবি নতুন সুর (১৯৬২) বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। যখন বাংলাদেশে অবাধে ভারতীয় বাংলা-হিন্দি ও পাকিস্তানি উর্দু ছায়াছবি প্রদর্শিত হতো তখন তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে টিকে থাকার উপযোগী চলচ্চিত্র তিনি নির্মাণ শুরু করেন। এভাবে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নতুন ধারার সঞ্চার করেন। তাঁর প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সাগর (১৯৬৫)। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রঙিন ছবি। তাঁর নির্মিত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে চাঁদ আওর চাঁদনী (১৯৬৮), দাগ, পীচ ঢালা পথ (১৯৭০), শক্তি প্রভৃতি। চলচ্চিত্র সংগঠক হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র সমিতি’কে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পঞ্চাশের দশকে তিনি অবদান রাখেন। ২০০২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। [খন্দকার মাহমুদুল হাসান]