এলগিন দ্বিতীয়, লর্ড


এলগিন দ্বিতীয়, লর্ড (১৮৪৯-১৯১৭)  ১১ অক্টোবর ১৮৯৪ থেকে ৬ জানুয়ারি ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় ছিলেন। তিনি ছিলেন লর্ড প্রথম এলগিনের পুত্র। ১৮৪৯ সালের ১৬ মে তিনি কানাডার মন্ট্রিয়েলে জন্মগ্রহণ করেন। এলগিন অক্সফোর্ডের ইটন ও ব্যালিওল কলেজে শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর শাসনভার গ্রহণের পর শীঘ্রই ১৮৯৫ সালে চিত্রলে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং তা মোহম্যান্ড ও আফ্রিদি উপজাতি অধ্যুষিত নিকটবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সেখানে সংঘটিত হয়েছিল এবং এলাকাটি পাহাড়ি হওয়ায় বিপুল সংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করতে হয়েছিল। ১৮৫৭ সালের যুদ্ধের পর তাঁর সময় সংঘটিত উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের এ সামরিক অভিযানটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ১৮৯৮ সালের মধ্যে উপজাতিগুলি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। তাদের দুর্গসমূহ ধ্বংস করে দেওয়া হয় এবং সমস্ত এলাকায় শৃঙ্খলা বিধান করা হয়।

এলগিনের শাসনামলে বোম্বাইয়ে বিউবনিক প্লেগ (যে প্লেগ-রোগে গ্রন্থিস্ফীতি দেখা দেয়) মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক লোকের মুত্যু হয়। একই সময়ে ভারতবর্ষের প্রায় সর্বত্র দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়লে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এ প্লেগ ও দুর্ভিক্ষ ভারতবর্ষকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। প্রাপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায় যে, কেবল ব্রিটিশ ভারতেই সাড়ে সাত লক্ষ লোক মারা যায় এবং আরও প্রায় ৪০ লক্ষ লোকের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ সকল দুর্বিপাকের সময়ে ম্যানচেস্টারের পণ্যদ্রব্য ছাড়া ভারতে অন্য সকল আমদানি পণ্যের উপর ৫% শুল্ক ধার্য করা হয়। বস্ত্তত, এটা ছিল পরোক্ষভাবে ব্রিটিশ পণ্যদ্রব্যের স্বার্থ সংরক্ষণের একটি ব্যবস্থা, যার ফলে ভারতে সুতিবস্ত্র উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এলগিনের প্রশাসন সামরিক বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন করে। সমগ্র ভারতীয় সেনাবাহিনীকে তাঁর সময় একজন সেনাপতির অধীনে ন্যস্ত করে বাংলা, মাদ্রাজ, বোম্বাই ও পাঞ্জাবসহ উত্তর-পশ্চিম প্রদেশে একজন করে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়োগ করা হয়েছিল।

বস্ত্তত, অশান্তি ও দুঃখদুর্দশায় পরিপূর্ণ ছিল লর্ড এলগিনের শাসনামল। এ অবস্থায়ও ১৮৯৭ সালে সমগ্র উপমহাদেশে রানী ভিক্টোরিয়ার হীরক জয়ন্তী উদযাপিত হয়েছিল। তিনি ১৯১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি মারা যান।  [কে.এম মোহসীন]