এনায়েতপুরী, আহমদ আলী


NasirkhanBot (আলোচনা) কর্তৃক ০১:১০, ৫ মে ২০১৪ পর্যন্ত সংস্করণে (Added Ennglish article link)

(পরিবর্তন) ←পুর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ→ (পরিবর্তন)

এনায়েতপুরী, আহমদ আলী (১৮৯৮-১৯৫৯)  এম.এল.এ. এবং সমাজকর্মী, সাংবাদিক ও ইসলামী শাস্ত্রে পন্ডিত। ১৮৯৮ সালের ২১ জানুয়ারি যশোর জেলার সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মওলানা আবেদ আলী ও মাতার নাম সায়েদা খাতুন। তাঁর পূর্বপুরুষ ইরাক থেকে বাংলায় আসেন। আহমদ আলী কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন নি। তিনি তরুণ বয়সে ফুরফুরার পীর আবু বকরের (মৃ. ১৯৩৯ সাল) সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁরই নিকট আধ্যাত্মিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি আরবি ও ফারসি ভাষাসহ ইসলামী শাস্ত্রে গভীর পারদর্শিতা অর্জন করেন। ইংরেজি ভাষায়ও তাঁর প্রগাঢ় দখল ছিল। ইসলামী শাস্ত্রে তাঁর পান্ডিত্যের কারণে পীর আবু বকর তাঁকে ‘শামসুল-উলামা’ খেতাবে ভূষিত করেন। রাজনীতিতে তিনি মুসলিম লীগ-এর সাথে সংযুক্ত ছিলেন। ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে ঝিনাইদহ নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনি এম.এল.এ নির্বাচিত হন। তিনি আইনসভায় অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা বিল উত্থাপন করেন। ১৯২৪ সালে শরিয়ত পত্রিকা প্রকাশনার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়। পরবর্তীকালে পত্রিকাটি শরিয়ত-ই-ইসলাম নামে দীর্ঘ ৩২ বছর তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। আহমদ আলী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলসহ বেশ কিছু মাদ্রাসা স্থাপন করেন। তিনি ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে রৌপ্য পদকসহ ‘খান সাহেব’ এবং ১৯৩৮ সালে স্বর্ণপদকসহ ‘খান বাহাদুর’ খেতাব লাভ করেন। যশোর জেলা বোর্ডের তিনি একজন সদস্য ছিলেন। সুফিতত্ত্ব ও ফতওয়া বিষয়ে তিনি কয়েকটি পুস্তক রচনা করেন।

১৯৫৯ সালের ৪ জানুয়ারি এনায়েতপুরে আহমদ আলীর মৃত্যু হয়। এনায়েতপুরেই তাঁকে সমাহিতহ করা হয়। [মু. আফাজ উদ্দীন]