এইডস


NasirkhanBot (আলোচনা) কর্তৃক ০১:০৯, ৫ মে ২০১৪ পর্যন্ত সংস্করণে (Added Ennglish article link)

(পরিবর্তন) ←পুর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ→ (পরিবর্তন)

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome/AIDS) এইচআইভি (Human Immuno-deficiency Virus/HIV) নামক ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, লোপ বা ধ্বংস অবস্থা। ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লসএঞ্জেলস-এ সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত করা হয়। এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে ১৯৮৪ সালে প্রথম এইডস লক্ষ্য করা যায় এবং মায়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯৮৬ সালের মধ্যেই এর প্রাদুর্ভাব ঘটে।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। ১৯৯৮ সালের জুন পর্যন্ত ১০২ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগীর মধ্যে ১০ জনের এইডস ধরা পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ৪,০০০ লোকের মধ্যে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, বাংলাদেশ এইডস মহামারীর দ্বারপ্রান্তে উপনীত। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি) এবং জাতীয় এইডস নিবারণ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন মাদকদ্রব্য গ্রহণকারীর মধ্যে অন্তত দুই জন এইচআইভি ভাইরাসের বাহক যা এইডস রোগ ঘটায়। এছাড়াও প্রতি একশত যৌনকর্মীর মধ্যে অন্তত একজনের এইচআইভি আছে। এইচআইভি-র বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা কিভাবে গড়ে তোলা যায় এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা না থাকার কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এছাড়া অপ্রতুল স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং একাধিক মাদকাসক্ত ব্যক্তির একই সুচ ব্যবহারও এর বড় কারণ। আশঙ্কা করা যাচ্ছে, আফ্রিকান দেশগুলির মতো এদেশকেও এইডস-এর বিস্তৃতি দ্রুত গ্রাস করবে, যদি সময়োচিত ও সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে এই প্রবণতা রোধ করা না যায়। এইডস-এর প্রাথমিক অবস্থায় বেশিরভাগ (৬০%) রোগী লক্ষণ শূন্য থাকে। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, ওজন হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী উদরাময়, লসিকা গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষত সারাতে দীর্ঘসময়ক্ষেপন, সাধারণত সংক্রমণশীল নয় এমন অণুজীব এর সংক্রমণ,  অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্য্যতা ইত্যাদি এইডস রোগের লক্ষণ।

এইচআইভি ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়তে ৩ থেকে ৬ মাস সময় নেয়। কোনো কোন ক্ষেত্রে রোগী কোনো রোগ লক্ষণের প্রকাশ ছাড়াই ১৫ বছর পর্যন্ত বাহক পর্যায়ে থেকে যেতে পারে। বাহকদের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে ৮ বছর এবং ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে ১৫ বছর পর এইডস রোগ বিকশিত হয়। রোগ একবার বিকশিত হলে আর চিকিৎসা করে নিরাময় করা যায় না। উন্নত দেশগুলিতে এইডস নিয়ে লোকে তিন বছর এবং উন্নয়নশীল দেশে এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে দেখা যায়। সংক্রামিত রোগীর রক্ত, বীর্য ও যোনি  রসের সঙ্গে যদি অন্যলোকের রক্ত, শরীর রস বা মিউকাস আবরণের সংস্পর্শ ঘটে তাহলে এইচআইভি ভাইরাস বিস্তার লাভ করে। রোগ সঞ্চারের পদ্ধতির মধ্যে যৌনসহবাস ও দূষিত রক্ত গ্রহণ অন্যতম। সংক্রমিত মা থেকে শিশুর দেহে গর্ভাবস্থায় বা প্রসবকালে এমনকি জন্মের পর সন্তান পালনকালেও মাতৃ দুগ্ধের মাধ্যমে এইডস  ছড়াতে পারে। এইডস রোগীর আস্ত্রোপচারকালিন অসাবধানতার কারণে সূঁচ ফোটানর মাধ্যমে সার্জনও এইডস রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।  একসাথে চলাফেরা, উঠাবসায় ও করমর্দনের মাধ্যমে এইডস ছড়ায় না।

দ্রুতবিস্তার বিশেষ করে আফ্রিকায় এর ভয়াবহতার কারণে এইডস বিশবব্যাপী সর্বাধিক আলোচিত স্তাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ২০০৭ সালে পৃথিবীতে এইডস রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৩.২ মিলিয়ন, আর মারা যায় ২.১ মিলিয়ন যাদের মধ্যে ৩,৩০,০০০ জন ছিল নিরপরাধ শিশু। বাংলাদেশী জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এইডস বিস্তার রোধের সহায়ক। তথাপি পার্শববর্তী দেশে অধিকসংখ্যায় এইচআইভি পজিটিভ যৌনকর্মী, চাকুরি, ব্যাবসা-বাণিজ্য উপলক্ষ্যে ও পর্যটনেশিল্পের বিকাশের কারণে লোকজনের দেশের বাহিরে গমন ও প্রত্যাবর্তন, যৌনকর্মীদের স্তাস্থ্যপরীক্ষার বাধ্যবাধকতার অভাব, সুঁচ ব্যবহারকারী মাদকাসক্ত, অননুমোদিত ব্লাড ব্যাংক প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশ এইডস মহামারীর ঝুকিতে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা আর ইতিমধ্যে এইডস রোগীর সংখ্যাও (UNAIDS এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৭ সালে এইচআইভি পজিটিভ ১৩০০০ জন ) বৃদ্ধি পেয়েছে। এইডস এর টিকা ও এইডস সারানোর ঔষধ এখনও আবিস্কৃত হয়নি তবে দামী ঔষধ প্রয়োগে এইডস রোগীদের অবস্থার অবনতি বিলম্বিত করা যাচ্ছে। প্রতিরোধ ও বিস্তাররোধে সরকার  ও অন্যান্য সংস্থা 'এইডস কী-বাঁচতে হলে জানতে হবে ' শ্লোগানসহকারে গণপ্রচারমাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনা বৃদ্ধির ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে।  [মোঃ শহীদুল্লাহ ও এম.কে.আই কাইয়ুম চৌধুরী]