উপসম্পদা


উপসম্পদা বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এর মাধ্যমে একজন নবীন ভিক্ষু পূর্ণ ভিক্ষুতে উন্নীত হন। সাধারণত পনেরো বছর বয়সে প্রাথমিকভাবে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত নবীন ভিক্ষুদের বলা হয় শ্রমণ বা শ্রমণোদ্দেশক এবং এ অবস্থাকে বলা হয় শ্রামণ্য বা  প্রব্রজ্যা। এ অবস্থায় একজন ভিক্ষুর অধীনে ধর্মশাস্ত্র ও আনুষঙ্গিক নিয়মকানুন শিখে পূর্ণ দীক্ষালাভের মাধ্যমে পরিপূর্ণ ভিক্ষুতে রূপান্তরিত হওয়াকেই বলে উপসম্পদা। উপসম্পদা গ্রহণের ন্যূনতম বয়স বিশ বছর। কোনো অনুপযুক্ত শ্রমণকে (যথা: বিকলাঙ্গ, ঋণগ্রস্ত, অন্ধ, রাষ্ট্রীয় দন্ডপ্রাপ্ত, কুষ্ঠরোগী, মৃগী রোগী কিংবা অন্য কোনো কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত) উপসম্পদা দেওয়া বিধিসম্মত নয়। আট প্রকার উপসম্পদার মধ্যে বর্তমানে কেবল ‘ঞত্তিচতুত্থ কম্ম’ উপসম্পদাই প্রচলিত আছে, কারণ অন্যগুলি বুদ্ধের অবর্তমানে করা সম্ভব নয়।

উপসম্পদা অনুষ্ঠানে ন্যূনতম পাঁচজন ভিক্ষুর প্রয়োজন হয়। প্রথমে প্রার্থী উপসম্পদা গ্রহণের যোগ্য কি-না তা পরীক্ষা করা হয়। যোগ্য হলে তাকে উপসম্পদা দানের জন্য উপস্থিত ভিক্ষুদের নিকট তিনবার প্রার্থনা করতে হয়। পরে সকলের সম্মতি নিয়ে ভিক্ষুরা বিধি মোতাবেক প্রার্থীকে উপসম্পদা প্রদান করেন।

পুণ্যার্জনের প্রত্যাশায় বৌদ্ধ গৃহীরা শ্রদ্ধাসহকারে উপসম্পদা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অবশ্য প্রব্রজ্যা অনুষ্ঠানের মতো জাঁকজমকের সঙ্গে এ অনুষ্ঠান পালিত হয় না, কারণ প্রব্রজ্যায় সামাজিকতার প্রভাব বেশি, কিন্তু উপসম্পদায় বিনয়ের প্রভাব বেশি। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানের বিহারগুলিতে নির্দিষ্ট সময়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

[সুকোমল বড়ুয়া]