উড়িষ্যা


উড়িষ্যা মুগল আমলের শেষের দিকি সৃষ্ট সুবা বাংলার একটি অঙ্গ প্রদেশ, এবং বর্তমানে ভারতের একটি প্রদেশ। প্রাচীন ভারতে উড়িষ্যা ছিল মগধ রাজ্যের নন্দ রাজাদের অধিনস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ভারতের পূর্ব-উপকূলে, বাংলার উত্তরে এবং অন্ধ্র অঞ্চলের দক্ষিণাংশে উড়িষ্যার অবস্থান।

সংস্কৃত শব্দ ওড়া বিশ্বা বা ওড়া দেশা থেকে উড়িষ্যা নামের উৎপত্তি। পালি ও সংস্কৃত উভয় সাহিত্যে ওড়া’র জনগোষ্ঠীকে ‘ওড়াকা’ (Oddaka) এবং ‘ওড়াহ’ (Odra) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আধুনিক উড়িষ্যার কেন্দ্রীয় বলয়েই ওড়া অথবা উড়া আদিবাসীদের বাস। তবকাত-ই-নাসিরী, তবকাত-ই-আকবরী, রিয়াজ-উস-সালাতীন, তারিক-ই-ফিরুজশাহী প্রভৃতি মধ্যযুগীয় মুসলিম ইতিহাস গ্রন্থসমূহে ওড়া ভূখন্ডকে ‘জাজনগর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সামস-ই-সিরাজ আফিফ তাঁর গ্রন্থে প্রথম উড়িষ্যাকে ‘জাজনগর- উড়িষ্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

উড়িষ্যার ইতিহাসে কলিঙ্গ ও উৎকল আদি জনগোষ্ঠী সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রাচীন কলিঙ্গ রাজ্য সম্পর্কে বৈদিক ঘটনাপঞ্জিতে প্রাচীন তথ্যসূত্রসমূহ পাওয়া যায় । কলিঙ্গরা হিংস্র ও স্বাধীন জনগোষ্ঠী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিল। বর্তমানের উড়িষ্যা রাজ্য প্রাচীনকালে মহাভারতীয় যুগের কলিঙ্গ, কাঁটারা বা মহা-কাঁটারা এবং দক্ষিণ কোশালা-এ তিনটি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। তখন কলিঙ্গ-এর অবস্থান ছিল বর্তমান উড়িষ্যার পূর্বাংশে, দক্ষিণ কোশালা উত্তর-পশ্চিমাংশে এবং কাঁটারা বা মহাকাঁটারা বর্তমান উড়িষ্যার দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত ছিল। কটক-ভূবনেশ্বর এবং কলিঙ্গনগর (উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ) ছিল কলিঙ্গ রাজ্যের কেন্দ্রীয় ভূখন্ডে অবস্থিত।

অশোক কর্তৃক কলিঙ্গ বিজয় নবযুগের সূচনাকারী সুদূরপ্রসারী পরিণতি বয়ে এনেছিল। ২৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট অশোক কর্তৃক কলিঙ্গ বিজিত হলে ভারতের ইতিহাসে একটা বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। মৌর্য সাম্রাজ্যের ইতিহাসে কলিঙ্গ রাজের বিরুদ্ধে অশোকের ক্রম অগ্রসরমান বাহিনীর আক্রমণ ও কলিঙ্গ অধিবাসী কর্তৃক তার বিরোচিত প্রতিরোধের ফলাফল ছিল ধ্বংসাত্মক। অশোক কর্তৃক কলিঙ্গ বিজিত হলেও যুদ্ধের ফলে অমানবিক হত্যাযজ্ঞ ও রক্তপাত অশোককে ব্যাথিত করে এবং তিনি এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার প্রতিজ্ঞা করেন। তিনি তাঁর জীবনের আদর্শ হিসেবে অংংহসার পথ বেছে নেন এবং বৌদ্ধধর্মের একনিষ্ঠ অনুসারীতে পরিণত হন। পরবর্তীকালে ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত অশোক বিশ্ব শান্তির দূত হিসেবে পরিগণিত হন।

খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকের মধ্যে কলিঙ্গের শাসক কারভেলা উপমহাদেশের বৃহত্তর অংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং মগধ তাঁর সাম্রাজ্যভূক্ত একটি প্রদেশে পরিণত হয়। কারভেলা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের প্রথম পর্বে তাঁর রাজ্য শাসন করেন। উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরের নিকটে উদয়গিরিতে এখনো টিকে থাকা সর্বপ্রাচীন স্থাপনাটি কারভেলার সময়ের নির্মিত। কারভেলার পরবর্তী কয়েক শতক উড়িষ্যার ইতিহাস স্পষ্ট নয়। উল্লেখযোগ্য যে, এ অঞ্চলে ক্ষত্রিয়দের মতো কোনো যোদ্ধা জনগোষ্ঠীর বসবাস গড়ে ওঠেনি। এ অঞ্চলের জন্য রাজ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষিকদের মধ্যে থেকে সেনা সংগ্রহ করা হত এবং সেনাবাহিনীতে তাদের অবস্থান নির্ণয় করা হত প্রত্যেকের যুদ্ধ করার ক্ষমতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে। এ প্রেক্ষিতে উড়িষ্যার ইতিহাসের সঙ্গে অনেকাংশে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

চার শতকে উড়িষ্যা গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সাত শতকে তা হর্ষবর্ধনের সাম্রাজ্যভুক্ত অঞ্চলে পরিণত হয়। অতপর উড়িষ্যা নয় শতকে এ অঞ্চল ভঁজ রাজবংশীয় শাসনাধীনে আসে। আট থেকে দশ শতকের মধ্যে ভোম্ম-কারা রাজবংশ কর্তৃক উৎকল শাসনকালে ‘উড়িয়া’ ভাষা একটা সুনির্দিষ্ট রূপ পরিগ্রহ করে। এগারো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে থেকে বারো শতকের শেষ পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলীয় গঙ্গ রাজবংশ উড়িষ্যায় তাদের শাসন পরিচালনা করে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরটি গঙ্গ রাজবংশীয় রাজা অনন্তবর্মন নির্মাণ করেন। পূর্বাঞ্চলীয় গঙ্গ রাজাগণই উত্তর ভারতীয় মুসলিম আক্রমণকারীদের হাত থেকে উড়িষ্যার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৩৫৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান ফিরুজশাহ তুগলক উড়িষ্যা অধিকার করলেও তিনি উপঢৌকন হিসেবে অনেক হাতি গ্রহণ করে জাজনগর (উড়িষ্যা) ত্যাগ করে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।

১৫৬৮ খ্রিস্টাব্দে উড়িষ্যার শেষ হিন্দু রাজা মুকুন্দদেবকে বাংলার আফগান সুলতান সুলায়মান কররানী (১৫৬৪-৭২) হত্যা করে উড়িষ্যা জয় করেন। মুকুন্দদেব-এর মৃত্যু সঙ্গে সঙ্গে ভারতের শেষ হিন্দু রাজ্যের অবসান হয় এবং উড়িষ্যা তাঁর স্বাধীনতা হারায়। ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর কর্তৃক উড়িষ্যা মুগল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়ে বাংলা সুবাহর অন্তর্ভূক্ত একটি অঞ্চলে পরিণত হয়। ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জাহা্ঙ্গীরের সময়ে (১৬০৫-১৬২৭) উড়িষ্যা পৃথক একটি সুবাহর মর্যাদা পায়।

উড়িষ্যার প্রথম মুগল সুবাদার হাসিম খান (১৬০৭-১৬১১ খ্রি.) এবং শেষ সুবাদার আলিবর্দী খান। ১৭৪১ খ্রিস্টাব্দে নাগপুরের রাজা ভোঁসলে উড়িষ্যায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বাংলার নবাব আলিবর্দী খান মারাঠাদের নিকট উড়িষ্যা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এবং মারাঠাগণ ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ অধিকারের পূর্ব পর্যন্ত উড়িষ্যা শাসন করে। ইতিপূর্বে পর্তুগিজ, ইংরেজ, ওলন্দাজ এবং ফরাসিকোম্পানি উড়িষ্যার পিপলি, হরিহরপুর এবং বালাসোরে প্রত্যেকের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। আঠারো শতকের প্রথমার্ধেই উড়িষ্যা বাংলার নবাবের সরাসরি শাসনাধীন একটি প্রদেশে পরিণত হয়।

১৭৪১ খ্রিস্টাব্দে গিরিয়ার যুদ্ধের পর বাংলা ও বিহার-এর নিয়ন্ত্রণ নবাবের অধীনে এলেও উড়িষ্যা তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যায়। তবে ১৭৪১ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগে নবাব আলিবর্দী বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অধিকারী হন। ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দে নবাব উড়িষ্যার একাংশ মারাঠা নেতা রঘুজি ভোঁসলের নিকট ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এবং এ অঞ্চল ১৮০৩ সাল পর্যন্ত মারাঠাদের অধিনে শাসিত হয়। এর পরবর্তী সময়ে ভোঁসলে রাজা দেওগাঁও চুক্তির মাধ্যমে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির অধিনে উড়িষ্যা ছেড়ে দেন।

১৮২৩ সালে কটক, বালাশোর এবং পুরি, এ তিন ভাগে উড়িষ্যাকে বিভক্ত করা হয়। সে সঙ্গে বেশ কয়েকটি অধিনস্ত রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত উড়িষ্যা বাংলা প্রদেশের সঙ্গে সরাসরি গভর্নর জেনারেল এর শাসনাধীনে থাকে এবং বাংলা ও বিহারের সঙ্গে উড়িষ্যাকেও একজন লেফ্টেন্যান্ট গভর্ণর এর শাসনাধীনে প্রদান করা হয়। উড়িয়া ভাষার জনগোষ্ঠীর একটি পৃথক প্রদেশের দাবীর প্রেক্ষিতে ১৯১২ সালে উড়িষ্যার উপকূলীয় অঞ্চল বাংলা থেকে পৃথক করে বিহারের সঙ্গে একত্রিত করে পৃথক প্রদেশে রূপান্তর করা হয়। ১৯৩৬ সালে বিহার ও উড়িষ্যা পৃথক প্রদেশে পরিণত হয়। ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে উড়িষ্যার নতুন রাষ্ট্রসমূহ একত্রিত করা হয় এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের কাজ হাতে নেয়া হয়। পাশাপাশি, উড়িষ্যার সীমানা প্রায় দ্বিগুণ করে ১৯৫০ সালে তা ভারত ইউনিয়নের একটি প্রদেশে পরিণত হয়।

উড়িষ্যার সাংস্কৃতিক ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ। চীনা পর্যটক হিউয়েন-সাং ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে উড়িষ্যা ভ্রমণকালে সেখানে বৌদ্ধ বিহার ও ব্রাহ্ম মন্দির পাশাপাশি গড়ে উঠতে প্রত্যক্ষ করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে অনেক বৌদ্ধ স্থাপত্যিক নিদর্শন, ভাস্কর্য, সূতপ, বিহার প্রভৃতি আবিষ্কৃত হয়েছে। স্থাপত্যিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে উড়িষ্যার প্রাচীণ মন্দিরসমূহ অধিকাংশই গুপ্ত পরবর্তী যুগের শিল্পরীতির প্রভাব বহন করছে। মধ্যযুগীয় শৈলদ্ধব, ভৌমকারা ও গঙ্গদের পৃষ্ঠপোষকতায় উড়িষ্যার স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় ভাবধারার আবির্ভাব উড়িষ্যায় শিল্পকলার ক্ষেত্রে এরূপ শিল্পধারা বিকাশের প্রধান কারণ।

উড়িষ্যার প্রভাব বিস্তারকারী শিল্পধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটে মন্দির স্থাপত্যে। বেশ কয়েকটি ব্রাহ্ম মন্দির ছাড়াও অল্প সংখ্যক প্রাচীন বৌদ্ধ ও জৈন মন্দির এখনো উড়িষ্যায় বর্তমান। উক্ত মন্দিরসমূহ কলিঙ্গ যুগের শৈল্পিক বৈশিষ্ট অলম্বনকারী সাধারণ চিত্র বহন করছে। উড়িষ্যার সবচাইতে উঁচু মন্দির হিসেবে পরিচিত পুরীর জগন্নাথ মন্দিরটি ১২ শতকে গঙ্গ রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত। রাজা প্রথম নরসিমা (১২৩৮-১২৬৪ খ্রি.) কর্তৃক নির্মিত কোনারকের সুরম্য সূর্য মন্দিরটির মাধ্যমে উড়িষ্যার মন্দির স্থাপত্যের শিল্পরূপের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে।

উড়িষ্যা সভ্যতার প্রাথমিক পর্যায়ে বৌদ্ধ ও জৈন-উভয় ধর্মমত সে অঞ্চলের সংস্কৃতি ও দর্শনের উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বৌদ্ধ ও জৈন রচনাসমূহ পালি-প্রকৃত ভাষায় রচিত হওয়ায় ধারণা করা হয়েছিল যে, পালিই ছিল উড়িষ্যার জনগণের মৌলিক ভাষা। পরবর্তীতে, উড়িষ্যার বৌদ্ধ মত তান্ত্রিক প্রভাব দ্বারা প্রভাতি হয়। এ তান্ত্রিক প্রভাবই উড়িষ্যার যোগিনী প্রথার মধ্যে অবস্থান করছে। যুগিনী প্রথায় ‘শক্তি’র (নারী শক্তি) বিশ্বাসের মধ্যে ভক্তদের যাদুবিদ্যা বিশ্বাস কেন্দ্রীয়ভূত হয়। যদিও সাবির্কভাবে উড়িষ্যায় যোগিনী প্রথাই একমাত্র ছিল না এবং সেখানে টিকে থাকা চারটি যোগিনী মন্দিরের মধ্যে হিরাপুর ও রানীপুর ঝারাইলে দু’টি মন্দিরের অস্তিত্ব বর্তমানে পাওয়া যায়। হিরাপুরের মন্দিরটি উড়িষ্যার ভৌম এবং সোমবংশীয় শাসকদের (আট শতক-দশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত) পদমর্যাদার প্রতীকরূপে প্রতিষ্ঠিত। গঙ্গ ও সূর্য রাজাদের শাসনাধীনে গোত্রীয় দেবতাদের স্থান ব্রাহ্মাহ দেবতাদের প্রাধান্যের চাপে ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকে এবং একই সময়ে সামাজিক গতিশীলতার মধ্যে দূর্বলতা দেখা দেয় এবং তার ফলে প্রথমবারের মতো উড়িষ্যার সমাজে বর্ণপ্রথার মতো স্থায়ী ব্যবস্থা স্থান করে নেয়।

উড়িষ্যার বর্তমান রাজধানী ভূবনেশ্বর অসংখ্য মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। উড়িষ্যার পূর্ববর্তী রাজধানী ছিল ভূবনেশ্বর থেকে প্রায় বাইশ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত কটকে। বঙ্গোপসাগরের তীরে এবং ভূবনেশ্বর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে ঐতিহাসিক পুরি শহরটির অবস্থান। জগন্নাথ দেবতার বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত পুরি একটি পবিত্র শহর। ‘সম্বলপুরের নিকটে হীরাকুড় বাধ’ উড়িষ্যার দীর্ঘতম বাধ হিসেবে পরিচিত। উড়িষ্যায় রয়েছে একাধিক জনপ্রিয় পর্যটন শহর। পুরি, কোনারক ও ভূবনেশ্বর-এ শহর তিনটি পূর্ব-ভারতীয় ‘গোল্ডেন ট্রায়েঙ্গেল’ নামে পরিচিত। পুরির জগন্নাথ মন্দির, কোনারকের সূর্য মন্দির, ভূবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দির, খন্দগিরি, উদয়গিরি, ধউলিগিরি ছড়াও বরহামপুর শহরের নিকটে ঝাউগড়ে অবস্থিত অশোকের বিখ্যাত প্রস্তর লিপি এবং কটকের বড়বাটি দুর্গ প্রভৃতি উড়িষ্যার প্রধান প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।  [নাসরীন আক্তার]

গ্রন্থপঞ্জি  H. C. Rayachoudhury, Political History of Ancient India; Mayadhar Mansinha, History of Oriya Literature, Sahitya Akademi, New Delhi. Bulletins of the Indian Historical Review (Indian Council of Historical Research) and issues of Social Science Probing (Ed. R. S. Sharma).