উজ্জ্বলনীলমণি


উজ্জ্বলনীলমণি  সংস্কৃতে রচিত বৈষ্ণবশাস্ত্রীয় গ্রন্থবিশেষ।  রূপ গোস্বামী (আ. ১৪৭০-১৫৫৯) প্রণীত বঙ্গীয় বৈষ্ণব রসশাস্ত্রের দুটি প্রধান আকর গ্রন্থের একটি হলো উজ্জ্বলনীলমণি, অপরটি ভক্তিরসামৃতসিন্ধু। দ্বিতীয় গ্রন্থে ভক্তিরসের চরম রূপ মধুররস বা উজ্জ্বলরস (শৃঙ্গার) ব্যতীত অপরাপর প্রকারভেদ আলোচিত হয়েছে; আর পনেরোটি প্রকরণে বিভক্ত উজ্জ্বলনীলমণিতে আলোচিত হয়েছে মধুর রস। সেখানে একে বলা হয়েছে ভক্তিরসরাজ (ভক্তিরসের চূড়ান্ত রূপ)। বৈষ্ণব সম্প্রদায় মধুর রসকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তির চরম রূপ বলে মনে করেন।

মধুর রসের বিভাব হলেন  কৃষ্ণ ও তাঁর প্রিয়তমাগণ, যাঁদের মধ্যে  রাধা অগ্রগণ্যা। উজ্জ্বলনীলমণিতে রাধাকে বলা হয়েছে হ্লাদিনী মহাশক্তি। বৈষ্ণব রসশাস্ত্র মূলত ধর্মীয় দর্শন হলেও একাধারে তা সাহিত্যবিষয়কও বটে, যেহেতু এখানে ধর্মীয় স্থায়িভাব ভক্তি রসাস্বাদে পরিণতি লাভ করেছে এবং তাকে বলা হয়েছে ভক্তিরস। বৈষ্ণবপূর্ববর্তী সমালোচকরা ভক্তিভাবকে রসের মর্যাদা দেননি, কিন্তু বৈষ্ণব চিন্তানায়কগণ একে সংস্কৃত অলঙ্কারশাস্ত্রের নব্য সম্প্রদায়ের পারিভাষিক রসপর্যায়ে উন্নীত করেন। এভাবে রসবাদ অলঙ্কারশাস্ত্রে এক নতুন মাত্রা লাভ করে।  [প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়]