ইসহাক, মুহাম্মদ


ইসহাক, মুহম্মদ (১৯১০-২০০৫)  প্রখ্যাত ঐতিহাসিক। ১৯১০ সালের ২ জুন নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইতিহাসে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র হিসেবে তিনি রমেশচন্দ্র মজুমদার, কালিকারঞ্জন কানুনগো, নলিনীকান্ত ভট্টশালী, মোহিতলাল মজুমদার, চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসেন। তিনি একাধারে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সংস্কৃতি ও পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন। বিতর্কে তাঁর ছিল অসাধারণ পারদর্শিতা, অল ইন্ডিয়া ও বার্মা ইন্টার ইউনিভার্সিটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি সর্বোচ্চ পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের শিখা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং মুসলিম সাহিত্য সমাজের এক অধিবেশনে ‘আধুনিক বাংলা গীতি-কবিতার ধারা’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন। এই অধিবেশনে সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছিলেন ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

১৯৩৭ সালে মুহম্মদ ইসহাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে লেকচারার নিযুক্ত হন। পরে তিনি বঙ্গীয় শিক্ষা সার্ভিসে যোগদান করেন এবং ছয়টি সরকারি কলেজে ইতিহাসে পান্ডিত্যপূর্ণ অধ্যাপনা করেন। তিনি আহমদ হাসান দানীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তাঁর অনুরোধে সিলেট জেলার কতিপয় বিষয়ে গবেষণা করে পাকিস্তান হিস্টরিক্যাল সোসাইটির কয়েকটি বার্ষিক সম্মেলনে প্রবন্ধ পাঠ করেছিলেন। মুহম্মদ ইসহাক পাকিস্তান হিস্টরিক্যাল রেকর্ডস ও আরকাইভস কমিশনের সদস্য ছিলেন। চার বছর (১৯৬২-৬৬) বগুড়া আযিযুল হক কলেজের অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তিনি কয়েকটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করেন এবং কলেজের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। ফলে কলেজটি অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তরিত হয়। কর্মজীবনের চূড়ান্ত পর্যায়ে তিনি পাঁচ বছর (১৯৬৭-৭২) জেলা গেজেটিয়ার সম্পাদনা করেন।

পাঠ্যপুস্তক রচনায় অতুলনীয় দক্ষতা মুহম্মদ ইসহাকের জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। তিনি ৪০টি পাঠ্যপুস্তকের প্রণেতা এবং এগুলোর অধিকাংশই ইতিহাসের গ্রন্থ। স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্যে রচিত তাঁর কয়েকটি ইতিহাস গ্রন্থ এদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ পাঠ্যপুস্তক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁর একটি গ্রন্থ লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিশ্বের সেরা শিশুগ্রন্থ প্রদর্শনীতে প্রেরণ করে। ২০০৫ সালে মুহম্মদ ইসহাকের মৃত্যু হয়।  [ফিরোজ মাহমুদ]