আহসান, ভাইস এডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ


আহসান, ভাইস এডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ (১৯২০- ?)  পাকিস্তানের নৌবাহিনী প্রধান, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর। তিনি ১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাসে হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং নিজাম কলেজে পড়াশুনা করেন। তিনি ১৯৩৮ সালে রাজকীয় ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং যুক্তরাজ্যে দু বছর (১৯৩৮-১৯৪০) প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। আরাকানে এক নৌযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য তিনি ব্রিটিশ সরকারের ‘ডিসটিংগুইশ্ড সার্ভিস ক্রস’ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। পরে তিনি ইংল্যান্ডের লিভারপুলে একটি টেকনিক্যাল স্কুলে ইনস্ট্রাক্টর নিযুক্ত হন। তিনি ভারতের ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন (১৯৪৬-১৯৪৭) এবং স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর এডিসি ছিলেন। তিনি ১৯৬২ সালে রিয়ার এডমিরাল, ১৯৬৬ সালে নৌবাহিনীর প্রধান এবং ১৯৬৭ সালে ভাইস-এডমিরাল হন। ১৯৫৫-৫৬ সালে ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে তিনি নৌবাহিনীর অ্যাটাসে এবং ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিয়াটো (ব্যাঙ্ককে) সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীফ প্ল্যানিং অফিসার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৯ সালের ২৬ মার্চ সেনাবাহিনী প্রধান আগা মুহাম্মদ ইয়াহিয়া খান সামরিক আইন জারি করলে এস এম আহসান অন্যতম সামরিক আইন প্রশাসক এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন।

ভাইস এডমিরাল আহসান ১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী টালবাহানা শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রচন্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এডমিরাল আহসানকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ গভর্নর পদ থেকে অপসারণ করে প্রাদেশিক সামরিক প্রশাসক লে.জে. সাহেবজাদা ইয়াকুব খানকে গভর্নরের দায়িত্ব দেন।

ভাইস এডমিরাল আহসান ১৯৫৮ সালে সিতারা-ই-কায়েদে আযম, ১৯৬৯ সালে সিতারা-ই-পাকিস্তান এবং হিলাল-ই-কায়েদে আযম খেতাবে ভূষিত হন।  [আবু জাফর]