আহমেদ, আদেল উদ্দিন


আদেল উদ্দিন আহমেদ

আহমেদ, আদেল উদ্দিন (১৯১৩-১৯৮১)  আইনজীবী, রাজনীতিক। ১৯১৩ সালের ১ মার্চ মাদারিপুর জেলায় কালকিনি উপজেলার কালীনগর গ্রামে তাঁর জন্ম। ১৯৩৫ সালে তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪২ সালে কলকাতার রিপন ল’ কলেজ থেকে বি.এল ডিগ্রি লাভ করে পরের বছর ফরিদপুরে আইন ব্যবসা শুরু করেন। সে সময়ে পাকিস্তান আন্দোলন ক্রমশ বেগবান হচ্ছিল। আদেল উদ্দিন আহমেদ তখন ফরিদপুরে মুসলিম লীগের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হন। তিনি ১৯৪৩ সালে মুসলিম লীগের ফরিদপুর জেলা শাখার সহসম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি প্রাদেশিক মুসলিম লীগের কার্যনির্বাহী কমিটিরও সদস্য ছিলেন।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। তিনি ছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দলের ফরিদপুর জেলা শাখার সম্পাদক। আদেল উদ্দিন আহমেদ ১৯৫৩ সালে ফরিদপুর জেলা বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৪ সালে মাদারীপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে পূর্ববাংলা আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ঐ বছরই তিনি পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

আদেল উদ্দিন আহমেদ ১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনোনীত হন। ১৯৫৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তখনো উন্নয়ন প্রক্রিয়াধীন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনি বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

গণপরিষদের সদস্য হিসেবে ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পাকিস্তানের প্রথম সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ পরিভ্রমণ করেন।

গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বিল বিতর্কে তাঁর আনীত সংশোধনী প্রস্তাব তাঁকে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। প্রস্তাবে তিনি বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সম মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার আহবান জানান। প্রস্তাবটি ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

১৯৫৭ সালে আদেল উদ্দিন আহমেদ ফরিদপুর কোর্টে পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত হন। ১৯৫৮ সালের অক্টোবরে তিনি প্রধানমন্ত্রী ফিরোজ খান নুনের মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ ও রিপাবলিকান পার্টির জোট সরকারের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি মাদারীপুর-কালকিনি নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

আদেল উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘকাল ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য নিযুক্ত হন এবং ১৯৭৫ সালে উক্ত পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর আইন পেশায় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং কতিপয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও দাতব্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

আদেল উদ্দিন আহমেদ ১৯৮১ সালের ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন।  [আহমেদ কামাল]