আহমদ, খানবাহাদুর তসলিমুদ্দীন


আহমদ, খানবাহাদুর তসলিমুদ্দীন (১৮৫২-১৯২৭)  ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক। ১৮৫২ সালের ৩০ এপ্রিল দার্জিলিঙে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল  দিনাজপুর জেলার পঞ্চগড়ের চন্দনবাড়ি গ্রামে। পিতা মুন্সি মোহাম্মদ তরিকুল্লাহ ছিলেন রাজস্ব অফিসার। বারোজন ভাইবোন এবং তাঁদের সন্তানদের নাম বাংলা ‘ত’ (ইংরেজি T) বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়ায় তাঁদের পরিবার ‘টি-পরিবার’ নামে খ্যাত ছিল।

তসলিমুদ্দীন চন্দনবাড়ি মডেল স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর রংপুর জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৭৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ (১৮৭৭) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএল (১৮৮২) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীকালে তিনি নিজ চেষ্টায় আরবি ও ফারসি ভাষা আয়ত্ত করেন। তিন খন্ডে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যাসহ বঙ্গানুবাদ এসব ভাষায় তাঁর গভীর পান্ডিত্যের পরিচয় বহন করে।  কুরআন অনুবাদ (১৯২২-২৫) তাঁর জীবনের সর্বাপেক্ষা বড় কাজ।

তসলিমুদ্দীন ওকালতি পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে পূর্ণিয়া, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি হয়ে ১৮৮৯ সালে রংপুরে স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি রঙ্গপুর মহামেডান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৫), রঙ্গপুর নূরল ঈমান জামায়াত (১৮৯১),  রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদ (১৯০৫) প্রভৃতি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ইসলাম নামে একটি মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। কুরআন অনুবাদ ব্যতীত তিনি প্রিয় পয়গম্বরের প্রিয় কথা (১৯২২), জন্মোৎসব (১৯২৫), সাহাবিয়া (১৯২৬), সম্রাট পয়গম্বর (১৯২৮) রচনা করেন। সাহাবিয়া গ্রন্থে ২৮জন মুসলিম সাহাবিয়ার জীবনী বর্ণিত হয়েছে। আর সম্রাট পয়গম্বর হচ্ছে  হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর জীবনী।  ইসলাম ধর্মবিষয়ক এসব গ্রন্থ দ্বারা তসলিমুদ্দীন বাংলার মুসলমানদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করার চেষ্টা করেন। এগুলি ছাড়া তসলিমুদ্দীনের কিছু অপ্রকাশিত পান্ডুলিপিও রয়েছে। ১৯১২ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খানবাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯২৭ সালের ২৪ মার্চ রংপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।  [বদিউজ্জামান]