আলমগীরনামা


আলমগীরনামা  মির্জা মুহম্মদ কাজেম রচিত সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বের (১৬৫৮-১৭০৭) দরবারি ইতিহাস। সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকে দরবারি-ঐতিহাসিক কর্তৃক ইতিহাস রচনার ধারা মুগল বাদশাহগণ অব্যাহত রাখেন। সে ধারা অনুসরণে আওরঙ্গজেবও মির্জা মুহম্মদ কাজেমকে তাঁর রাজত্বকালের ঘটনাবলি নথিবদ্ধ ও সংকলন করার নির্দেশ দেন। মির্জা কাজেম তাঁর রাজত্বের দশম বছর পর্যন্ত সময়ে (১৬৬৮) সংঘটিত ঘটনাবলি বর্ণনা করেন। এ বছর হতে সম্রাটের আদেশে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। স্বল্প সময়ের ইতিহাস হলেও গ্রন্থটি ছিল বিপুলায়তনের। এর মুদ্রিত পৃষ্ঠাসংখ্যা ১১০৭। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল কর্তৃক ১৮৬৮ সালে প্রকাশিত।

আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর রচিত মাসির-ই- আলমগীরী  গ্রন্থের প্রণেতা সাকী মুসতাদ খান আওরঙ্গজেবের এ ইতিহাস-বিমুখতা সম্পর্কে বলেন যে, সম্রাট বাহ্যিক ও দৃশ্যমান জীবনের চেয়ে আধ্যাত্মিক বিষয়াবলি বেশি পছন্দ করতেন এবং এ কারণেই তিনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইহজাগতিক ক্ষমতা, সুখ-ঐশ্বর্য, কৃতিত্ব ও যশগাঁথা সম্বলিত ইতিহাস রচনা বন্ধ করে দেন। আধুনিক পন্ডিতদের মতে, আওরঙ্গজেব তাঁর রাজত্বের দশম বছর থেকে রাষ্ট্রীয় খরচ কমানোর প্রচেষ্টা চালান এবং ব্যয়বহুল বর্ষবিবরণী প্রকাশনার সরকারি বিভাগ বন্ধ করে দেন।

আলমগীরনামায় মুগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস বর্ণিত আছে। গ্রন্থটি একই সঙ্গে বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্যও বেশ সহায়ক। আওরঙ্গজেবের রাজত্বের প্রথম দশ বছরে বাংলায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়। এ সময় বাংলার সুবাহদার যুবরাজ শাহ সুজার পতন ঘটে। কামরূপ ও আসাম অভিযানে মীরজুমলা ব্যর্থ হন এবং শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম জয় করেন। এ সকল ঘটনা আলমগীরনামায়  সবিস্তারে বর্ণিত আছে। বর্ণনা মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ এবং সমসাময়িক অন্যান্য উৎসে এর সমর্থন মিলে। আলমগীরনামায় প্রদত্ত কালক্রম বিশ্বাসযোগ্য এবং এটি নিঃসন্দেহে মুগল আমলের মানসম্মত ইতিহাস সাহিত্যের অন্যতম।  [আবদুল করিম]