আরসাহ


আরসাহ  একটি প্রশাসনিক ইউনিট। সুলতানি আমলের প্রাথমিক যুগে বাংলার মুসলিম রাজ্যকে কয়েকটি আরসায় বিভক্ত করা হয়েছিল। তেরো থেকে পনেরো শতকের প্রথমদিকের মুদ্রা. এবং শিলালিপিতে আরসাহ সাতগাঁও, আরসাহ শ্রীহট, আরসাহ আওয়ালিস্তান ওরফে কামরূপ, আরসাহ সাজলা মনখাবাদ, আরসাহ হাদিগড়, আরসাহ চাটগাঁও এবং আরসাহ শহর-ই-নও, এ সাতটি আরসাহর নাম পাওয়া যায়। এই সাতটি আরসার মধ্যে আরসাহ সাতগাঁও, আরসাহ সাজলা মনখাবাদ এবং আরসাহ হাদিগড় ছিল আরসাহ সাতগাঁওয়ের অন্তর্ভূক্ত। আরসা শ্রীহট ও আরসাহ চাটগাঁও পূর্ববঙ্গের সঙ্গে ছিল এবং আরসাহ আওয়ালিস্তান ছিল কামরূপ রাজ্যসীমার নিকটবর্তী অঞ্চলে। গবেষকদের ধারণা, আরসা শহর-ই-নও এবং পান্ডুয়া বা ফিরুজাবাদ একই অঞ্চলের বিভিন্ন নাম। আরসাহ এর দায়িত্বশীল কর্মচারী ছিলেন ওয়াজির, শর-ই-লস্কর, জমাদার-ই-গহির মুহল্লী ইত্যাদি।

ইকলিম নামেও তখন আর একটি প্রশাসনিক ইউনিট ছিল। দিল্লির সমকালীন ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দীন বরনী বাংলাকে ইকলিম এবং আরসাহ উভয় নামেই অভিহিত  করেন।

আরসাহ এবং ইকলিম উভয়ই প্রশাসনিক ইউনিট হলেও এ দুয়ের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায় না। ধারণা করা যায় যে, আরসাহ ছিল ইকলিম অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর ইউনিট। আরসাহকে আধুনিক একটি জেলা এবং ইকলিমকে আধুনিক প্রশাসনিক বিভাগের সঙ্গে তুলনা করা যায়।  [আবদুল করিম]